একথা তো আজ আর অস্বীকার করা
যায় না যে মানুষের মন শত-সহস্র-পথে ধাবমান । কেন যায় না ?
যায় না তো । আবাল্য-কৈশোর
যেসব বিচিত্রধর্মী চেনানো ছকে চেনা পৃথিবীটাকে যখন কেউ সবেমাত্র আপন করে ফেলেছে
নিজের মত করে – যদিও ভ্রমপ্রমাদ, কেননা “নিজের মত করে” বলে কোন কথা হয় না, ‘নিজে’ও
তৈরি হয় প্রচলিত বা অপ্রচলিত ছাঁচেই – তখনই সেসব ছাঁচ ক্রমাগত তরল হয়ে গলে যেতে
থাকে, প্রস্তুত হয় আরেকটা, তারপর আরও একটা এবং এভাবেই একের পর একটা । অথচ কেউই
নতুন নয়, পুরনোই, তবু তো নতুন ।
মন অস্বীকার করার সমর্থন
খোঁজে সমস্ত অতীতের থেকে । সমস্ত আপনজনেদের কাছ থেকেও। পেয়েও যায় । পাবে নাই বা
কেন ? পাবারই তো কথা । কিন্তু মনের মত সব হয়ে গেল বলেই যে সেটাই সঠিক এমনটা নাও
হতে পারে । বরং বিপরীতটা, যেটা সকল কিছুর পরিপন্থী – সেটাও ভুল হতে পারে- তবু
সেখানেই যেতে হবে । পরে না হয় ফিরে আসা যাবে ।
প্রস্তুতিপ্রান্তর তৈরি হয় ।
সকলে ভাবে, ভাবতেই থাকে এই বুঝি সব অগোছালো হয়ে গেল । সুহৃদ, প্রিয়তম একেবারেই
বিশ্বাসঘাতকতা করে বসল । দূরত্ব ক্রমশ পাতলা ফিতের চেয়েও পাতলা হয়ে যেতে থাকে । তখন
তাকে দেখা যায় না, মাপা যায় না, প্রকাশ করা যায় না, অনুভব করা যায় । কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা
আচ্ছন্ন করে ফেললেও একমাত্র কর্তব্য নিশ্চুপে থেকে পরিপন্থাকে আশ্রয় করা ।
মানুষ দুটোই চায় । বিরহ এবং
আনন্দ, একাকীত্ব এবং হৈ-হুল্লোড়, বিচ্ছেদ এবং মিলন, দূরত্ব এবং ঘনিষ্ঠতা, বিপ্লব
এবং প্রতিবিপ্লব ...
অথচ নিবিঢ় শান্তি তো তার কাছে
যে বিরহে আনন্দ এবং আনন্দে বিরহের স্বাদ পেতে সক্ষম, হৈ-হুল্লোড়ে একাকীত্ব এবং
একাকীত্বে হৈ-হুল্লোড় খুঁজে পেতে পারে, বিচ্ছেদে মিলন এবং মিলনে বিচ্ছেদ, দূরত্বে
ঘনিষ্ঠতা এবং ঘনিষ্ঠতায় দূরত্ব, বিপ্লবে প্রতিবিপ্লব এবং প্রতিবিপ্লবে বিপ্লব ...
এই যে সব ভাব , এতে সামঞ্জস্য
খুঁজতে যাবার প্রচেষ্টায় মানুষ খুঁজে পেয়েছে সান্ত্বনা, ধৈর্য্য, ভালোবাসা ও সর্বোপরি
সত্তা । আর এভাবেই জন্ম পরিচয়ের পরেও তাকে পুনর্বার মানুষ হবার প্রয়াস পেতে হয়েছে
। বৃহত্তরের জন্য আত্মত্যাগ, তখনই আরেকটা ছাঁচ , বৃহত্তরের ক্ষুদ্রতায় সমাপতন ।
অতঃপর নাইটদের পোশাকেই জীবন
শুরু, সেভাবেই শেষ । বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে স্থির বলে যেমন কিছুই নেই, তেমন নাইটের
ঘোড়াও কখনই থামবে না ।

No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..