Saturday, 25 January 2014

সবাই সরে যাচ্ছে , আমি কাঙালের মত চেয়ে আছি ......



আমার জীবনে সত্য মৃত্যুর মতন করে আসে , আমাকে ডেকে নিয়ে যায় এমন এক সুদূরে যেখানে বিকেলের রঙ আবছা হলেও রাত্রি জেগে থাকে তারার জন্য । কতবার এমন হয়েছে যে আমি নিজের অজান্তেই হারিয়ে গেছি কোনও এক অচেনা জন্মলগ্নে , যেখান থেকে আর ফিরতে ইচ্ছে হয়নি । নিভৃত আলোকশিখার মতো দালানে ঠেস দিয়ে ভোরের পরে ভোর কাটিয়ে দিয়েছি , খেয়াল থাকে নি । জলের পার ধরে হেঁটে গেছি বালির অনেকটা পথ , পাখিদের শব্দে হুঁশ ফিরেছে , মন খারাপ হয়ে গেছে । ভালবাসি বলে নারীর কাছে গেছি স্নেহের টানে , কথা বলেছি নিশব্দে , কিন্তু মায়াময় আঁচল উড়িয়ে সে আমায় নিয়ে গেছে ঘোর বাস্তবের সামনে , আমি তো গেছিলাম কবিতার সন্ধানে , ফিরে এসেছি , এসেছিলাম খালি হাতে । বন্ধুদের দলে ভিড়েছিলাম গান গাইব বলে , সময় পাইনি উচ্চারনের । কিন্তু এসব মন খারাপ কে বুঝবে , কাকেই বা বলা যায় সে সব ? কথায় বলে কবির অসুখ , আমি কেন তবে কবি না হয়েও সে অসুখে রোজ মরছি অনেকটা অনেকটা করে । কলকাতার রাস্তাঘাটে , আনাচে কানাচে খুঁজে পেয়েছি অনেক গল্পের নায়ক-নায়িকাদের , কই সে উন্মাদনা তো প্রকাশ করতে পারি নি । গ্রামের বাড়িতে ইন্দির ঠাকরুনকে দেখেছি , গ্রামের আকাশ দেখে বুঝেছি কত তারা শহর মুছে দিয়েছে আকাশের বুক থেকে । আমার স্পষ্ট মনে আছে ভ্যান রিক্সায় করে যখন আমার ছেলেবেলার গ্রামের রাস্তা ধরে যেতাম দূর থেকে টিপের মতো দুটো হ্যারিকেনের আলো জমি পেরনো অন্ধকার ভেদ করে চলে আসত আমার একেবারে গভীরে । একান্নবর্তী বাড়িতে আমি যেতাম বছরে একবার , কি যে হুল্লোড় সেসময় হত , এখনও আমার ছেলেবেলা তাকে ভুলতে দেয়নি । দিদি তখন খুব ছোট কিন্তু আমাকে নিজের হাতে খাওয়াবে বলে সে ওর কি কান্না , সেই দিদির সাথে আজ ১১ বছর দেখা নেই । আমার একটা পেনের বাক্স ছিল , সেটাতে আমি অনেক নতুন পেন জমাতাম আর পরের নতুন পেন পেলে আগেরটাকে লুকিয়ে দিতাম আমার গোপন সিন্দুকে , আর সেটা ছিল আমাদের বাড়ির পুরনো রেডিয়র বাক্স । বোন বহু খুঁজেছিল কিন্তু সেটা পায়নি কোনদিন , কয়েকবছর আগে কলেজে যেদিন ও প্রথম যাবে আমি দিলাম ওকে সেই বাক্সটা । ওর নাচ আর আমায় আদর করার সেই ভঙ্গি আমি বলতে পারিনি । আমি সেসব কিছুই বলতে পারিনি , না আমার বাবাকে না মাকে না কাওকে । 

আসলে আমি পারিনি এমন অনেক কথা বলতে যেগুলো খুব তাড়াতাড়ি বলে ফেলা উচিত ছিল । আজ মনে হয় সেগুলো স্রোতের ধাক্কায় মলিন হয়ে গেছে , জীর্ণ হয়ে অভিমান করে আর কথা বলছে না আমার সাথে । আবার মনে হয় সব কথা বলে ফেলা উচিত নয় , তার আগে মরে যাওয়া ভাল । সাঁঝবাতি নিয়ে যে মেয়ে এতকাল আমার জন্য অপেক্ষা করত কি দিয়েছি আমি তাকে , কতকগুলো কবিতা আর সংলাপ ছাড়া । যে নাগরিক কবিয়াল পোখরানে চাষবাসের স্বপ্ন দেখত , যে কবিয়াল আসামীদের গান শোনবার শাস্তি দিতে চেয়েছে , যে কবিয়াল কণ্ঠে কণ্ঠে কবিতার স্বপ্ন দেখেছে , কাতর হয়েছে নগন্য স্নেহের মৃদু স্পর্শের জন্য কি দিয়েছি আমি তাকে , কতকগুলো বিচ্ছিন্ন না পালন করতে পারা প্রতিশ্রুতি ছাড়া । গানের প্রেমিকারা জানলার ধারে অপেক্ষা করে আলোকবর্ষ দূরে থাকা প্রেমিকের জন্য , আমি তো সেই প্রেমিক হতে চেয়েছিলাম কিন্তু গানের প্রেমিকা ছিল না বলে আমার যাওয়া হয়নি । নিস্তেজ মনস্তাপ আর কয়েকটা দীর্ঘশ্বাস আমার সব মিথ্যেগুলোকে মৃত্যুর কাছে নিয়ে যায় আর তখনই দেখি আমার যত সত্য ছিল সব মৃত্যুর মতো হয়ে গেছে । শব্দ থাকে না , উচ্চারন থাকে না , একটা অনুভূতি থেকে যায় । কি নাম দেব সেসবের ? 

বেশ নাম দিলাম মেঘ , জলরঙে আঁকা মেঘ ।

Wednesday, 22 January 2014

আমি শুধু এই জন্যই তাঁকে LEGEND বলে গ্রহন করব (যদি ধরে নিই তিনি কোনও ভাল সিনেমা করেননি) ...



সুচিত্রা সেন চলে গেলেন কিন্তু তাতে কি খুব কিছু পার্থক্য ঘটল আমাদের চলমান সময়ে তিনি যেদিন থেকে অন্তরালে গেছিলেন সেদিন থেকেই তো তিনি নিজেকে মৃত করে দিয়েছিলেন পৃথিবীর কাছে মাঝে মধ্যে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার দরুন সংবাদমাধ্যম মুখর হয়ে উঠত , ব্যস আর কি খবর বিক্রির বাজার এবার আরও কিছু বাড়বে কদিন তারপর সব কীর্তিমানদের মতই বাঙালীর মাথা থেকে তিনি ভ্যানিস তবে হ্যাঁ মাঝে মাঝে মহানায়িকার পাঁচদিন সাতদিন অবশ্যই হবে টিভি পর্দায় আমি মনে করি না তাঁর চলে যাওয়াতে বর্তমান বাংলা চলচ্চিত্ররকোনও সুবিশাল ক্ষতি হয়েছে কেননা তিনি তাঁর কাজ যা করার তা করে দিয়েছিলেন অনেক আগেই আর বর্তমানে কোথাও তিনি সিনেমা নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ বা সমালোচনা কিছুই করেননি , অভিনয় তো নয়ই তাই সিনেমা নিজের মতই এগুচ্ছিল এবং এগুবেও আমি শুধু এই জন্যই তাঁকে LEGEND বলে গ্রহন করব (যদি ধরে নিই তিনি কোনও ভাল সিনেমা করেননি) যে চলতি বাজারে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার হ্যাংলামো থেকে নিজেকে সযত্নে সরিয়ে নিয়েছেন (ঠাকুমা , জ্যাঠিমা ইত্যাদি চরিত্র করেননি আপোষ করে) এবং ব্যক্তিত্বর সঠিক মর্যাদা রক্ষা করেছেন , তিনি একমাত্র যিনি কখনই নিজেকে মহানায়িকার দর্পে প্রতিষ্ঠা করে ছড়ি চালাননি কারও ওপর (অন্তত অন্তরালে যাবার পর), এতবছরে এইরকম সুকঠীন সংযম ব্যক্তিত্বময়ী অবস্থান আমৃত্যু বজায় রাখার জন্য আপামর দর্শক যাঁকে শুধুই যৌবনের নায়িকা হিসেবে মনে রাখবে , যিনি নিজের বয়স বাড়তে দেননি তিনি বেঁচে থাকবেন শুধু তাঁর কাজের জীবনযাপনের অনন্য নজিরের দরুন আজকের নায়িকাদের ব্যক্তিত্বহীন অহমিকাপূর্ণ মনোভাব এবং ক্ষুদ্র কারণেই পণ্যের বাজারে আত্মসমর্পনের যুগে তিনি বাস্তবিকই ব্যতিক্রম শ্রদ্ধেয়

শেষ কোথায় ?