শেষ বোধহয় হয় না । অক্ষরবীথির অস্থিরতা এবং মগ্নতার রেশ সারাজীবনে কাটিয়ে ওঠা
সম্ভব নয় । নৈবক্তিক বেদনার অন্তিম মাদকতায় আজীবন নেশাগ্রস্থের মত কাটিয়ে দিতেই হয়
। ভেবে রাখা শব্দমঞ্জরীর দল আচমকা দমকা হাওয়ার তালে উড়িয়ে নিয়ে যায় এমন এক
পথভ্রান্ততার রাস্তায় যেন এখানেই সবকিছুর সমাপ্তি । প্রশস্ত নদীর চড়ায় অনেকক্ষন
চুপচাপ বসে থাকতে পারলে যেমন নিজের জীবনকে আরও একবার শুরু করার ইচ্ছে জাগে আবার
পরক্ষনেই কিছু আক্ষেপমালা বাধ্য করে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাসের গম্ভীর ভ্রুকুটিতে
নিজেকে সংযত করে নিতে । ভেবেছিলাম থেকে ভেবে ওঠার নিস্তব্ধ মিলনে সঞ্চরণশীল উত্তরনে
খালি বাকি থেকে যায় কয়েকটা শূন্যতার অভিব্যক্তি ।
কয়েক কোটি স্বপ্নের নিরলস স্নেহে প্রতিপালিত অনভিজ্ঞনীয় জীবন ইতি উতি জাগিয়ে
রাখে বেঁচে থাকার মারনঔষধী । বলতে চায় পালিয়ে যাওয়ার কথা , কিন্তু সে যে কী ভীষন
কঠিন তা সেও বোঝে না । কেননা সে দায় তার নেই । এই যেমন অসুস্থ মনের খবর আমরা
বেমালুম চেপে যাই ভালবাসার কাছে কিংবা নিজের কাছেও , সেও কি একপ্রকার অভিযোগের
বহিঃপ্রকাশ নয় । কে বোঝাবে ? রক্ত কখনও জানে না তার গতির কথা , মনও তেমন জানে না
তার স্তরীর দাবির বেদনার কথা । কিন্তু রক্ত যদি আচমকা স্থবির হয়ে যায় তবে এই জঙ্গম
জীবনের কি হবে সেকথা সবার জানা । শুধু কেউ কেউ বোঝে কেউ কেউ বুঝতে চায় না । দ্বিতীয়বার
সেই সব কিছু আর হবে না যা সুন্দর , যা আজও আমাকে মোহগ্রস্ত রাখে , যা নিদাঘ
বসন্তের অঘোষিত অভিপ্রায় , যা কিছু শুধুই আজ আশ্রয় , সেই কোমল মধুরতা আজ আর হবার
নয় ।
No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..