Tuesday, 31 December 2013

এই বছরের শেষ পদক্ষেপ ............



এই বছরের শেষ পদক্ষেপ ............

চারিদিকে এখন হল্লা । আমার বন্ধুদের একটা বিশাল দল এসে জুটেছে আমার বাড়িতে । আজ রাত্রে মজলিস । জানি না কিরকম হতে চলেছে আজ শেষ রাত্রির অন্তিম মুহূর্ত । তবে এটুকু স্পষ্ট যে রঙিন আলোর রোশনাইতে আমি হয়ত আজ ভুলে গেলেও যেতে পারি সেই সব মানুষদের কথা যাদের মানুষ বলেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি , ভুলে যাব বৃহন্নলাদের দীর্ঘশ্বাসের বেদনাগুলো , ভুলে যাব হাসপাতালে সদ্য বুকের ব্যাথায় ভর্তি হওয়া বাপের সেই গরীব মেয়ের হাহাকার , ভুলে যাব রাজনৈতিক অচলাবস্থা , ভুলে যাব অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো ইত্যাদি ইত্যাদি সব যেগুলো খুব বেমানান খুব বোরিং কিন্তু সত্যি , ভীষনরকম সত্যি । 

কিন্তু কথা হচ্ছে একটা নতুন বছর কি করে এত happy হতে পারে এতগুলো বাস্তব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে । হ্যাঁ হতে পারে যদি মদ , মাংস এবং অনান্য নেশাগ্রস্থতার মধ্যে থেকেও কেউ কেউ বা কয়েকজন অবস্থা বদলানোর প্রজ্ঞা নিতে পারে অন্তরবলয়ে । আমি জানি আমি ভীষনরকম বেরসিক । কিন্তু কি আর করা যাবে বাস্তবকে অস্বীকার করে বেঁচে থাকা যে খুব কঠিন 
আজ আমরা হিসেব নিকেশ করতে বসব কি কি পেলাম কি কি হারালাম কিন্তু কেউ কি এই হিসেব করতে বসব যে কি কি আমরা দিতে পারলাম এই সভ্যতাকে ? 

তবু , শুভেচ্ছা থাকল নতুন বছরের । হল্লা এবং হাহাকারের মধ্যেই বছর আসবে এবং যাবে । আসুক এবং যাক । মেতে উঠা ছাড়া  কিছুই যে করার নেই নইলে যে ব্যাকডেটেড হয়ে যাব , বিচ্ছিন্ন  

Saturday, 21 December 2013

এই প্রথম শূণ্যতা আর আনন্দ একসাথে .........



এই প্রথম শূণ্যতা আর আনন্দ একসাথে .........

আবার সময় এল প্রস্তুতির । এক অমোঘ মেঘ আচমকা সাদা থেকে কালো হয়ে যাচ্ছিল , আমরা সকলেই , আমাদের আভ্যন্তরীন পৃথিবী ও পৃথিবীর জনমানসেরা , উপলব্ধি করছিল যন্ত্রনার আরও এক কিন্তু অন্য দ্বিতীয় সংগা ।  পুরানো রাজবাড়ির বৃহদাকায় মূহুর্তযন্ত্রের স্বল্প বিস্তার অব্দি ভয়াল গর্জনে আছড়ে পড়ছিল শ্যাওলা ধরা আপাত-অর্থে স্থির কিন্তু বহুল প্রেমের মৃত্যুশোকে কাতর পাথরের সর্বাঙ্গে । কলরবস্থিত পুঞ্জিভূত বিচ্ছিন্নতার ফেনরাশি অপেক্ষার জাজ্বল্যময় অন্ধকারে আরও একবার নিজেকে বুঝিয়ে নিল মেঘ তার রঙ বদলায় তখনই যখন বৃষ্টির অবশ্যম্ভাবী আশঙ্কা বাস্তবে পরিব্যপ্ত হয় কিন্তু সে নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী । এবং বৃষ্টি শুধু ইহলোকগত বিপুল বিকেলজুড়ে নয় উপরিস্থিত গম্ভীর জীমূতেও স্পষ্টভাবেই ব্যপ্ত । 

সুতরাং , এগিয়ে যাওয়া নরজগতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হতে চলা সুহৃদের পদসঞ্চালনা যতই এদিক থেকে সরে যাচ্ছে , যদিও উষ্ণ বায়ুর পথত্যাগ অর্থে অন্য কোথাও আস্তানা , ততই সে পৌঁছে যাচ্ছে উন্মুক্ত দরজার আরও কাছাকাছি । একথা সত্য যে হৃদঘটিত একাকীত্য এবার সর্বশরীরে থাবা বসাবে কোনও কোনও কৃত্ত উপাংশে তবুও অন্তিম ভরসা এটুকুই যে , তারা , জনাস্তিকে থাকা শব্দমালা , আবার ফিরে আসবে মন্দ্র ধ্বনির প্রবল টানে । 

শুধু প্রার্থনা এই যে , স্মৃতিভ্রষ্ট বৃদ্ধদের যেমন সারাশরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন কিংবা না বলা অক্ষরের প্রতিফলন তেমন দশা যেন পুষ্পের না হয় মরীচিকার সুদীর্ঘ আঘাতে । শান্ত নিবিড় আনন্দে পুষ্প বিকশিত হোক , আমরা , প্রাকৃতজনেরা সাক্ষী হয়ে রইব সেই যাত্রার যার শুরু তোমরা জানো কিন্তু শেষ কেউ জানে না ।

Friday, 13 December 2013

কোন যুক্তিতে আটকাবো “সমকামীতা” (ভারতীয় প্রেক্ষিতে) ............




কোন যুক্তিতে আটকাবো “সমকামীতা”  (ভারতীয় প্রেক্ষিতে) ............
 


 সমকালীন ভারতীয় সভ্যতার কথা বলতে গেলে একটা দ্বন্দ্ব আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয় ­­­­– অ্যান্টিথেটিকাল সিভিলাইজেসনের মধ্যেকার – পশ্চিমী ও প্রাচ্য , যেটা মোটেই নতুন কিছু নয় । বহুকাল আগে থেকেই এই মিশ্রন আমাদের মধ্যে হয়ে গেছেআমাদের সমস্ত পরম্পরা যতই বিচিত্র রকমের জটীল  ও বিধ্বংসীকারী মনে হোক না কেন , এই সব কিছু গৃহযুদ্ধ অভিযান , বিপ্লব , দিগ্বিজয় ও দূর্ভিক্ষ তার উপরিভাগের নীচে নামেনি । ভারতীয় অতীতের চেহারা সম্পর্কে যা কিছুই মনে হোক না কেন সূদূর পুরাকাল থেকে আজ অব্দি তা অপরিবর্তিত(সংকীর্ণ , অযৌক্তিক ও ধর্মকেন্দ্রিক) থেকেছে (যদিও বৃটেন শাসিত ভারতে ,  ভারত নিজের অতীত ঐতিহ্য ও সমগ্র অতীত ইতিহাস থেকেই পৃথক হয়ে গিয়েছে ) আজকে ভারতীয় আদি গ্রন্থমালা থেকে আমরা যতই সমকামীতার উদাহরন এনে সমর্থন করতে চাই না কেন সেটা কিন্তু আদপে পশ্চিমী দেশ থেকেই আগত এবং তা যুক্তি দিয়ে বিচারের দাবি করে । কেননা আদি গ্রন্থমালার যুগের সমাজব্যবস্থা তৎকালীন অর্থে আর এদেশে এখন প্রচলিত নয় । 

বর্তমানে ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থা গনতান্ত্রিক পদ্ধতির । কিন্তু সেখানে একটা প্রশ্ন থেকেই যায় যে গনতন্ত্রের ঠিক কোন অর্থে আমরা এই গনতান্ত্রিকতার দাবি করি । এখানে আমি চমস্কির দেওয়া গনতান্ত্রিকতার দুটি রূপ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাই । গনতন্ত্রের একটি ধারণায় দেখা যায় যে , গনতান্ত্রিক সমাজ মানে এমন একটা সমাজ – যেখানে নিজেদের যাবতীয় বিষয় আশয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অংশ নেবার অধিকার সাধারন মানুষের আছে । পাশাপাশি যেখানে সংবাদ ও তথ্যের অধিকার , ব্যক্তিজীবন ও যাপনের অধিকার , বাকস্বাধীনতা রক্ষার অধিকার সমস্তই খোলামেলা ও বাধাহীন প্রকৃতির । এটা অভিধানিক অর্থ ।

আর দ্বিতীয় একটা ধারণায় বলা যায় , নিজেদের যাবতীয় বিষয় থেকে সাধারন মানুষদের সরিয়ে রাখতে হবে এবং এটা মূলত নিয়ন্ত্রিত হবে সংবাদ মাধ্যম দ্বারা ।  আমরা জানি ১৯১৬ সালের উইলসন ও তাঁর ক্রিল কমিশনের সমস্ত ঘটনা । একটা বিরাট শান্তিপ্রিয় জনগণকে কিভাবে যুদ্ধোন্মাদ জনতায় পরিণত করা হয়েছিল । এটা কোনও নতুন কিছু নয় , এই কৌশলেই আপামর দর্শক জনগনকে উঠবোস করানো হয় । একইভাবে সর্বত্র ও এখন এখানেও এই সমকামীতাকে আধুনিকতার সোপানরূপে প্রচার করে এটাকে স্বাভাবিক আচরনের আওতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । কোর্টকে গণমাধ্যমের এই প্রচারের দিকটাতেও নজর দিতে হবে । 

দুইদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে সমকামীতার বিপক্ষে । সেই বিষয় নিয়ে এখানে আলোচনা করব না যে সেটা সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত কিনা ইত্যাদি । আমরা আলোচনা করব সমকামীতা কতটা যুক্তিযুক্ত । 

যে সম্পর্কে বিপরীত লিঙ্গের দুইটি সমপ্রজাতিভুক্ত জীবের যৌনমিলনের ফলে সন্তান উৎপাদন হলে আমরা সেই সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বলব । তাহলে এই যুক্তি অনুযায়ী সমকামীতা প্রকৃতিবিরুদ্ধ ও অস্বাভাবিক । কিন্তু তাহলে এই যৌন অভিপ্রায়ের টিকে থাকার যৌক্তিকতা কি ?

অনেকগুলি মানুষ এই অবস্থানে এসে গেছেন এবং এটা তাদের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা মেটাবার দাবি রাখে বলেই কি এটাকে মেনে নিতে হবে ? কিন্তু তাহলে তো সেই একই যুক্তিতে যৌনপল্লীতে যাওয়া ও পশুকেন্দ্রিক যৌনতাকেও আইনী স্বীকৃতি দিতে হবে । কিন্তু সেটা কি উচিত ?

এ কথা অবশ্যস্বীকার্য যে সমকামীতাকে বেআইনী করে বেশীদিন রাখা যাবে না কিন্তু সেইসঙ্গে এটাও ঠিক যে এটা পাগলামি না হলেও একটা মানসিক অসুস্থতা । জিন ঘটিত কারনে কিছু পুরুষের মধ্যে অতিরিক্ত নারীধর্ম প্রকট হয় এবং নারীতে পুরুষ । কিন্তু তাই বলে যৌনচাহিদার এরকম অবস্থানের কোনও কারন নেই । বহুদিন বাইরে থাকা নারী সঙ্গহীন পুরুষদের (আর্মি বা ব্যবসায়ী) মধ্যে এই ধরনের যৌনবিকৃতির সৃষ্টি হয়েছে ও সমভাবে অন্য কিছু ক্ষেত্রে নারীতেও । বর্তমানে ultra-freedom intellect hypocrisy এর বহুল প্রচারে যুবপ্রজন্মের মধ্যে এই ধরনের চাহিদার মাত্রা বেড়েছে । এটা এক ধরনের অসম্পুর্ণ থাকা অভিলাষ প্রকাশের বিমূর্ত রূপ ব্যতীত আর কিছুই নয় । এটাকে তোল্লাই দিয়ে আমরা এই ধারনাকে সমাজের এমন এক স্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছি যেখানে আদপে একটা ক্যাওশের সৃষ্টি হবে । এইসব আওতায় পড়া মানুষদের চিকিৎসা হওয়া দরকার কেননা এটা অপরাধ নয় অসুস্থতা । আইন করে এটাকে আটকানো মানেই সমাজে আবার একটা অচলাবস্থাকে ডাক দেওয়া । কোনও দেশের শাসনব্যবস্থার অধিকার নেই শুধুমাত্র আইন বলবৎ করে মানুষের জীবন নিয়ে যা খুশি করার যতক্ষন না তারা কোনও বিমূর্ত ধারনার বিরুদ্ধে যৌক্তিক ভঙ্গিতে সমাধানের সৎ প্রচেষ্টা করছেন । 

এখানে যা বলা হল সেটা বর্তমানের সমস্ত চিন্তার বিপরীতপন্থী , কিছুটা সংকীর্ণতা ও পাগলের প্রলাপ গোছের বলে মনে হবেই কিন্তু সেই সব দায় মেনে নিলেও জোয়ারে গা না ভাসানো সত্যিকারের যৌক্তিক ও বৌদ্ধিক ভাবনার কিছু মানুষ এই কথাগুলি অবশ্যই মানবেন ।

সমকামী প্রেম ও ভারতীয় বিচারব্যবস্থা ...

সমকামী প্রেম ও ভারতীয় বিচারব্যবস্থা ...

পশুদের সঙ্গে মানুষের অন্যতম একটা বিশেষ পার্থক্য হল পরিবেশের সঙ্গে নিজের জীবনযাপনের পরিবর্তন ঘটানোতে । যদি আমরা পৃথিবীর আদিম অবস্থা থেকে আজ অব্দি সম্পূর্ণ বিবর্তনকে পর্যালোচনা করে দেখি তবে দেখতে পাব আদি পর্যায়ে পশুদের জীবনযাপনের পদ্ধতি যা ছিল আজও মোটামুটি তাই আছে । কেননা পরিবেশ তখন যেরকম ছিল সেই অনুযায়ী পশুরা নিজেদের অভিযোজন ঘটিয়েছে , আজও তাই করে । সুতরাং পরিবেশকে বদলানোর চিন্তা তারা করেনি (সে ক্ষমতা তাদের নেই) । কিন্তু মানুষ তার নিজের চাহিদা ও প্রয়োজনের তাগিদ অনুযায়ী পৃথিবীর ও তার পরিবেশের পরিবর্তন করেছে । সেইজন্যই এত আবিষ্কার , বিকাশ , প্রযুক্তি , বিপ্লব ও তাত্বিক চিন্তার উদ্ভব ।
সুতরাং , পরিবেশের দোহাই দিয়ে সমকামীতাকে বেআইনী ঘোষণা করাটা যুক্তিযুক্ত হবে না । একুশ শতকে পৌঁছে যদি মানুষ মনে করে যে সমকামী প্রেম তার হৃদঘঠিত চাহিদা মেটাতে সক্ষম তবে এই সভ্যতাকে সেটা মেনে নিতে হবে । আর শাসনব্যবস্থা সামাজিক প্রয়োজনের তাগিদে সৃষ্টি করা হয়েছে , শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সমাজ তার প্রয়োজন বদলাবে কেন ?

এবার আসা যাক , যে প্রয়োজনের কথা ভেবে এত কিছু সেটা কতটা যুক্তিযুক্ত । আমরা দেখেছি কিউবায় কাস্ত্র কিভাবে সমকামীদের হত্যা করেছিলেন নির্বিচারে এবং এও দেখেছি তাঁর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে তাঁর দেওয়া একটি পত্রিকার সাক্ষাতকারে । তাই বর্তমান ভারতে যেটা নিয়ে এত হৈচৈ সেটার সাক্ষী বিশ্বের ইতিহাস বহুদিন আগেই । নতুন করে পুরনো তত্ব নিয়ে জলঘোলা করে কোনও লাভ নেই । প্রতিবাদ অবশ্যই হবে তবে হযবরল প্রক্রিয়ায় নয় , যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক রীতিতে ।

আজকের সময়ে যৌনতা এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে মানুষ এটাকে নিয়ে কি করবে সেটাই ভেবে উঠতে পারছে না । ফলে একধরনের perversion এর সৃষ্টি হয়েছে । যেজন্য এত ধর্ষন ও মেয়েদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা সংবাদের শিরনামে আসছে । এরই একটা বিশেষ আদল হল সমকামিতা । বিজ্ঞান যদি এটাকে বিবর্তনের একটা যৌক্তিক অধ্যায় ও স্বাভাবিক বলে স্থান দেয় তবে নিশ্চয় এটা মেনে নেওয়া উচিত । কিন্তু যদি না দেয় তবে এটা সত্যিই সমাজের স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর । যদিও বলা যায় ,

“There is no consensus among scientists about why a person develops a particular sexual orientation; however, biologically-based theories for the cause of sexual orientation are favored by experts, which point to genetic factors, the early uterine environment, or both in combination. There is no substantive evidence which suggests parenting or early childhood experiences play a role when it comes to sexual orientation; when it comes to same-sex sexual behavior, shared or familial environment plays no role for men and minor role for women. While some hold the view that homosexual activity is unnatural, research has shown that homosexuality is an example of a normal and natural variation in human sexuality and is not in and of itself a source of negative psychological effects. Most people experience little or no sense of choice about their sexual orientation. There is insufficient evidence to support the use of psychological interventions to change sexual orientation.”

কিন্তু তাই বলে , ভারতীয় সংস্কৃতি কিংবা ধর্মের দোহাই দিয়ে এটাকে আটকে রাখতে গেলে ফল বিপরীত হবে । দুনিয়ার বিবর্তনের সঙ্গে সবকিছুর বিবর্তন হবেই । ভারতীয় সংস্কৃতি সেখানে ছাড় পাবে কেন ?

রাজনৈতিক রামশ্যাম-মহম্মদ-অ্যালেনদের উচিত এটাকে ভোট পাবার আশায় তোল্লাই না দিয়ে সমাজব্যবস্থার স্বার্থরক্ষার বিচারে বিচার করে কথা বলা । কেননা সভ্যতা টিকে থাকবে তার চারপাশের কার্যকলাপের প্রভাবে , যদি কুপ্রভাব বাড়ে তবে কিন্তু সমগ্র মানব প্রজাতি প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়াবে ।

আমি মনে করি , দৈনিক নিত্যকর্মের মতই যৌন অভিপ্রায়কে স্থান দেওয়া উচিত । এটাকে চেতনা ও মনের খুব গভীরে একটা বিশাল কিছু বলে ধরে রাখা ঠিক নয় । একটা স্বাভাবিক ব্যাপার , এত লুকোছাপা , নীতিবিরুদ্ধতার জায়গায় নিয়ে গেলেই সুপ্ত চাহিদাগুলো ভয়ংকররূপে বিস্ফোরণ করবে যা খুব একটা সুস্থতার জায়গায় আর নিজেকে ধরে রাখতে পারবে না । বিদেশে কিছুটা এই অবস্থান এসেছে (সঙ্গে বেশ কিছু perversion , যেটা আসা উচিত ছিল না ) কিন্তু এখনও অনেক বাকি । সভ্যতার চাহিদা ও মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে যৌক্তিকভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হোক আর ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস যেখানে শুধুই দখলের , সংবিধান যেখানে শুধুই নকলের যেখানে এসব বড় বড় বিষয় খাড়া করে অচলাবস্থা তৈরী করা মানেই কিছু কায়েমী স্বার্থকে রক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই নয় ।