Sunday, 3 August 2014

হিপোক্রীট ইলিউসন নতুবা মৃতদেহ জড়িয়ে কান্নার হাহাকার




যতদিন আলো আছে আমাদের জাগিবার শেষ অবসর
যতদিন রয়েছে এ পৃথিবীতে ,- উচ্ছৃঙ্খলের সৃজনের পানে
আমরা তাকায়ে রব ততদিন ; - যদি কোন শৃঙ্খলার গানে
আকাশ ভরিতে পারি ,- শান্ত করে দিতে পারি পৃথিবীর জ্বর
আমাদের গানে যদি ; - হাত ধরে আসিয়াছি তাই পরস্পর !
জীবনানন্দ দাশ

জীবনের সব আনন্দ সব কোলাহল সব অবসাদ সব প্রতিবাদ ছেড়ে এবার আশ্রয় নিতে হবে আদিম গুহাজীবনের প্রাথমিক অবসরে । জনরব উঠবে কাপুরুষ কিংবা ভীরু বলে কিন্তু তবুও সেই স্থবির জনরবের প্রকৃতি নির্ধারন হেতু যেতে হবে এবং তখনই এই কাপুরুষতার এই ভীরুতার দূর্দম কারনের সন্ধান পাওয়া যাবে । যত লড়াই যত যুদ্ধ যত মিছিল যত সমাবেশ সবই যেখানে কেতাদুরস্ত হাল ফ্যাসানের নগ্ন চিকারে পরিণত হয়েছে সেখানে অনন্যোপায়হীন এক বিচ্ছিন্ন আমি’র দীর্ঘ ছায়া কাকে আশ্রয় করবে ? কেউ বলতে পারবে না তার উত্তর । তবে কেউ কেউ বলবে হতাশার বীজ এখন মহীরুহ তোমার হৃদে । তাদের আমি এই বলে হত্যা করব , অন্তরতম কক্ষে ঝুঁকে দেখো হে নির্জীব জ্ঞানী , হয় সেখানে হিপোক্রীট ইলিউসনের জাল দেখবে নতুবা মৃতদেহ জড়িয়ে কান্নার হাহাকার ।

ধ্বংস ব্যতীত সৃষ্টি অসম্ভব । জীবনের কোনও এক ক্ষেত্রে নতুন কিছুর সঞ্চার হলে অন্য দিকে কোনও কিছুর ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী , তা আমাদের জ্ঞানের সীমানায় হোক বা তাকে পেরিয়ে । এই লয়হীন বলয়ের সৃষ্টিকাল থেকে তার ধ্বংসের সময় পর্যন্ত যতদূর বিকশিত হবার তা হয়ে গেছে , এখন একে সংশোধনের নয় পরিমার্জনের নয় পরিবর্ধনের নয় , দরকার মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেবার । ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা দরকার । নতুন প্রান যারা দার্শনিক ত্বত্ত্বের আঁটি না চুষে সৃষ্টি করবে এক কাব্যিক সভ্যতা , যার অন্তঃকরণে শুধুই থাকবে মন্ত্র – চাষবাসের মন্ত্র , পড়ে থাকা ঘরবাড়ির জীয়ন্ত খড়ের মন্ত্র । 

কিন্তু সেই গুহাজীবনের আদিমপর্বে ফিরে যেতে হলে কাপুরুষ হতে হবে , ভীরু হতে হবে । কে পারবে সে সব , আমি ছাড়া ?

No comments:

Post a Comment

I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..