Saturday, 16 November 2013

কেন এসেছিলাম বইমেলা গোষ্ঠীতে ?



কেন এসেছিলাম বইমেলা গোষ্ঠীতে*? আজ সে কথার উত্তর দিতে গেলে ফিরে যেতে হবে অনেক আগে যেখানে আবেগ এবং উদ্দাম যৌবনের এমন এক সন্ধান রয়েছে যা প্রত্যেক সত্তার চিরনবীনত্ব দাবি করে । সেই দিন যখন আমার সদ্য লেখা কবিতামালা , “নতুন কিছু একটা করতে হবে তো” এর উন্মাদনা আমাকে সম্পূর্ণ ছেয়ে রেখেছিল । আমার শহরকে আমি নতুন করে দেখতে চাইছিলাম । একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের চাহিদা আমার মস্তিষ্ককে ক্রমাগত জ্বালিয়ে দিচ্ছিল আগুন । পাল্টাতে হবে এই চিরাচরিত যাপনরীতি আমায় দৌড়তে বাধ্য করেছিল ।
তখন আমি তবলা বাজাতাম । এখনও যদিও ছাড়িনি , তবে এখন এটা শুধুই আমার জন্য । এস মোহিনী ফ্লুট দোকানে আমি বসে আছি । একটা লোক কেমন একটা সবসময় তড়বড় তড়বড় করে , সেখানে বসেছিলআমায় বলল তুমি কুশল দে কে চেনো ? আমি বললাম না তো । সে বলল সে কি , বর্ধমানে বিখ্যাত কবি সে , কত কবিতা সন্ধ্যা করে । জান না । আচ্ছা বেশ তুমি বরং শনিবার তিনকনিয়া বাসস্ট্যান্ডের সামনে অভিযান গোষ্ঠীতে এস । ওরা বইমেলা করে । আমি বললাম , যাব , আপনি থাকবেন ওখানে ? বললেন হ্যাঁ । সেই মত গেলাম ।
তারপর থেকে আমার প্রথম বইমেলা , বেশ কিছু কবিতা সন্ধ্যা , বেশ কিছু নতুন পরিচয় , বেশ কিছু নতুন পৃথিবীর মানুষের সাথে বন্ধুত্ব সমস্ত পেরিয়ে গেছে আজ অনেকদিন । যেদিন গেছিলাম সেদিন প্রচারিত হবার উদ্দেশ্য ছিল , কিন্তু তখন আমার বয়সও অল্প । ভাবতাম আমি যা লিখি সেটা অনবদ্য , এটাকে প্রকাশ করতেই হবে । তবেই সাহিত্য নতুন করে নিজেকে চিনবে । আহা কি আনন্দ হয় সে সব কথা এখন মনে পড়লে । আমি বুঝেছি আসল সত্যটা কিন্তু অনেকেই বুঝতে চায় না । যাক সেসব controversial কথা । আজ আমি সমালোচনা করতে বসিনি বইমেলার মাঠ আমাকে দিয়েছে এমন এক জীবনের সন্ধান যেখানে বেঁচে থাকার রসদ আছেবইমেলার মাঠ আমার কাছে এমন কটা দিন কাটানোর সুযোগ যেখানে শুধুই ভালবাসা আছে । কোনও চাহিদা নেই এর বেশী । বইমেলা কমিটির কোনও বিশেষ পদ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা , কোনও স্বার্থসিদ্ধির অভিপ্রায় কিছুই নেই । চারিদিকে একরাশ বইয়ের মাঝখানে থাকা , কচিকাঁচাদের হুল্লোড় , বড় কয়েকজনের ভারী আলোচনা , ঝালমুড়ি , অঙ্কিতা , শম্ভুকাকু , শুভজিতদা , অঞ্জনদা , নিরুপমদা , পার্থদা সবাইকে নিয়ে এক অন্য জগত যেটা আমার রোজনামচার থেকে ভিন্ন । আমি যাই , টুকটাক কিছু দ্বায়িত্বপালন করি আর টো টো করে চক্কর মেরে বেড়াই । ব্যাস আর কিছুই চাওয়ার নেই । অনেকখানি ভালবাসায় আমি আর এই বইমেলার মাঠ জড়িয়ে পড়েছি , কেউ তাড়ালেও আর যেতে পারব না । ১০টা দিন আমার কাছে খুব কোমলতার খুব আন্তরিকতার । বইমেলার মাঠের ওপর একটা অধিকারবোধ এখন আমার জন্মে গেছে , এ যেন শীতকালীন স্নেহের তীব্র লোভ , আর কি বলব । শব্দচয়ন হচ্ছে না যে এই অনুভূতিকে প্রকাশ করার জন্য । আজ কেন এতোগুলো কথা বললাম , কিছুই তো করিনি , তাহলে কোন অধিকারে এসব বললাম ? আমি আগ বাড়িয়ে কোনও কিছুতেই নিজেকে জোর করে ঢোকেতে পারিনা । পারিনা জায়গা দখল করতে । এ আমার চারিত্রিক কার্পন্য এবং দূর্বলতাআজ প্রথম নিখিলকাকু আমায় বইমেলার জন্য আলোচনার বিষয় ভাবার অধিকার দিল । এটাই আমার জায়গা যেটা আমি পারিএর বেশী কিছুই পারিনা যে আমিখুব কৃতার্থ হলাম । এই প্রথম অনুভব হল আমিও কিছু বলতে পারব বইমেলার জন্য । সে আমায় এত দিয়েছে আমি যা পারি সেটা থেকে সামান্য দিতে পারব এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি কিছুই নেই । এইটুকু অংশীদারিত্বই আমার কাছে অনেক ব্যাস ... ... ...

·       *  অভিযান , এই নাম যখন ছিল তখন এখানে সাহিত্য করার প্রয়াস ছিল হয়তো কিন্তু যে অভিযানে আমি এখন আছি এটা শুধুমাত্র বইমেলা করাকেই প্রধান ভাবে । সাহিত্যর একটা বিশেষ কর্তব্যের অংশ বলে কি ভাবে ! বুঝতে পারি না । সে যৌবন এখনকার কাকুদের আর নেই আর যেসব যৌবন আজ এসেছে তারা সাহিত্যের বাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠার কথা ভেবে বেশী বিচলিত । পড়াশুনাহীন এক egoist মানসিকতার যৌবন যারা শুধুই বলতে চায় , শুনতে চায় না কিছুই । আরও অনেক কথা বলতে পারতাম কিন্তু থাক আজ সেসব ।

Saturday, 9 November 2013

অসুস্থ মনের খবর আমরা বেমালুম চেপে যাই ভালবাসার কাছে ...............







শেষ বোধহয় হয় না । অক্ষরবীথির অস্থিরতা এবং মগ্নতার রেশ সারাজীবনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় । নৈবক্তিক বেদনার অন্তিম মাদকতায় আজীবন নেশাগ্রস্থের মত কাটিয়ে দিতেই হয় । ভেবে রাখা শব্দমঞ্জরীর দল আচমকা দমকা হাওয়ার তালে উড়িয়ে নিয়ে যায় এমন এক পথভ্রান্ততার রাস্তায় যেন এখানেই সবকিছুর সমাপ্তি । প্রশস্ত নদীর চড়ায় অনেকক্ষন চুপচাপ বসে থাকতে পারলে যেমন নিজের জীবনকে আরও একবার শুরু করার ইচ্ছে জাগে আবার পরক্ষনেই কিছু আক্ষেপমালা বাধ্য করে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাসের গম্ভীর ভ্রুকুটিতে নিজেকে সংযত করে নিতে । ভেবেছিলাম থেকে ভেবে ওঠার নিস্তব্ধ মিলনে সঞ্চরণশীল উত্তরনে খালি বাকি থেকে যায় কয়েকটা শূন্যতার অভিব্যক্তি ।

কয়েক কোটি স্বপ্নের নিরলস স্নেহে প্রতিপালিত অনভিজ্ঞনীয় জীবন ইতি উতি জাগিয়ে রাখে বেঁচে থাকার মারনঔষধী । বলতে চায় পালিয়ে যাওয়ার কথা , কিন্তু সে যে কী ভীষন কঠিন তা সেও বোঝে না । কেননা সে দায় তার নেই । এই যেমন অসুস্থ মনের খবর আমরা বেমালুম চেপে যাই ভালবাসার কাছে কিংবা নিজের কাছেও , সেও কি একপ্রকার অভিযোগের বহিঃপ্রকাশ নয় । কে বোঝাবে ? রক্ত কখনও জানে না তার গতির কথা , মনও তেমন জানে না তার স্তরীর দাবির বেদনার কথা । কিন্তু রক্ত যদি আচমকা স্থবির হয়ে যায় তবে এই জঙ্গম জীবনের কি হবে সেকথা সবার জানা । শুধু কেউ কেউ বোঝে কেউ কেউ বুঝতে চায় না । দ্বিতীয়বার সেই সব কিছু আর হবে না যা সুন্দর , যা আজও আমাকে মোহগ্রস্ত রাখে , যা নিদাঘ বসন্তের অঘোষিত অভিপ্রায় , যা কিছু শুধুই আজ আশ্রয় , সেই কোমল মধুরতা আজ আর হবার নয় ।

Friday, 8 November 2013

আরও এক দিনের কথা ........................

নীতু বলেছিল , পৃথিবীর সত্য কখনই স্থির নয় । চরম সত্য বা চরম মিথ্যা বলে যারা নিজেদের মনে ধারনা করে থাকেন তাদের চেয়ে বড় মূর্খ আর কেউ নেই । অতীত যা এখন জীবনকে আর প্রভাবিত করতে পারে না তাকে জোর করে স্মৃতির নাম দিয়ে জিইয়ে রাখার নাম যন্ত্রনা ও কাপুরুষতা ।

সেদিন আমার কাছে কোন উত্তর ছিল না । কেননা আমি জীবন সম্পর্কে তখন তেমন বিশেষ অভিজ্ঞতা বা পর্যালোচনার জায়গায় নিজেকে নিয়ে যেতে চাই নি । চাই নি তার কারন অন্য কিছু নয় , আমি ভাবতাম , জীবনে বর্তমানে যা যা ঘটছে সেটাই সব , এর বেশী কিছুকে নিয়ে ভাবতে গেলে সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয় না । আজ বুঝলাম , নীতু সেদিন ঠিক বলেছিল । সঠিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষন না করে এগুলেও যন্ত্রনা আসে আবার বিশ্লেষন করে এগুলেও আবেগের মর্যাদা লঙ্ঘিত হয় ।

মানুষের জীবনের সবথেকে বড় চাহিদা সম্পর্ক । কথাবিহীনভাবে মানুষ বাঁচতে পারে না । আমি মনের চাহিদার কথা বলছি , বাহ্যিক কোন ত্বত্তগত খুঁটিনাটিতে আমার আজ বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই । কাল একটি ঘটনার রেশ যা এখনও আমার কাটেনি , হয়ত কাটাতে চাইও না , সেখানের এক উচ্ছল আনন্দ আমার হৃদয়কে নতুন করে সজীব করে তুলেছে । আমার একাকী হাঁটতেই ভাল লাগে । সন্ধ্যেবেলা মৃদু অন্ধকারে কোলাহলহীন শান্ত বাতাসের স্পর্শ গায়ে মেখে এগিয়ে যেতেই আমার যত খুশি । এখানে আর কারো জায়গা আমি কখনো কল্পনাও করে উঠিনি । যদি আচমকা কেউ সেখানে এসে পড়ত তবে আমার ভীষন অস্বস্তি হত । তাই অতি সযত্নে আমি সেই জায়গা লুকিয়ে বেড়াতাম । এটাকেই সত্য বলে মনে করতাম । কাল আচমকা নয় , একেবারে কথা বলতে বলতে আমি আর একজন একটা রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলাম । দিব্যি অনেকটা পথ । কিন্তু কোথায় কি ? আমার যত অস্বস্তি যত অশান্তভাব কোনকিছুই যেন আমায় স্পর্শ করতে পারল না । পরে মনে হতে লাগল এতদিন কি তবে মনের কোনো গভীর অস্তিত্বে কারো সঙ্গে , এমন কারো সঙ্গে যার সাথে কথা বলা যায় বাছবিচার না করে , নির্দ্বিধায় , সাবলীলভাবে , আপোষহীন মধুরতায় , তার আবছা চাহিদা ছিল ? জানি না ...

তবে এটুকু বুঝেছি , যে একাকীত্ব আমার অভ্যেস হয়ে গেছিল । আমার জীবনের একমাত্র অর্থ ও যাপনরীতি হয়ে গেছিল , সেটা আজ ভেঙে গেল । আমি তো কোনও অভিযোগ বা অনুতাপ রাখিনি কোনোদিন । কথা বলেও যে এমন সুখ আছে সেটা আগে কখনো অনুভব করিনি । সেজন্যই হয়ত ...

এখন শুধু এটুকুই চাই যে এরকম কথা যেন আজীবন আমার বলা হয় । এর বেশী কিছুই আমার প্রয়োজন নেই । ভরসা করতে পেরেছি কিনা , এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা আছে কিন্তু তাও একবার অন্তত সেটাকে যাচাই করে নিতে চাই । হয় ঠকব নয়ত ঠকব না । ঠকলে ভবিতব্য বলে মেনে নেব আর না ঠকলে ... ... ...

উপশমের চেয়ে বড় সত্য কিছু নেই । হ্যাঁ তবে সেটারও ব্যাতিক্রম আছে জানি । এখন আপাতত উপশম নিয়ে থাকতে চাই , পরের আঘাতের অবসম্ভাবি অপেক্ষায় ।