গতি নেই, গতি নেই ওর দু-পা জড়িয়ে ধরে কান্না ছাড়া আর কোনও
গতি নেই । যতক্ষন পর্যন্ত না ও, “আচ্ছা বাবা আচ্ছা হয়েছে, আর কাঁদতে হবে না”- বলে,
দুহাত দিয়ে তুলে নিয়ে, কপালে চুমু খাবে, মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে ততক্ষন এ অস্থিরতা
মিটবে না । তারপর আস্তে আস্তে চারপাশে যত আওয়াজ খামোকা মাথা গরম করছিল এতক্ষন, সব
চুপচাপ হয়ে যাবে । একটা দীর্ঘশ্বাস বেরোবে, ঘুম আসবে । শান্তি শান্তি শান্তি ।
নিশ্চিন্তি নিশ্চিন্তি নিশ্চিন্তি ।
সুতরাং ওর কাছে ফিরতেই হবে ।
সুখ নামের যে ডানাওয়ালা সফেদ অশ্ব তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়, প্রথম
প্রথম মনে হয় পেয়েছি, এই তো পেয়ে গেছি, এই তো চেয়েছিলাম, এরপর সব হবে, আসলে সে
সাদা নয়, ডানাওয়ালা নয়, এমনকি অশ্বও নয় । তার চেহারা কিরকম সেটা যারা বোঝার তারা
ঠিকই বুঝবে, আমি শুধু জানি সুখের রঙ কালো, সে কিছুটা চুপচাপ ধরণের, মানে বাড়ির পাঁচ
রোজগেরে ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র বেকার ভাই, মর্যাদাহীন, গরিমাহীন, অকুলীন গোছের একটা
দূর দূর ছেই ছেই ব্যাপার । সে পাড়ার রকে বসে আড্ডাও দেয় না আবার কিছু একটা করতে
হবেই বলে দিনরাত চিন্তাও করে না । সে যখন কোনও এক দাদার সঙ্গে মুট বইয়ের মত পাহাড়ে
কিম্বা নিরিবিলি সমুদ্রে কিম্বা জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায় নিজের ইচ্ছেই, তখন
সে গান ধরে গলা ছেড়ে, হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখে সমস্ত শ্যাওলাধরা পৃথিবীর ঘুপচি কোণ
, আর তারপরেই হেসে ওঠে হো হো হো হো হো । ঘুরতে থাকে নিজের চারপাশে, জড়িয়ে ধরে
হাওয়া, নিশ্বাস নেয় প্রাণভরে, চেঁচিয়ে ওঠে নিজের ভেতরেই । আর এ সমস্তই তখন বৃষ্টি
হয়ে, আলো হয়ে, নদী হয়ে শত সহস্র নাম হয়ে কারো পরোয়া না করে ছড়িয়ে পড়ে ।
এর বন্ধু হতে গেলে তো অঙ্কে কাঁচা হতেই হবে, যার মধ্যে জীবন
আছে সে কি আর হিসেব করে বাঁচে । বাঁচে না বাঁচে না বাঁচে না ।
অথচ পাটিগণিত ছাড়া এ অস্তিত্ব অচল । তাইত মাঝেমধ্যে নিজেই
নিজের ওপর হেসে উঠতে হয় । তখন কাঁদতে কাঁদতে পা জড়িয়ে ধরা ছাড়া গত্যন্তর থাকে না ।
সব বুঝি সব বুঝি গো সব । তবু সে ময়লাটে এলোমেলো নামটার কাছে
যেতে ভয় লাগে । খুউউব ভয় লাগে । জানি তবু যেতে একদিন হবেই, ততদিন না হয় আজকের মত
এমনি করে খানিকক্ষন করে এসে জিরিয়ে যাওয়াই সই ।
