Sunday, 24 August 2014

She is with me but not one of me.




জীবনটা দুম করে ফুরিয়ে যাবার নয় , আস্তে আস্তে একটু একটু করে নিজেকে মেলে দেবার আবার গুটিয়েও নেবার । অন্তঃসারশূন্য এই দিনগুলো আসবেই এবং পেরিয়ে যাবেই । কদিন ধরেই একটা নেশাতে আচ্ছন্ন থাকলাম এবার নতুন নেশা দরকার ।  এখন কিছু সময় অতীতের কথা মনে হয় – দিনগুলো ভাল – না না খারাপ – না অতটাও খারাপ নয় যদিও – তবে তেমন কিছু ভাল কি – এই সব জানা অজানার মাঝে থেকে যাবে আমার প্রতিটি কাটিয়ে দেওয়া সময় । কদিন ধরে খালি স্বপ্ন দেখছি - যা কিছু হতে চেয়েছিলাম – যা কিছু হতে চাই – যা কিছু হয়েও হতে পারব না – যা কিছু না হয়েও হয়ে যাচ্ছি । কি যে বলি সব কিছুই যেন জট পাকাতে পাকাতে জটীল হয়ে যাচ্ছে । গতকাল এক বন্ধুর কথা দুম করে মনে পড়ে গেল । কতদিন যে তার সঙ্গে দেখা নেই , কথা নেই । অথচ ... থাক সেসব। ফোন করতে গিয়ে জানলাম নম্বরটা পালটে নিয়েছে । কোথায় আছে কে জানে ? ওদের মধ্যেই কেউ আমাকে মৈথুনের রহস্য শিখিয়েছিল , হাতের কাছে পেলে ওকে চুমু খেতে খেতে হেবি কেলাব । 
 
ক’বছর আগেও আমার বেশ কিছু প্রেমিকা ছিল । এখনও তারা প্রেমিকাই আছে তবে অন্য কারও । আমি ভেবে রেখেছি , যে বাড়িটাতে আমি থাকব তার নাম দেব “প্রাক্তন প্রেমিকাদের জন্য” । এই তো কদিন আগে মদ খেয়ে মাঝরাত্রিরে একজনকে ফোন করে দেখা করতে বলেছিলাম কিন্তু সকালে উঠে ভুলেই গেছি । আমি জানি নিশ্চিত সে এটা পড়বে , আমি জানি কিছুজন আছে কিন্তু কমেন্টবক্সে বা লাইকে তারা জানান দেয় না , অন্যভাবে না জানিয়ে থাকতেও পারে না – তাই আমি জানি । শোন পাগলি , আজও তোকে ভালবাসি, শুধু আর বলার মত সময় আমার নেই । আচ্ছা কাকে এখন চুমু খাচ্ছিস – দিলদারটি কে ? যেই হোক তোর সেই সুতির ওড়নাটা আমি আজও হারাই নি , তাই তার পাওয়ার কোনও চান্স নেই । 

আমার চেহারা দিন দিন আরও ভারি হচ্ছে , এদিক সেদিক মেদের ছড়াছড়ি । কিন্তু প্রেমে মেদ জমতে দিইনি একটুও । আসলে আমার মত করে ওটাই তো রয়ে যাবে । ইদানীং চুল কাটছি না , তুই জানিস কি ? জানি না কেন তবে মনে হয় তোর চুলের যে ঘ্রাণটা আমার ভীষন প্রিয় ছিল সেটা পাবার জন্যই হয়তো , কেননা আগের দুবছর পরে তোর থেকে সে রহস্য আমি জেনে নিয়েছিলাম । এখন আবার দুবছর কাটিয়ে দিবি নাকি সারাজীবন পেরিয়ে গেলেও দুবছর কিছুতেই কাটবে না । 

বিবেকানন্দকে আমি আজও সেই একই চোখে দেখছি , প্লিজ ঝগড়া করিস না । আচ্ছা , আমার গায়ে জল দিতে গিয়ে তোর সেই পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটা মনে আছে নিশ্চয় । আমার আজও হাসি পাচ্ছে । শুধু যে কান্নাগুলো দায়ী সেগুলো ভুলে গেছি । 

আমি তোর কাছে ভয় কিন্তু ভাল করে ভেবে বলতো তুই কি আমার কান্না ছিলি না হাসি – তোকে কেন তবে ভুলে যাই আবার মনেও করি । বল না রে ... 

উফঃ এইরকম কত কি ৮০৩০ দিনে জমে উঠেছে , হারিয়ে গেছে । এখন শুধু জানি জীবনটা দুম করে ফুরিয়ে যাবার নয় , আস্তে আস্তে একটু একটু করে ... । তবে ভাবছি এই নেশাটা শেষ করে তবেই পরের নেশাতে যাব আর মাঝরাস্তায় কোনও কিছু ছেড়ে চলে আসব না ।

Sunday, 3 August 2014

হিপোক্রীট ইলিউসন নতুবা মৃতদেহ জড়িয়ে কান্নার হাহাকার




যতদিন আলো আছে আমাদের জাগিবার শেষ অবসর
যতদিন রয়েছে এ পৃথিবীতে ,- উচ্ছৃঙ্খলের সৃজনের পানে
আমরা তাকায়ে রব ততদিন ; - যদি কোন শৃঙ্খলার গানে
আকাশ ভরিতে পারি ,- শান্ত করে দিতে পারি পৃথিবীর জ্বর
আমাদের গানে যদি ; - হাত ধরে আসিয়াছি তাই পরস্পর !
জীবনানন্দ দাশ

জীবনের সব আনন্দ সব কোলাহল সব অবসাদ সব প্রতিবাদ ছেড়ে এবার আশ্রয় নিতে হবে আদিম গুহাজীবনের প্রাথমিক অবসরে । জনরব উঠবে কাপুরুষ কিংবা ভীরু বলে কিন্তু তবুও সেই স্থবির জনরবের প্রকৃতি নির্ধারন হেতু যেতে হবে এবং তখনই এই কাপুরুষতার এই ভীরুতার দূর্দম কারনের সন্ধান পাওয়া যাবে । যত লড়াই যত যুদ্ধ যত মিছিল যত সমাবেশ সবই যেখানে কেতাদুরস্ত হাল ফ্যাসানের নগ্ন চিকারে পরিণত হয়েছে সেখানে অনন্যোপায়হীন এক বিচ্ছিন্ন আমি’র দীর্ঘ ছায়া কাকে আশ্রয় করবে ? কেউ বলতে পারবে না তার উত্তর । তবে কেউ কেউ বলবে হতাশার বীজ এখন মহীরুহ তোমার হৃদে । তাদের আমি এই বলে হত্যা করব , অন্তরতম কক্ষে ঝুঁকে দেখো হে নির্জীব জ্ঞানী , হয় সেখানে হিপোক্রীট ইলিউসনের জাল দেখবে নতুবা মৃতদেহ জড়িয়ে কান্নার হাহাকার ।

ধ্বংস ব্যতীত সৃষ্টি অসম্ভব । জীবনের কোনও এক ক্ষেত্রে নতুন কিছুর সঞ্চার হলে অন্য দিকে কোনও কিছুর ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী , তা আমাদের জ্ঞানের সীমানায় হোক বা তাকে পেরিয়ে । এই লয়হীন বলয়ের সৃষ্টিকাল থেকে তার ধ্বংসের সময় পর্যন্ত যতদূর বিকশিত হবার তা হয়ে গেছে , এখন একে সংশোধনের নয় পরিমার্জনের নয় পরিবর্ধনের নয় , দরকার মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেবার । ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা দরকার । নতুন প্রান যারা দার্শনিক ত্বত্ত্বের আঁটি না চুষে সৃষ্টি করবে এক কাব্যিক সভ্যতা , যার অন্তঃকরণে শুধুই থাকবে মন্ত্র – চাষবাসের মন্ত্র , পড়ে থাকা ঘরবাড়ির জীয়ন্ত খড়ের মন্ত্র । 

কিন্তু সেই গুহাজীবনের আদিমপর্বে ফিরে যেতে হলে কাপুরুষ হতে হবে , ভীরু হতে হবে । কে পারবে সে সব , আমি ছাড়া ?