২৫শে ডিসেম্বর – মেরি খ্রীষ্টমাস জানাই সবাইকে –
তবে সঙ্গে জানাই আজ স্যার আইজ্যাক নিউটনের জন্মদিন, আজ মারকভনিকভের জন্মদিন, আজ
আর্নস্ট রুস্কারেরও জন্মদিন ।
আমাদের বেশিরভাগ মানুষের কাছে নিউটন মানে আপেল
পড়ার ঘটনামাত্র । কিন্তু বাস্তবে তো সেরকম কোনও কিছুই ঘটেনি । এছাড়া আমাদের সঙ্গে আছে
বহুপ্রচলিত কিছু ঘটনার গল্প যা প্রমাণ করে দেয় যে নিউটন সমস্ত কিছুই যেন ঐ আপেল
পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবিষ্কার করেছেন, ওটা না হলে যেন কিছুই হত না । আসলে, আমাদের
জানা নেই যে, নিউটন যখন ১৬৬১ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেন তখন তিনি
তৎকালীন যত বিখ্যাত বিজ্ঞান ও দর্শনের বই ছিল সমস্ত খুব গূঢ়ভাবে পড়াশুনা করেছিলেন,
যা তাঁর চিন্তাভাবনার আঙ্গিক বদলে দিয়েছিল । সেসমস্ত বইয়ের মধ্যে ছিল,
অ্যারিস্টটলের “অরগ্যানন” ও “এথিকস”, ইউক্লিডের “এলিমেন্টস”, গ্যালিলিওর “দায়ালগো”,
ডেকার্তের “জিওমেট্রিয়া” এবং “প্রিন্সিপিয়া ফিলোজফিয়া” ইত্যাদি । এদের মধ্যে
ডেকার্তের প্রভাবেই তাঁর নিজস্ব চিন্তাপদ্ধতি সবচেয়ে আন্দোলিত হয়েছিল । এই
একাকীত্বেভরা মানুষটা নিজের ২২ থেকে ২৪ বছর বয়সের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করে গড়ে
নিয়েছিলেন নিজের সৃজনশক্তিকে যা মানুষের চিন্তাভাবনা পাল্টে দিয়েছিল । তিনি আবিষ্কার করেন, নেগেটিভ ও ফ্রাক্সনাল
এক্সপোনেন্টের বাইনোমিয়াল শ্রেণি, ডিফারেন্সিয়াল ও ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস,
সৌরজগতের ভিত্তিস্তম্ভ হিসেবে আনেন গ্রাভিটির ধারনা, প্রিজমের মধ্যে দিয়ে সূর্যের
আলোর বিচ্ছুরণ, ইন্টারপোলেশন পদ্ধতি ইত্যাদি ইত্যাদি । তবে এসব কিন্তু তিনি
কিছুতেই প্রকাশ করতে চাননি । তিনি তাঁর ধারণাকে বহু পরীক্ষায় সফল না হলে প্রকাশ
করার পক্ষপাতী ছিলেন না । ১৬৮৪ সালে হ্যালি প্রথম ধারনা করেছিলেন যে, গ্রহগুলির
গতির পেছনে নিশ্চয় কোনও কেন্দ্রিয় ফোর্স কাজ করছে, কিন্তু এটিকে প্রমাণ করার মত
কিছু তিনি আবিষ্কার করেন নি । সেই মিটিং এ উপস্থিত নিউটন নিজের মতবাদের কথা তখন
প্রথম বলেন আর বলেন যে আমি এগুলি অঙ্ক কষে প্রমাণ করে দেখেছি । হ্যালি স্তম্ভিত
হয়ে বলেন, আপনি কি মানুষ মশাই ! আমরা যখন সবাই একই প্রশ্নের পিছনে ধাওয়া করছি আর
আপনি সেইসবের উত্তর জেনে ফেলে এখনও অপ্রকাশিত করে রেখেছেন কি করে ? এরপর নিউটন সেই
বিখ্যাত বই লেখা শুরু করেন দিনরাত জেগে । ১৬৮৭ সালে নিউটন প্রকাশ করেন তাঁর
বিখ্যাত বই “ফিলোজফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা” । বইটি তিনটি ভলিউমে বিভক্ত । বইয়ের ভাষা
অ্যাবস্ট্রাক্ট গণিতের। কেননা নিউটন বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছাড়া কারও কাছে সহজভাবে
নিজের আবিষ্কার প্রকাশ করতে রাজি ছিলেন না, তিনি মনে করতেন সবাই তাঁর আবিস্কারের
গুরুত্ব বুঝতে পারবে না ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে । তবে তিনি কিন্তু এ বইকে
দূর্বোধ্যও করেননি নিজের আবিস্কৃত ক্যালকুলাস পদ্ধতি ব্যবহার করে, কেননা তখনও এই
পদ্ধতি মানুষ আয়ত্ত করতে পারেনি । তিনি সেসময়ের লোকজন যে ভাষা বুঝতেন সেই
জ্যামিতির ভাষাতেই সে বই লিখেছিলেন যাতে কেউ কেউ সেটা বুঝতে পারে । এই বইয়ের
প্রথমভাগে তিনি তাঁর ব্যবহৃত সমস্ত টার্মসের বর্ণনা করেছেন ও ল’জ অফ মোশনের ধারনা
দিয়েছিলেন যেটা এই বইয়ের ভিত্তি । দ্বিতীয়ভাগে তিনি এগুলির ব্যবহার করে বিভিন্ন
মেকানিকাল সমস্যার সমাধানগুলি দিয়েছিলেন । এবং তৃতীয়ভাগে, তিনি বইয়ের মোদ্দা
কথাগুলি লিখেছেন, অর্থাৎ “সিস্টেম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” । তিনি এখানে কেপলারের
সুত্রগুলির সমাধান করেন এবং গ্রহগুলির গতির সমগ্র ধারণা দেন । এসব জানার পড়ে কেবল
মূর্খই বিশ্বাস করবে যে আপেল পড়ল আর নিঊটন সব ভেবে ফেললেন । এ আমাদের অযোগ্যতা যে
তাঁর বইয়ের ধারণা করতে না পেরে আমরা এসব গালগল্প ফাঁদি । এই বিশাল মানুষটার
জন্মদিন আমরা মনে রাখিনি, এও আমাদের দূর্ভাগ্য । আজ তাঁকে জানাই আমার হৃদয়ের সমস্ত
শ্রদ্ধা । ইনিই বিপ্লবের জন্মদাতা ।
![]() |
| Source : Internet |
বাকি দুইজনের কথা সামান্য বলে শেষ করব ।
মারকভনিকভ হলেন সেই নাম যিনি অরগ্যানিক রসায়নের যোগের সূত্র আবিষ্কার করেন ১৮৬৯
সালে যা অনুমান দেয় হ্যালোজেন হ্যালাইডের অ্যালকিনের দ্বৈতবন্ধনীর সঙ্গে বিক্রিয়ার
ফলাফলের । তাঁর এই আবিস্কারের পঞ্চাশ বছরের মধ্যে পাঊলিং তাঁর রেজোন্যান্সের
থিওরির জন্ম দেন । তিনি কার্বনের চারটে রিং, সাতটা রিং এরও আবিষ্কর্তা । এছাড়া
তিনি আইসোবিউটারিক ও বিউটারিক অ্যাসিডগুলি যে আইসোমার সেকথাও বলেন ।
অবশেষে, আর্নস্ট রুস্কার । ইনি ইলেকট্রন
মাইক্রোস্কোপের আবিষ্কর্তা । ইনি ১৯৮৬ সালে নোবেল পান ।
সুতরাং, যীশু থাকুন, নিশ্চিন্তে থাকুন । তাই বলে এঁরাই
বা বাদ যাবেন কোন অপরাধে ?

