Sunday, 15 May 2022

এক টুকরো অ-ভারতবর্ষ

“অলীক প্রেমকথা” নাটকের একটি দৃশ্য

 

“অলীক প্রেমকথা”-এর সফল মঞ্চায়ন হল গতকাল। নাটকটি লিখেছেন পুষ্পল মুখোপাধ্যায় আর ময়ূখ দত্তের পরিচালনায় মঞ্চস্থ করেছে “বহুস্বর”। নাটকটির সময় ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট। এই ১০০ মিনিটে দাপুটে ১০০ রান করেছে বলেই অন্তত আমার অভিমত। “অলীক প্রেমকথা” এক হিন্দু-মুসলমানের প্রেমের কাহিনি। কিন্তু নাট্যকার এটাকে দেখতে চেয়েছেন কেবলমাত্র এক যুবক-যুবতীর ভালোবাসা হিসাবেই, অর্থাৎ, এখানে প্রেমটাই হল শেষ কথা। হিন্দু কি মুসলমান অথবা জৈন না পার্শী সে-সব ধর্তব্যের বিষয় নয়, মোদ্দা বিষয় অন্যান্য পরিচয়ের উর্ধে উঠে দু-জন মানুষ একে-অপরকে ভালোবাসে, ব্যাস। একইসঙ্গে পারিপার্শ্বিক ঘটনাক্রমে নাট্যকার একটি ছোট্ট গ্রামের ক্যানভাসে বর্তমানের গোটা ভারতবর্ষের চিত্রটিকে আঁকতে চেয়েছেন। সে-চিত্র অবশ্যই রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা-দুরাবস্থার কথা বলে। সেখানে এনআরসি থেকে লাভ জিহাদ, গো-মাতা থেকে রাম মন্দির, বিফ থেকে গরুপাচার, দাঙ্গা থেকে খুন ইত্যাদি সবই আছে।

নাটকের শুরুতেই দেখা যায় প্রাচীন জমিদারের বংশোদ্ভূত এক নব্য-রক্ষণশীল চরিত্রকে যে গেরুয়াতন্ত্রকে ঢাল করে সমাজের শাসক হয়ে ওঠার প্রত্যাশী। আর দেখা যায় তার একজন শাগরেদকে যার নাম রতন। জমিদারের রক্ত ধমনিতে যখন টগবগ করে ফোটে, তখন কণ্ঠ যে-সমস্ত হুকুম জারি করে, সে-সবকিছুকে ঠিকঠাকভাবে কার্যকর করে রতন। রবীন্দ্রনাথের ‘দুই বিঘা জমি’-এর সেই লাইনটির – “বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ” - মতোই এখানেও রতন কিছুটা বেশিই সক্রিয় ও উদ্যোগী। সেই-ই গ্রামের সমস্ত কিছুতে নজরদারি চালানোর কাজটি করে। কে কাকে মাছ দিল, কে কাকে কী বলে সম্বোধন করল, কে কার হাত ধরল, কার কাছে কী কাগজ আছে বা নেই, কে কীসের মাংস খাচ্ছে ইত্যাদি সবদিকে নজর রাখা ও ইয়ার্কির ছলে ব্যাগড়া দেওয়াই রতনের কাজ। এরাই হল নাটকের মূল অ্যান্টাগনিস্ট বা দ্বিষৎ চরিত্র। পক্ষান্তরে নাটকটির প্রোটাগনিস্ট হল এক যুবক ও যুবতী। যুবতীটি এক হিন্দু ব্রাহ্মণ পুরোহিতের আর যুবকটি মুসলমান বাড়ির সন্তান। ময়না কলেজে পড়ে আর সাগির ডাক্তার। দুজনেই অরুণ-জয় প্রমুখের কবিতা পড়ে। একজন স্বপ্ন দেখে গ্রামে স্কুল খোলার, আরেকজন দেখে গরীবের সেবা করার জন্য দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার। অর্থাৎ বলাই যায় যে, নবজাগরণের প্রভাবে যেমন বাংলার সমাজে এক প্রগতিশীল সংখ্যালঘুর সৃষ্টি হয়েছিল, অথবা, বামপন্থার প্রভাব যেমন এক অন্য প্রগতিমার্গের জন্ম দিয়েছিল, এরা দু-জন সেইসব প্রগতিশীল মানসিকতারই নব্য-প্রতিনিধি। এই দু-জনেরই প্রেম হয়। দু-জনেই আনন্দিত, দু-জনেই ভীত। ময়না স্বপ্ন দেখে যে, তাদের প্রেমের কথা জানতে পেরে বাবা তাকে বলি দিচ্ছে, ভয়ে আঁতকে ওঠে সে। সাগিরও স্বপ্ন দেখে। সে কিন্তু আব্বা-আম্মি কাউকে দেখে না, সে দেখে হিন্দু সমাজের রে-রে করে তেড়ে আসার স্বপ্ন, সেও স্তব্ধবাক হয়। নানান ঘটনার মধ্য দিয়ে নাটক এইভাবেই এগোতে থাকে যবনিকা পতনের দিকে। অন্তিমে আমরা দেখি যে, ময়নার বাবার আর্তিতে সাড়া দিয়ে জমিদারির প্রতিভূ চরিত্রটির দাঙ্গা লাগানোর ও গণপিটুনি দিয়ে সাগিরকে হত্যা করার পরিকল্পনার ব্যর্থ হয়ে যাওয়া। প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে ব্যর্থ হয়? কেন হয়? গোটা গ্রামের মনস্তত্বই কি তবে পাল্টে গেল? কে পাল্টাল? প্রশ্নগুলির উত্তর মেলে শেষে, সেটার জন্য নাটকটিকে দেখতে হবে। এক টান-টান উত্তেজনা আর তীব্র প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে নব্য-রক্ষণশীল ও নব্য-প্রগতিশীলের দ্বন্দ্বমুখর নাটকটি শেষ হয়। দর্শক হিসাবে আমরা মুগ্ধ হই, কেননা যেমন নাটকের সঙ্গীতাবহ তেমনই আলোকসজ্জা আর তেমনই অভিনয়। সব মিলিয়ে পরিচালকের চমৎকার উপস্থাপনা নাট্যকারের কলমটিকে যেন বাগ্ময় করে তোলে এক-লহমায়।

কিন্তু এইখানে কয়েকটা খটকাও আমাদের মনে এসে ধাক্কা দেয়। আমি মূলত দুটির কথা বলব। লেখক হিন্দু-মুসলমান কেন্দ্রিক যে রাজনীতিটিকে দেখাতে চেয়েছে তা নতুন নয়। তা ভারতবর্ষের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোত সংশ্লিষ্ট। কিন্তু আবার সেই পুরানো ঘটনাকে নতুন করে দেখানোর উদ্দেশ্য কী? আসলে বিগত কয়েক বছরে এই রাজনীতি দেশের বুকে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অজস্র হত্যা ধর্ষণ ও নানান প্রকারের বিধিব্যবস্থা ভারতবর্ষের শান্তিকে বিঘ্নিত করেছে। লেখক স্বভাবিকভাবে তারই বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছেন। আমরাও তাইই চাই। কিন্তু লেখক কয়েনের উলটো দিকটা দেখেননি, দেখাননি। আমরা সেটাও দেখতে চাই। ইতিহাস বলে, হিন্দুরাই দীর্ঘকাল মুসলমানের শাসনে বসবাস করেছিল। মুসলমানরা করেনি। আমরা পৃথ্বীরাজ চৌহানকে বিস্মৃত হতে পারি না। বঙ্কিমচন্দ্রকেও কি পারি? মনে রাখা দরকার যে, আজও এদেশে হিন্দুদের ওপরে মুসলমানের অত্যাচারের ঘটনার তথ্যভাণ্ডার নেহাত মামুলি নয়। এছাড়া হিন্দুর ও মুসলমানের নিজেদের ভেতরেই উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণের অত্যাচারও কম নয়। লেখক সেগুলিকে আপাতত দেখতে বা দেখাতে চাননি। ভারতবর্ষের বেশিরভাগ লেখকই সেটা দেখতে বা দেখাতে চান না। কেন, জানি না। হয়তো সেক্যুলারিজমের ভারতীয় সংস্করণেই তাঁরা বিশ্বাসী। তবে এইখানেই আমার একটি প্রশ্ন থাকে যে, আমরা কোন পক্ষ নেব – মুসলমানের বিরুদ্ধে হিন্দুর কিংবা হিন্দুর বিরুদ্ধে মুসলমানের নাকি অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অত্যাচারিতের? এখানে অনেকে সংখ্যার কথা বলবেন। দেখাতে চাইবেন, মুসলমানের বিরুদ্ধে হিন্দুর আক্রমণের সংখ্যাধীক্যকে। কিন্তু আমার বক্তব্য, যতদিন আমরা এই সংখ্যাকে নিয়ে মাতামাতি করব ততদিন এই জাতপাত-ধর্মের দ্বন্দ্ব কাটবে না। আমাদের এইবারে পুরানো কাসুন্দি ছেড়ে নতুন কিছু ঘাটতে হবে। মানুষের বিরুদ্ধে যেখানেই অন্য মানুষকে অত্যাচারীর ভূমিকায় দেখব তারই প্রতিবাদ জানাতে হবে। আছিলা অথবা পরিচয় দেখলে হবে না আর। একখানি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই তাহলে বলি।

বছর কয়েক আগে তিন বন্ধু - একজন ডাক্তার একজন গবেষক একজন ইঞ্জিনিয়ার - মিলে নিজেদের পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। আচমকা আরেকটা ছেলে প্রায় টলতে-টলতে এসে পাশে দাঁড়িয়ে ঠায় ওদের মাপতে লাগল। অনেকক্ষণ এরকম দেখে ইঞ্জিনিয়ার বলল কী ব্যাপার কিছু বলবে? সে বলল, পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা কেন? ইঞ্জিনিয়ার চমকে গিয়ে বলল, মানে! সেই ছেলেটা টলতে-টলতে এইবারে কাছে এসে ধমক দিয়ে বলল, চল ভাগ এখুনি। ডাক্তার আর গবেষক বলল, এসো ভাই তুমি, তুমি স্বাভাবিক নেই। রেগে গেল সে। আমি যাব না তোরা যাবি দেখাব! ইঞ্জিনিয়ারের খুব কাছে চলে আসাতে হাল্কা করে ঠেলে সরিয়ে দিল। তাতেই সে চিৎকার করে বলল দেখবি, আমার গায়ে হাত। ফোন বের করল। ডাকল কাউকে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গোটা সাতেক লোক আসল, এসেই কোনো কথা নেই, ইঞ্জিনিয়ারকে সপাটে চড়। ঝামেলা বাধল খুব। আরও লোক আসছে বলে জানা গেল। লোক এল, ভয় দেখাল, চলে গেল। বিকেল হতে দেখা গেল, হাতে উইকেট ব্যাট নিয়ে, অন্তত জনা পঞ্চাশেক মারমুখী লোক আবার এল। গবেষকের বাড়ি ছিল সামনেই। তাকে বের করে এনে ক্লাবে নিয়ে যেত চাইল। ইঞ্জিনিয়ারকেও হাঁক পাড়ল। অবস্থা এই মারে কি সেই মারে! বলল, লোক দেখেছিস তো সবাই মিলে ক্যালালে গণপিটুনির কেস হবে, পুলিশ কিস্যু করতে পারবে না। ইঞ্জিনিয়ার-গবেষক ভয় পেয়ে গেল। এমতাবস্থায় নানান রফার পরে জানা গেল, তিনজনের বাড়ি থেকে বেশ কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কেননা টাল-মাতাল ছেলেটি নাকি খুব আহত হয়েছে। যাই হোক এরপরে টাকা-পয়সা দিয়ে ব্যাপারটা মিটল। এইখানে বলে রাখা দরকার যে, এদের সকলের অন্য আরেকটি পরিচয়ও আছে। ডাক্তার-গবেষক-ইঞ্জিনিয়ার হল ধর্মে হিন্দু, আর টাল-মাতালসহ জনা পঞ্চাশেক হল মুসলমান। গোটা হিন্দু পাড়ার লোক এই ঘটনা দেখেছে।

ভাবুন তো যদি কেউ একবার বলত, হিন্দু পাড়ায় মুসলমানরা আক্রমণ করেছে - কী কী হতে পারত! এরকম ঘটনা ওই-এই-সেই পাড়ায় আকচার ঘটে। আবার একইসঙ্গে উল্টোটাও। তখন তিনজন বা একজন হয়ে যায় মুসলমান আর বাকিরা হিন্দু। আসলে ঘটনাটা কে কীভাবে দেখছে সেটা মোদ্দা কথা। ওই তিনজন দেখেছে অন্যভাবে। ওরা বলেছিল, একদল বেকার নেশাগ্রস্ত যুবক অর্থ আদায়ের জন্য ফন্দি এঁটেছিল, কেননা তখন কোনো উৎসব ছিল না যে চাঁদা তোলা যেত। তাই এই ব্যবস্থা। কিন্তু এই তিনজন যদি সেই চড় মারা হাতের লোকটাকে কিংবা যে লোকটা ক্লাবে নিয়ে যাবে বলে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করেছিল অথবা যে ৩০বছরের যুবার পায়ে ধরে কেঁদেছিল ওদের মা’রা, সেই লোকগুলোকে শাস্তি দিতে চেয়ে স্রেফ "জয় শ্রী রাম" বলে চেঁচিয়ে ওঠে, তাদের কি দোষারোপ করতে কেউ পারবে?  বলতে কি পারবে, শিক্ষিত অশিক্ষিতের দ্বন্দ্বকথা! কেননা মাকে যারা পদদলিত করে কাঁদায় তাদের শাস্তি দিতে চাওয়া ছেলের কোনো ধর্ম হয় না শিক্ষার স্তর হয় না, যেটা হয় সেটা হল স্রেফ আবেগ। সুতরাং আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে সবটার বিরুদ্ধেই, একপেশে কথা দেশে বিভাজনের রেখাটিকে আরও মোটা করে তুলবে বই মুছে দেবে না। নাটকে তাই আমরা সামগ্রিক চিত্রটিকেই দেখতে চাই।

এছাড়া আছে আরও একটি খটকা। সেটা হল সাগিরের বাড়ির লোকের কোনো মনোভাব দেখতে না পাওয়া। তার বোন আশমা অবশ্য ব্যাপারটাকে মেনে নিয়েছে বলেই দেখা গেল কিন্তু আমরা জানি যে শরিয়তি আইনে মুসলমান যদি অন্য ধর্মে বিয়ে করে তবে প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করতে হয়, নইলে বিয়ে জায়েজ হয় না। ময়না কি তাতে রাজি ছিল? সেই উত্তর সম্ভবত না। ফলে এমনটা নয় যে, মুসলমান বাড়ি খুব সহজেই একজন হিন্দু মেয়েকে বৌমা হিসাবে মেনে নেবে, সেখানেও যথেষ্ট আপত্তি বাড়ির তরফে দেখা যায়, সে-কথা এখানে বলা হয়নি। তাই সাগিরের স্বপ্নে আম্মা-আব্বা কিংবা মৌলবি নয়, মারমুখী হিন্দু সমাজ উঠে আসে। ফলে ব্যাপারটা এমন হয়েছে যেন, মুসলমানরা খুব রাজি যে তাদের ছেলেরা হিন্দুর মেয়েকে বিয়ে করছে এই আনন্দে। তা কিন্তু মোটেই নয়। আবার হিন্দুর মেয়ে যদি শিখ-খ্রীস্টান-জৈন ইত্যাদি ধর্মের কাউকে বিয়ে করত তাহলে কতটা হুলুস্থূল বাধত সে-চিত্রও এখানে অধরা। সেটা থাকলে বোঝা যেত, অন্য ধর্মের প্রতি হিন্দুর মনোভাবটিকে। তুলনা করা যেত মুসলমানের ছোঁয়াচ বাঁচানোর স্তরের পরিমানের সঙ্গে। কিন্তু সেটা আমরা পাইনি। সব মিলিয়ে হিন্দুর তরফে মুসলমানের প্রতি বিতৃষ্ণা আর মুসলমানের তরফে হিন্দুর প্রতি বিদ্বেষ – এই উভয় চিত্রকে একই ফ্রেমে সার্বিকভাবে না দেখলে একটা একপেশে মনোভাব সৃষ্টি হয়। আমরা জানি যে, এক নাটকে সব কিছু দেখানো যায় না। কিন্তু তাই বলে সেই একই থোড়-বড়ি-খাড়া পক্ষপাতদুষ্ট চিত্র দেখানোও কি ঠিক? আমাদের প্রত্যাশিত প্রতিবাদটি তো হল, বিতৃষ্ণা ও বিদ্বেষগুলিকে মান্যতা দেওয়ার রাজনৈতিক প্রয়াসটির বিরুদ্ধে। সেটাকেই যদি সবলভাবে না দেখা যায় তবে নাটকটিকে কিছুটা দুর্বল ভাবতেই হয়।

লেখক যে-রাজনীতির কথা বলেছেন তা আরও তীক্ষ্মভাবে বলা যেত। নব্যরক্ষণশীল বনাম নব্যপ্রগতিশীলের দ্বন্দ্বময়তাকে আরেকটু অন্য আঙ্গিকে দেখা যেত। এখানে আমরা একটু হতাশ হই। কেননা রাজনৈতিক নাটক হতে-হতে যেন নাটকটি সেই ওল্ড ওয়াইন প্রেজেন্টেড ইন আ নিউ বটল উইথ আ মেলোড্রামাটিক ক্লিশে স্টাইল হয়েই থেকে গিয়েছে বলে আমার ধারণা। এর বক্তব্য আরও স্বচ্ছ ও গভীর হতে পারত। নতুন সত্য উদ্ঘাটন করতে পারত। তবে এও স্বীকার করতেই হবে যে, নাটকের টান এই হালকা চালটিকে সহজে বুঝতে দেয় না। এক অসামান্য গতি নাটককে ধরে রাখে। এই খোলসটাই হল নাটকের নিউ বটল, মূল আকর্ষণ।

যাই হোক, নাট্যকার অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে নিজের প্রতিবাদটি জানিয়েছেন। দেশজুড়ে যে-ভয়ের আবহ তৈরি করা হয়েছে তার প্রভাব যে একটা ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীতেও কীভাবে এসে লেগেছে সেটাকে নিখুঁতভাবে দেখিয়েছেন। এমনকি এর থেকে মুক্তির পথও বাতলেছেন। তিনি ভালোবাসার ভোজ খাইয়েছেন। ভুলে যেতে বলেছেন, জাত-ধর্মের বেড়াজালগুলিকে। কবে সেটা পারা যাবে জানি না, তবে পারতেই হবে। তিনি গান গেয়েছেন,

প্রাণের সঙ্গে প্রাণের মিলন

মন মিলেছে মনে

কী এসে-যায়

হিন্দু মুসলমানে?

 

আমরা সকলেই চাই এই গানই হয়ে উঠুক সকল দেশবাসীর অন্তরের গান। যে-ভারতবর্ষ ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা, তো সুর বনে হামারা’ গেয়েছিল, বিগত কয়েক বছরে যেন সেই সুরটাকেই কিছুটা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে এক অ-ভারতবর্ষকে। লেখক সেই অ-ভারতবর্ষের বিরুদ্ধেই রচনা করেছেন এই নাটকটিকে। আর কিছু না হোক, এই নাটক যে মিলনের সুরকেই প্রচার ও প্রসার করবে তা অনস্বীকার্য। আমি আন্তরিকভাবে এই নাটকের সাফল্য কামনা করি। শুভেচ্ছা জানাই সকলকে।