Sunday, 19 June 2016

অতঃপর নাইটদের পোশাকেই জীবন শুরু, সেভাবেই শেষ



একথা তো আজ আর অস্বীকার করা যায় না যে মানুষের মন শত-সহস্র-পথে ধাবমান । কেন যায় না ? 

যায় না তো । আবাল্য-কৈশোর যেসব বিচিত্রধর্মী চেনানো ছকে চেনা পৃথিবীটাকে যখন কেউ সবেমাত্র আপন করে ফেলেছে নিজের মত করে – যদিও ভ্রমপ্রমাদ, কেননা “নিজের মত করে” বলে কোন কথা হয় না, ‘নিজে’ও তৈরি হয় প্রচলিত বা অপ্রচলিত ছাঁচেই – তখনই সেসব ছাঁচ ক্রমাগত তরল হয়ে গলে যেতে থাকে, প্রস্তুত হয় আরেকটা, তারপর আরও একটা এবং এভাবেই একের পর একটা । অথচ কেউই নতুন নয়, পুরনোই, তবু তো নতুন । 

মন অস্বীকার করার সমর্থন খোঁজে সমস্ত অতীতের থেকে । সমস্ত আপনজনেদের কাছ থেকেও। পেয়েও যায় । পাবে নাই বা কেন ? পাবারই তো কথা । কিন্তু মনের মত সব হয়ে গেল বলেই যে সেটাই সঠিক এমনটা নাও হতে পারে । বরং বিপরীতটা, যেটা সকল কিছুর পরিপন্থী – সেটাও ভুল হতে পারে- তবু সেখানেই যেতে হবে । পরে না হয় ফিরে আসা যাবে । 

প্রস্তুতিপ্রান্তর তৈরি হয় । সকলে ভাবে, ভাবতেই থাকে এই বুঝি সব অগোছালো হয়ে গেল । সুহৃদ, প্রিয়তম একেবারেই বিশ্বাসঘাতকতা করে বসল । দূরত্ব ক্রমশ পাতলা ফিতের চেয়েও পাতলা হয়ে যেতে থাকে । তখন তাকে দেখা যায় না, মাপা যায় না, প্রকাশ করা যায় না, অনুভব করা যায় । কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা আচ্ছন্ন করে ফেললেও একমাত্র কর্তব্য নিশ্চুপে থেকে পরিপন্থাকে আশ্রয় করা ।
 
রামকিঙ্কর বেইজের "ফল সংগ্রাহক"
মানুষ দুটোই চায় । বিরহ এবং আনন্দ, একাকীত্ব এবং হৈ-হুল্লোড়, বিচ্ছেদ এবং মিলন, দূরত্ব এবং ঘনিষ্ঠতা, বিপ্লব এবং প্রতিবিপ্লব ... 

অথচ নিবিঢ় শান্তি তো তার কাছে যে বিরহে আনন্দ এবং আনন্দে বিরহের স্বাদ পেতে সক্ষম, হৈ-হুল্লোড়ে একাকীত্ব এবং একাকীত্বে হৈ-হুল্লোড় খুঁজে পেতে পারে, বিচ্ছেদে মিলন এবং মিলনে বিচ্ছেদ, দূরত্বে ঘনিষ্ঠতা এবং ঘনিষ্ঠতায় দূরত্ব, বিপ্লবে প্রতিবিপ্লব এবং প্রতিবিপ্লবে বিপ্লব ... 

এই যে সব ভাব , এতে সামঞ্জস্য খুঁজতে যাবার প্রচেষ্টায় মানুষ খুঁজে পেয়েছে সান্ত্বনা, ধৈর্য্য, ভালোবাসা ও সর্বোপরি সত্তা । আর এভাবেই জন্ম পরিচয়ের পরেও তাকে পুনর্বার মানুষ হবার প্রয়াস পেতে হয়েছে । বৃহত্তরের জন্য আত্মত্যাগ, তখনই আরেকটা ছাঁচ , বৃহত্তরের ক্ষুদ্রতায় সমাপতন । 

অতঃপর নাইটদের পোশাকেই জীবন শুরু, সেভাবেই শেষ । বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে স্থির বলে যেমন কিছুই নেই, তেমন নাইটের ঘোড়াও কখনই থামবে না ।