কোন যুক্তিতে আটকাবো “সমকামীতা” (ভারতীয়
প্রেক্ষিতে) ............
সমকালীন ভারতীয় সভ্যতার কথা বলতে গেলে একটা দ্বন্দ্ব আমাদের সামনে এসে উপস্থিত
হয় – অ্যান্টিথেটিকাল সিভিলাইজেসনের মধ্যেকার – পশ্চিমী ও প্রাচ্য , যেটা
মোটেই নতুন কিছু নয় । বহুকাল আগে থেকেই এই মিশ্রন আমাদের মধ্যে হয়ে গেছে । আমাদের সমস্ত পরম্পরা যতই বিচিত্র রকমের জটীল
ও বিধ্বংসীকারী মনে হোক না কেন , এই সব কিছু গৃহযুদ্ধ অভিযান , বিপ্লব ,
দিগ্বিজয় ও দূর্ভিক্ষ তার উপরিভাগের নীচে নামেনি । ভারতীয় অতীতের চেহারা সম্পর্কে
যা কিছুই মনে হোক না কেন সূদূর পুরাকাল থেকে আজ অব্দি তা অপরিবর্তিত(সংকীর্ণ ,
অযৌক্তিক ও ধর্মকেন্দ্রিক) থেকেছে (যদিও বৃটেন শাসিত ভারতে , ভারত নিজের অতীত ঐতিহ্য ও সমগ্র অতীত ইতিহাস
থেকেই পৃথক হয়ে গিয়েছে ) । আজকে ভারতীয় আদি গ্রন্থমালা থেকে আমরা যতই সমকামীতার উদাহরন এনে সমর্থন করতে
চাই না কেন সেটা কিন্তু আদপে পশ্চিমী দেশ থেকেই আগত এবং তা যুক্তি দিয়ে বিচারের
দাবি করে । কেননা আদি গ্রন্থমালার যুগের সমাজব্যবস্থা তৎকালীন অর্থে আর এদেশে এখন প্রচলিত
নয় ।
বর্তমানে ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থা গনতান্ত্রিক পদ্ধতির । কিন্তু সেখানে একটা
প্রশ্ন থেকেই যায় যে গনতন্ত্রের ঠিক কোন অর্থে আমরা এই গনতান্ত্রিকতার দাবি করি ।
এখানে আমি চমস্কির দেওয়া গনতান্ত্রিকতার দুটি রূপ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাই । গনতন্ত্রের
একটি ধারণায় দেখা যায় যে , গনতান্ত্রিক সমাজ মানে এমন একটা সমাজ – যেখানে নিজেদের
যাবতীয় বিষয় আশয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অংশ নেবার অধিকার সাধারন মানুষের আছে । পাশাপাশি
যেখানে সংবাদ ও তথ্যের অধিকার , ব্যক্তিজীবন ও যাপনের অধিকার , বাকস্বাধীনতা
রক্ষার অধিকার সমস্তই খোলামেলা ও বাধাহীন প্রকৃতির । এটা অভিধানিক অর্থ ।
আর দ্বিতীয় একটা ধারণায় বলা যায় , নিজেদের যাবতীয় বিষয় থেকে সাধারন মানুষদের
সরিয়ে রাখতে হবে এবং এটা মূলত নিয়ন্ত্রিত হবে সংবাদ মাধ্যম দ্বারা । আমরা জানি ১৯১৬ সালের উইলসন ও তাঁর ক্রিল
কমিশনের সমস্ত ঘটনা । একটা বিরাট শান্তিপ্রিয় জনগণকে কিভাবে যুদ্ধোন্মাদ জনতায়
পরিণত করা হয়েছিল । এটা কোনও নতুন কিছু নয় , এই কৌশলেই আপামর দর্শক জনগনকে উঠবোস
করানো হয় । একইভাবে সর্বত্র ও এখন এখানেও এই সমকামীতাকে আধুনিকতার সোপানরূপে
প্রচার করে এটাকে স্বাভাবিক আচরনের আওতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । কোর্টকে গণমাধ্যমের
এই প্রচারের দিকটাতেও নজর দিতে হবে ।
দুইদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে সমকামীতার বিপক্ষে । সেই বিষয় নিয়ে এখানে
আলোচনা করব না যে সেটা সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত কিনা ইত্যাদি । আমরা আলোচনা
করব সমকামীতা কতটা যুক্তিযুক্ত ।
যে সম্পর্কে বিপরীত লিঙ্গের দুইটি সমপ্রজাতিভুক্ত জীবের যৌনমিলনের ফলে সন্তান
উৎপাদন হলে আমরা সেই সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বলব । তাহলে এই যুক্তি
অনুযায়ী সমকামীতা প্রকৃতিবিরুদ্ধ ও অস্বাভাবিক । কিন্তু তাহলে এই যৌন অভিপ্রায়ের
টিকে থাকার যৌক্তিকতা কি ?
অনেকগুলি মানুষ এই অবস্থানে এসে গেছেন এবং এটা তাদের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা
মেটাবার দাবি রাখে বলেই কি এটাকে মেনে নিতে হবে ? কিন্তু তাহলে তো সেই একই
যুক্তিতে যৌনপল্লীতে যাওয়া ও পশুকেন্দ্রিক যৌনতাকেও আইনী স্বীকৃতি দিতে হবে । কিন্তু
সেটা কি উচিত ?
এ কথা অবশ্যস্বীকার্য যে সমকামীতাকে বেআইনী করে বেশীদিন রাখা যাবে না কিন্তু
সেইসঙ্গে এটাও ঠিক যে এটা পাগলামি না হলেও একটা মানসিক অসুস্থতা । জিন ঘটিত কারনে
কিছু পুরুষের মধ্যে অতিরিক্ত নারীধর্ম প্রকট হয় এবং নারীতে পুরুষ । কিন্তু তাই বলে
যৌনচাহিদার এরকম অবস্থানের কোনও কারন নেই । বহুদিন বাইরে থাকা নারী সঙ্গহীন
পুরুষদের (আর্মি বা ব্যবসায়ী) মধ্যে এই ধরনের যৌনবিকৃতির সৃষ্টি হয়েছে ও সমভাবে
অন্য কিছু ক্ষেত্রে নারীতেও । বর্তমানে ultra-freedom ও intellect hypocrisy এর বহুল প্রচারে যুবপ্রজন্মের মধ্যে এই ধরনের চাহিদার
মাত্রা বেড়েছে । এটা এক ধরনের অসম্পুর্ণ থাকা অভিলাষ প্রকাশের বিমূর্ত রূপ ব্যতীত
আর কিছুই নয় । এটাকে তোল্লাই দিয়ে আমরা এই ধারনাকে সমাজের এমন এক স্তরে ছড়িয়ে
দিচ্ছি যেখানে আদপে একটা ক্যাওশের সৃষ্টি হবে । এইসব আওতায় পড়া মানুষদের চিকিৎসা হওয়া
দরকার কেননা এটা অপরাধ নয় অসুস্থতা । আইন করে এটাকে আটকানো মানেই সমাজে আবার একটা
অচলাবস্থাকে ডাক দেওয়া । কোনও দেশের শাসনব্যবস্থার অধিকার নেই শুধুমাত্র আইন বলবৎ করে
মানুষের জীবন নিয়ে যা খুশি করার যতক্ষন না তারা কোনও বিমূর্ত ধারনার বিরুদ্ধে
যৌক্তিক ভঙ্গিতে সমাধানের সৎ প্রচেষ্টা করছেন ।
এখানে যা বলা হল সেটা বর্তমানের সমস্ত চিন্তার বিপরীতপন্থী , কিছুটা সংকীর্ণতা
ও পাগলের প্রলাপ গোছের বলে মনে হবেই কিন্তু সেই সব দায় মেনে নিলেও জোয়ারে গা না
ভাসানো সত্যিকারের যৌক্তিক ও বৌদ্ধিক ভাবনার কিছু মানুষ এই কথাগুলি অবশ্যই মানবেন
।