Wednesday, 1 February 2017

মালটা গ্যাছে মেসো

Read not to contradict and confute, nor to believe and take for granted, nor to find talk and discourses, but to weigh and consider.
                                           -Francis Bacon: Essays, “Of Studies”.

‘এককমাত্রা’র গ্রুপে একদিন লিখেছিলাম, গণতন্ত্রের স্বাদ উপভোগ করতে যতটা আনন্দ ঠিক ততটাই বিতৃষ্ণা অন্যের কাছে উপভোগ্য করে তোলাতেআর এই হল মনুষ্যজীবনের মূল সংঘাত, প্রধান অন্তর্দ্বন্দ্ব । আজকের সমাজের ভিত্তিও আদিম গণতান্ত্রিকতা থেকে উত্তরাধুনিক গণতান্ত্রিকতায় চেহারার পরিবর্তন যথেষ্ট হয়েছে কিন্তু তা কোনভাবেই মৌলিক উপজীব্যতাকে অতিক্রম করতে পারেনি । পারা সম্ভব কিনা সেই নিয়ে আমি নিশ্চিত নই । তবে লিমিট অফ টলারেন্স বা সহিষ্ণুতার সীমা কিছুটা ওয়াকিং অন টাইটরোপ এর মত সমাজের শান্তি বজায় রেখেছে ।

গণতন্ত্রের আরও একটা প্রকট রূপ আছে । সেটা হল ‘গুরুভাগের ইচ্ছাই সিদ্ধান্ত’ নীতি । আমাদের দেশে কিছু মানুষ বলেন, শিক্ষিত রাজনেতার আমলেই জনগণের সুখ সম্ভব । আমরা কেমব্রিজ-অক্সফোর্ড ফেরত মনমোহন সিংহের আমলের সাক্ষী । আবার অন্যপক্ষের দাবি, অকাডেমিক এজুকেশন নয় সারাজীবন ধরে নির্দিষ্ট আদর্শের পালন করে জনগণের মধ্যে বেঁচে থেকেছে যে সেই রাজনেতা হবার যোগ্য । আমরা নরেন্দ্র মোদীর শাসনকাল দেখছি । আরও কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন, আদর্শটা ঠিক কি প্রকার সেটাও তো বিচার করার বিষয় । অন্যদল মনে করে, কড়া শাসক প্রয়োজন যার আমলে বিরোধী বলে কেউ থাকবে না যে উন্নয়নের পথে প্রতিনিয়ত বাধা দেবে । এই সবের মধ্যে গুরুভাগের ইচ্ছে ঠিক কোনটা সেটা আমরা কেউ বুক ঠুকে বলতে পারি না । তবুও তো সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । সুতরাং বলা যেতে পারে যে বা যারা, তার বা তাদের ইচ্ছেকে গুরুভাগের ইচ্ছেই পরিণত করতে সক্ষম গণতন্ত্রও তার বা তাদের হয়ে কাজ করে । তখনই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে যে বা যারা পারে না, তার বা তাদের কি দশা হয় ?

তাহলে “সমাজের পরিবর্তন” শব্দদ্বয়ের কিবা তাৎপর্য ! “জীবনের উন্নয়নের” কিবা অর্থ ! তাৎপর্য আছে অর্থ আছে । মানুষের স্বনির্বাচন ক্ষমতার পরিসর বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার সক্রিয়তার গভীরে । আর এই প্রক্রিয়া রাজতন্ত্র,গণতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র কিম্বা সমাজতন্ত্র কোনপ্রকার অভিধার মধ্যে নিজেকে আটকে রাখে না । এটা একটা ধীর গতির স্বতঃস্ফুর্ত ব্যাপার । এর পথে যখনই কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াবে তখন সে নিজেই “–তন্ত্রবাদে”র পরিবর্তন করে দেবে । কেউ কেউ একে বিপ্লব বলবে, কেউ কেউ অসহিষ্ণুতা আর কেউ কেউ বলবে পন্ডশ্রম । অথচ অদ্ভুতভাবে এটাই ঘটে ।

আমার অস্তিত্ব আছে মানেই আমার সিদ্ধান্ত আছে – তা সে গুরুভাগের সাথে মিলুক আর নাই মিলুক, লঘুভাগের সাথে মিলুক বা নাই মিলুক, অন্য যে কোনও অস্ত্বিত্বের সাথে মিলুক বা নাই মিলুক । সত্যও তো ভীষণ আপেক্ষিক ব্যাপার । সুতরাং সে বিচারে যাচ্ছি না । কিন্তু আমার সিদ্ধান্তকে স্বীকার করা বা না করে এড়িয়ে যাবার মধ্যে যতটা গণতন্ত্র আছে, তার চেয়েও ভয়ানয় বেশিরকমভাবে গণতান্ত্রিক মনপ্রবৃত্তি রয়েছে বলপ্রয়োগ না করেই বিবেচনারহিত মতামত মেনে নিতে বাধ্য করানোর মধ্যে । এখানে সংঘাতটা বোধের পাল্লা থেকে বেরিয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অহংবাদের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করে । কেউ কেউ সেখানে বশ্যতা স্বীকার করে কেউ কেউ একাকীত্বেই সমন্বয় খুঁজে নেয় । এটাই ডেফিনিশন ।

সেজন্যে যা লিখতে চাইলাম, যা বলতে চাইলাম সেটা যেন গণতান্ত্রিকতার বেড়া ডিঙিয়ে প্রত্যাঘাত বা প্রতিরোধ নামিয়ে না আনে, আবার যেন নিশ্চুপে থেকে ইন্ধনও না জোগায়, সেকারনে ঘটনা নয়, ঘটনার মধ্যে থেকে যে অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করলাম, যে স্পন্দনস্পৃহা অনুভব করালাম সেটাই লিখে রাখা শ্রেয় বলে সিদ্ধান্ত নিলাম ।


তবু যেন পূর্ণচ্ছেদ টানতে মন সায় দিচ্ছে না । শিক্ষার দোহাইয়ে সেটাও না হয় করা যাক । খামোকা । 

1 comment:

I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..