Thursday, 31 October 2013

আমায় থাকতে দে না আপন মনে –




         শোকের কোনও উত্তাপ নেই , শুধু একটা যন্ত্রনা আছে মনের অন্তরালে যা ক্রমাগত দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে আমি রোজ সম্পূর্ন পুড়ে ছাই হই আবার পরেরদিন বেঁচে উঠি পূনর্বার ছাই হবার প্রস্তুতি নিয়ে আমার ভালোবাসা প্রতিদিন আমায় প্রত্যাখ্যান করে তবুও আমার অনীহা নেই তার প্রতি প্রলেপের মতন করে প্রতিরাত্রে সময় আমার বুকে এনে দেয় তীব্র বেদনার আবেশ , আমি উঠে বসি , আগলে ধরি ঝড় তোলপাড় হয় আমার স্বপ্ন , আমার অন্তরমহল প্রতিটা ভোরে আমি প্রত্যাশা করি সেই নারীর যে আমার ভালবাসাকে নয় আমায় ভালবাসবে সেই নারী যে তার আঁচল দিয়ে আমার ভয়ে ভরা শরীর থেকে ঘাম মুছিয়ে আমার মুখ টেনে নেবে তার বুকে আমি খুঁজে পাব জন্মকালীন স্নেহের অপার স্পন্দন কিন্তু সেই নারী বোধহয় এখন মরে গেছে
         
          আমি দেখেছিলাম কীভাবে আমার স্বপ্নের নারী মরে গেছিল কীভাবে চোখ বন্ধ হয়েছিল তার একটা কথাও আমি তখন বলে উঠতে পারিনি হয়তো আজও পারব না কেননা সেই মৃত্যুর কোনও প্রতিলিপি নেই শুধুমাত্র একপ্রকার অনন্ত অভিলাষ ছিল
    
           এখন দিন শেষ হয়ে এলে ঝরে পড়া রক্তিম সন্ধ্যায় তার মুখ আমার কাছে আসে সেখানে চিহ্ন আছে অবরোধের , সেখানে ঘৃণায় ভরা একটা প্রবল ষড়যন্ত্র আছে আমি তার পায়ে ধরে মিনতি করি আমাকে মুক্তি দেবার কিন্তু সে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে আমার প্রত্যেকটা রোমকূপে ঢেলে দেয় বিষ আমি ছটফট করতে থাকি আর সে হাসতে থাকে উন্মাদের মত
        
        আজ আমি নিজেকে তার মত করে সাজিয়ে ফেলেছি তার বিষকেই আমি আমার বেঁচে থাকার আবরন করে বুনেছি জীবনের জাল সে জানে না প্রত্যাখ্যানেই খুঁজে নিয়েছি প্রত্যাশাহীন গন্তব্য এখন আমি রোজ অপেক্ষা করি এই ভেবে যে , আমাকে পুড়িয়ে তুমি খুঁজে পাও সুখ , যে সুখ আমি দিতে পারিনি অন্তত নিজেকে আজ সঁপে দিয়ে যদি দিতে পারি সেই আনন্দ তবে তাই হোক শুধু তুমি জানবে না , জানবে না কোনোদিনও

Wednesday, 9 October 2013

Freedom is the recognition of necessity ::


Freedom is the recognition of necessity ::

বস্তুজগৎ নাকি মায়াজগত কী হিসেবে দেখব আমাদের এই বাসভূমিকে ? যদি ভোরবেলা বৃহৎ নীল আকাশের মাঝে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ দেখি আর তার নীচে  একটি মহীরুহ দেখতে পাই , শুনতে পাই সদ্য জেগে ওঠা পাখিদের কিচিরমিচির , কিংবা গুটিকয় মানুষের প্রাতঃ ভ্রমন , হয়তবা এক টুকরো সঙ্গীত আচমকা কানে এলো কি ভাববো তখন !

আমার প্রজন্মে কেউই job-satisfaction পায় না , সেটা পাওয়া সম্ভব নয় বর্তমানে এমন এক সময়ে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি যে honesty বা non-compromising  এর মত কোনো শব্দের অস্তিত্ব নেই একদম প্রথম থেকে কিছু সংস্কার (এর বোঝা) আমরা মাথায় নিয়ে আলো দেখেছি পৃথিবীর সেগুলো যৌক্তিক না শুধুই প্রচলিত সেটা নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই তারপর থেকে শুধু নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে নানারকম মিথ্যে ভড়ং এবং মনের বিরুদ্ধে গিয়ে সব কাজ করা ইচ্ছে না হলেও আমরা বাধ্য , বাধ্য কিছু ইতিহাসের ভয়ে , বাধ্য কিছু টানাপোড়েনের দায়ে , বাধ্য কিছু জৈবনিক বোধের মর্যাদা রক্ষার অলিখিত চুক্তিতে যারা যত adjust  করতে পারে তারা ততই সুখি কিন্তু satisfied নয় ফলে এক বৃহৎ মানসিক হতাশাগ্রস্থতার গণ্ডির বিস্তার বাড়ছে , সেটা আমাদের দেশের কবির সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায় কর্পোরেট মালিকানার বাজার , নয়া সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো , সংসদীয় গনতন্ত্রের ওপর পুঁজির নিয়ন্ত্রন , ultra freedom (neoliberalism নয়) ,  মিডিয়া কর্তৃক প্রচারিত সম্পূর্ন বা প্রায় সম্পূর্ন illusory ধারনার প্রচার সাধারন চাহিদাকে শাসন যন্ত্রের বাইরেই ফেলে রাখে এরপর ক্রমাগত অর্থনৈতিক গলনের চাপে আমরা রোজ একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুম থেকে উঠি এরপর পৃথিবী কিরুপে ধরা দেবে আমাদের কাছে ?
আসলে যে ব্যবস্থাটা আমাদের নিয়ন্ত্রন করছে সেটা আমাদের ওপর দ্বৈতসংঘাতের অভিঘাত এনে দিয়েছে যার জন্যে দোষারোপ হয় কিন্তু প্রতি- দোষারোপের কণ্ঠের সামনে আমাদের ক্ষুব্ধ হবার অধিকার থাকে না ফলে নিয়ন্ত্রনহীন এক প্রবৃত্তির তাড়নায় প্রতিমূহূর্তে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি বিলোপের পথে কী চাইছি ?” সেটাই এখন সবচেয়ে বড় আত্ম-জিজ্ঞাসা কেননা প্রয়োজন ও বিলাসিতার মধ্যে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব কাজ করলেও একটা পার্থক্যহীন সমঝোতা আছে কিসের জন্যে স্বাধীনতা , কিসের জন্যে আন্দোলন , কিসের জন্যে বিপ্লব সেটার সুস্পষ্ট ধারনা না থাকলে কোনও কিছুতেই ব্যাপ্তি পাওয়া যায় না
এই যেমন , যৌনতা এমন এক অবস্থানে এসে গেছে যে একে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটাই আমরা ধরতে পারছি না ফলে perversion আসছে , আর আমরা সেটাকেই অবদমিত অধিকারবোধ ভেবে ভুল লড়াই করছি আসলে যৌনতা উপভোগের কোনও cultural sense বাকি নেই , সেজন্যে না সেটা তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা না ভালবাসার আবেগের যে অনুভূতি তার সাবলীল স্ফুরণ স্বাভাবিক নরনারীর ক্ষেত্রে love = sex + culture এই সমীকরণটা বাতিল হয়ে যাচ্ছে যদিও এটাই বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য

বহুমাত্রিক চেতনাসত্তা এই যুগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রত্যেকটা কণ্ঠস্বর উঠবে কিন্তু প্রত্যেকটার দাবি যেমন বহুমাত্রিক হবে তেমনি তীব্রতাও তাই হতে হবে নির্নিমেষ জাগরণ শুধু নয় , নৈতিক সভ্যতার (moral civilization) কাঠামো প্রস্তুতির পরিকল্পনাও একত্রে ক্রিয়াশীল করার কথা ভাবতে হবে আবশ্যক প্রয়োজন বা চাহিদা কোনটা সেটা প্রথমে বিচার করতে হবে তারপর তার শর্তগুলো , ত্রুটিগুলো , ভ্রান্তিগুলোকে সংশোধন বা আমূল পরিবর্তনের জন্যে নির্ধারিত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে তবেই জগত সত্যিরূপে নিজেকে প্রকাশ করবে

Friday, 4 October 2013

LIFE BEGINS ..............................................





আজ সকাল ৪ঃ৩৬ ......


ছাদে গেলাম আলো তখনও মৃদু নীচে চালিয়ে যাওয়া বীরেন্দ্রকৃষ্ণ আর পাশের পাড়ার মসজিদ থেকে আকাশে ভেসে আসা নামাজের ধ্বনি মিলেমিশে এক অদ্ভুত আবেশ তৈরী করছে মন অনেকদিন পর নিবিড় হচ্ছিল নিজের সাথে

হিন্দু বাঙলীর কাছে এই সকালটা অন্যান্য সাধারন সকালের মত নয় আজ ভোরে ওঠার দিন রেডিও চালিয়ে কিংবা ভিসিডিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র প্লে করার দিন বাজি ফাটাবার দিন সকালটা গাঢ় হলে টিভিতে পরিচিত সিরিয়াল-কন্যাদের দেবীরূপে অভিনয় দেখার দিন সব হয় , নিজের নিয়মেই হয়

কিন্তু আজ আমার ছেলেবেলা আর হয় না , নিয়মেই হয়না রাস্তায় পুঁচকেগুলোকে এক হাতে ধূপকাঠি আর এক হাতে চিকচিকিতে কালিফটকা চকলেট বোম নিয়ে এক মোড় থেকে অন্য মোড়ে দাপাদাপি করতে দেখলে ঠোঁটে কোনে মূদু হাসি আর অন্তরে স্মৃতি জেগে ওঠে আমার ছোটবেলা আমাকে কোনোদিন নিরাশ করেনা আমার মন যখন ব্যাথা পায় কষ্ট পায় আমি তার কাছে যাই সেখানে আমার বড়দা আছে আমার বড়বেলায় তো সে নেই miss  করি কি ! না করি না করার কোনো কারণ নেই ছেলেবেলাটার সবটাতে সে আছে , সেখানেই থাকুক বড়বেলাটা আমি একাই কাটিয়েছি , কাটাবও

ইদানিং , এই বাচ্চাদের আর ভালবাসতে ইচ্ছে হয় না আসলে যে শৈশবকে আমরা বুকে আগলাতে চাই সেই শৈশব আর এদের নেই এই প্রজন্মের বাল্যে কৈশোর আসে , কৈশোরে যৌবন আর ... ... এরা অতি দূর্ভাগা স্বার্থবোধ , হিংসা , ঔদ্ধত্য , অহংকার , অসততা এবং একাকীত্ব একটা অসাড় প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটিয়েছে এরা বোমহাতে নিছক আনন্দ করে না মানুষকে উৎপাত করে এক উল্লাস-আমোদে  মেতে ওঠে বেডরুমে , বাথরুমে এমনকি দূর থেকে গায়ে বোম ফাটিয়ে এদের ভারি মজা প্রশ্ন হয় দোষ কি খালি এদের ? না পুরোটাতো নয়ই জীবনের বেশীরভাগ অধ্যায় যে পিতামাতার আপোষ করতে , কূটকাচালি করতে আর অন্যকে কাঠি দিতে দিতে  চলে গেছে সেই পিতামাতার , অর্ধনগ্ন বিজ্ঞাপণ দেখানো সামাজিক নিম্নস্তরের নির্মাতাগনের , SSC পেয়ে পড়াশুনা ভুলে যাওয়া কিংবা ডান-বাম তেল মেরে জোটানো শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত সরকারি লোকগুলো এদের , আমার আপনার কি কোনো দায় নেই ?

আলো ফুটতে শুরু করেছে বাজির তীব্র শব্দ ক্রমশ কমে আসছে রাস্তায় রাস্তায় দড়িপাকানো পোড়া খোলগুলো পড়ে আছে যে যার ঘরে ফিরে গেছে  নিয়ন্ত্রনহীন প্রবৃত্তিকে সঙ্গে নিয়ে আমি নীচে নেমে এলাম পাশ থেকে অস্পষ্ট ভাসা-ভাসা কন্ঠে কেউ যেন বলল , আর কতটা ? আমি এদিক সেদিক তাকালাম , কিন্তু থামলাম না

তারপর ... ... ... ...