কেন এসেছিলাম বইমেলা গোষ্ঠীতে*? আজ সে কথার উত্তর দিতে গেলে ফিরে
যেতে হবে অনেক আগে যেখানে আবেগ এবং উদ্দাম যৌবনের এমন এক সন্ধান রয়েছে যা প্রত্যেক
সত্তার চিরনবীনত্ব দাবি করে । সেই দিন যখন আমার সদ্য লেখা কবিতামালা , “নতুন কিছু
একটা করতে হবে তো” এর উন্মাদনা আমাকে সম্পূর্ণ ছেয়ে রেখেছিল । আমার শহরকে আমি নতুন
করে দেখতে চাইছিলাম । একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের চাহিদা আমার মস্তিষ্ককে ক্রমাগত
জ্বালিয়ে দিচ্ছিল আগুন । পাল্টাতে হবে এই চিরাচরিত যাপনরীতি আমায় দৌড়তে বাধ্য
করেছিল ।
তখন আমি তবলা বাজাতাম । এখনও যদিও ছাড়িনি , তবে এখন এটা শুধুই আমার জন্য । এস
মোহিনী ফ্লুট দোকানে আমি বসে আছি । একটা লোক কেমন একটা সবসময় তড়বড় তড়বড় করে ,
সেখানে বসেছিল । আমায় বলল তুমি কুশল দে কে চেনো ? আমি বললাম না তো । সে বলল
সে কি , বর্ধমানে বিখ্যাত কবি সে , কত কবিতা সন্ধ্যা করে । জান না । আচ্ছা বেশ
তুমি বরং শনিবার তিনকনিয়া বাসস্ট্যান্ডের সামনে অভিযান গোষ্ঠীতে এস । ওরা বইমেলা
করে । আমি বললাম , যাব , আপনি থাকবেন ওখানে ? বললেন হ্যাঁ । সেই মত গেলাম ।
তারপর থেকে আমার প্রথম বইমেলা , বেশ কিছু কবিতা সন্ধ্যা , বেশ কিছু নতুন পরিচয়
, বেশ কিছু নতুন পৃথিবীর মানুষের সাথে বন্ধুত্ব সমস্ত পেরিয়ে গেছে আজ অনেকদিন ।
যেদিন গেছিলাম সেদিন প্রচারিত হবার উদ্দেশ্য ছিল , কিন্তু তখন আমার বয়সও অল্প ।
ভাবতাম আমি যা লিখি সেটা অনবদ্য , এটাকে প্রকাশ করতেই হবে । তবেই সাহিত্য নতুন করে
নিজেকে চিনবে । আহা কি আনন্দ হয় সে সব কথা এখন মনে পড়লে । আমি বুঝেছি আসল সত্যটা কিন্তু
অনেকেই বুঝতে চায় না । যাক সেসব controversial কথা । আজ আমি সমালোচনা করতে বসিনি । বইমেলার মাঠ আমাকে দিয়েছে এমন এক জীবনের সন্ধান যেখানে বেঁচে
থাকার রসদ আছে । বইমেলার মাঠ আমার কাছে এমন কটা দিন কাটানোর সুযোগ যেখানে
শুধুই ভালবাসা আছে । কোনও চাহিদা নেই এর বেশী । বইমেলা কমিটির কোনও বিশেষ পদ
অর্জনের আকাঙ্ক্ষা , কোনও স্বার্থসিদ্ধির অভিপ্রায় কিছুই নেই । চারিদিকে একরাশ
বইয়ের মাঝখানে থাকা , কচিকাঁচাদের হুল্লোড় , বড় কয়েকজনের ভারী আলোচনা , ঝালমুড়ি ,
অঙ্কিতা , শম্ভুকাকু , শুভজিতদা , অঞ্জনদা , নিরুপমদা , পার্থদা সবাইকে নিয়ে এক
অন্য জগত যেটা আমার রোজনামচার থেকে ভিন্ন । আমি যাই , টুকটাক কিছু দ্বায়িত্বপালন
করি আর টো টো করে চক্কর মেরে বেড়াই । ব্যাস আর কিছুই চাওয়ার নেই । অনেকখানি
ভালবাসায় আমি আর এই বইমেলার মাঠ জড়িয়ে পড়েছি , কেউ তাড়ালেও আর যেতে পারব না । ১০টা
দিন আমার কাছে খুব কোমলতার খুব আন্তরিকতার । বইমেলার মাঠের ওপর একটা অধিকারবোধ এখন
আমার জন্মে গেছে , এ যেন শীতকালীন স্নেহের তীব্র লোভ , আর কি বলব । শব্দচয়ন হচ্ছে
না যে এই অনুভূতিকে প্রকাশ করার জন্য । আজ কেন এতোগুলো কথা বললাম , কিছুই তো করিনি
, তাহলে কোন অধিকারে এসব বললাম ? আমি আগ বাড়িয়ে কোনও কিছুতেই নিজেকে জোর করে
ঢোকেতে পারিনা । পারিনা জায়গা দখল করতে । এ আমার চারিত্রিক কার্পন্য এবং দূর্বলতা । আজ প্রথম
নিখিলকাকু আমায় বইমেলার জন্য আলোচনার বিষয় ভাবার অধিকার দিল । এটাই আমার জায়গা
যেটা আমি পারি । এর বেশী কিছুই পারিনা যে আমি । খুব কৃতার্থ হলাম
। এই প্রথম অনুভব হল আমিও কিছু বলতে পারব বইমেলার জন্য । সে আমায় এত দিয়েছে আমি যা
পারি সেটা থেকে সামান্য দিতে পারব এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি কিছুই নেই । এইটুকু
অংশীদারিত্বই আমার কাছে অনেক । ব্যাস ... ...
...
· *
অভিযান , এই নাম
যখন ছিল তখন এখানে সাহিত্য করার প্রয়াস ছিল হয়তো কিন্তু যে অভিযানে আমি এখন আছি
এটা শুধুমাত্র বইমেলা করাকেই প্রধান ভাবে । সাহিত্যর একটা বিশেষ কর্তব্যের অংশ বলে
কি ভাবে ! বুঝতে পারি না । সে যৌবন এখনকার কাকুদের আর নেই আর যেসব যৌবন আজ এসেছে
তারা সাহিত্যের বাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠার কথা ভেবে বেশী বিচলিত । পড়াশুনাহীন এক egoist মানসিকতার যৌবন যারা শুধুই বলতে চায় , শুনতে চায় না কিছুই
। আরও অনেক কথা বলতে পারতাম কিন্তু থাক আজ সেসব ।
No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..