Freedom is the
recognition of necessity ::
বস্তুজগৎ নাকি মায়াজগত – কী হিসেবে দেখব আমাদের এই বাসভূমিকে ? যদি ভোরবেলা বৃহৎ নীল আকাশের মাঝে ভেসে বেড়ানো সাদা
মেঘ দেখি আর তার নীচে একটি মহীরুহ দেখতে পাই , শুনতে পাই সদ্য জেগে ওঠা পাখিদের কিচিরমিচির , কিংবা গুটিকয় মানুষের প্রাতঃ ভ্রমন , হয়তবা এক টুকরো সঙ্গীত আচমকা কানে এলো কি ভাববো তখন
!
আমার প্রজন্মে কেউই job-satisfaction পায় না , সেটা পাওয়া সম্ভব নয় । বর্তমানে এমন এক
সময়ে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি যে honesty বা non-compromising
এর মত কোনো শব্দের
অস্তিত্ব নেই । একদম প্রথম থেকে কিছু সংস্কার (এর বোঝা) আমরা মাথায় নিয়ে আলো দেখেছি পৃথিবীর । সেগুলো যৌক্তিক না শুধুই
প্রচলিত সেটা নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই । তারপর থেকে শুধু নিজেকে
বাঁচিয়ে রাখার জন্যে নানারকম মিথ্যে ভড়ং এবং মনের বিরুদ্ধে গিয়ে সব কাজ করা । ইচ্ছে না হলেও আমরা বাধ্য , বাধ্য কিছু ইতিহাসের ভয়ে , বাধ্য কিছু টানাপোড়েনের দায়ে , বাধ্য কিছু জৈবনিক বোধের মর্যাদা রক্ষার অলিখিত
চুক্তিতে । যারা যত adjust করতে পারে তারা ততই সুখি কিন্তু satisfied নয় । ফলে এক বৃহৎ মানসিক
হতাশাগ্রস্থতার গণ্ডির বিস্তার বাড়ছে , সেটা আমাদের দেশের কবির সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায় । কর্পোরেট মালিকানার বাজার , নয়া সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো , সংসদীয় গনতন্ত্রের ওপর পুঁজির নিয়ন্ত্রন , ultra freedom (neoliberalism নয়) , মিডিয়া কর্তৃক প্রচারিত সম্পূর্ন বা প্রায় সম্পূর্ন illusory ধারনার প্রচার সাধারন চাহিদাকে শাসন যন্ত্রের
বাইরেই ফেলে রাখে । এরপর ক্রমাগত অর্থনৈতিক গলনের চাপে আমরা রোজ একরাশ
দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুম থেকে উঠি । এরপর পৃথিবী কিরুপে
ধরা দেবে আমাদের কাছে ?
আসলে যে ব্যবস্থাটা আমাদের নিয়ন্ত্রন করছে সেটা আমাদের ওপর দ্বৈতসংঘাতের
অভিঘাত এনে দিয়েছে । যার জন্যে দোষারোপ হয় কিন্তু প্রতি- দোষারোপের
কণ্ঠের সামনে আমাদের ক্ষুব্ধ হবার অধিকার থাকে না । ফলে নিয়ন্ত্রনহীন এক প্রবৃত্তির তাড়নায় প্রতিমূহূর্তে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি
বিলোপের পথে । “কী চাইছি ?” সেটাই এখন সবচেয়ে বড় আত্ম-জিজ্ঞাসা । কেননা প্রয়োজন ও বিলাসিতার মধ্যে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব কাজ করলেও একটা
পার্থক্যহীন সমঝোতা আছে । কিসের জন্যে
স্বাধীনতা , কিসের জন্যে আন্দোলন , কিসের জন্যে বিপ্লব সেটার সুস্পষ্ট ধারনা না থাকলে কোনও কিছুতেই ব্যাপ্তি
পাওয়া যায় না ।
এই যেমন , যৌনতা এমন এক অবস্থানে এসে গেছে যে একে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটাই আমরা
ধরতে পারছি না । ফলে perversion আসছে , আর আমরা সেটাকেই অবদমিত অধিকারবোধ ভেবে ভুল লড়াই করছি । আসলে যৌনতা উপভোগের কোনও cultural sense বাকি নেই , সেজন্যে না সেটা তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা না ভালবাসার আবেগের যে অনুভূতি তার
সাবলীল স্ফুরণ । স্বাভাবিক নরনারীর ক্ষেত্রে love = sex + culture এই সমীকরণটা বাতিল হয়ে যাচ্ছে যদিও এটাই
বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ।
বহুমাত্রিক চেতনাসত্তা এই যুগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য । প্রত্যেকটা কণ্ঠস্বর উঠবে কিন্তু প্রত্যেকটার দাবি যেমন বহুমাত্রিক হবে তেমনি
তীব্রতাও তাই হতে হবে । নির্নিমেষ জাগরণ শুধু নয় , নৈতিক সভ্যতার (moral civilization) কাঠামো প্রস্তুতির পরিকল্পনাও একত্রে ক্রিয়াশীল
করার কথা ভাবতে হবে । আবশ্যক প্রয়োজন বা চাহিদা কোনটা সেটা প্রথমে বিচার করতে
হবে তারপর তার শর্তগুলো , ত্রুটিগুলো , ভ্রান্তিগুলোকে সংশোধন বা আমূল পরিবর্তনের জন্যে নির্ধারিত পদক্ষেপ গ্রহন করতে
হবে । তবেই জগত সত্যিরূপে নিজেকে প্রকাশ করবে ।
No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..