যতদিন আলো আছে আমাদের জাগিবার
শেষ অবসর
যতদিন রয়েছে এ পৃথিবীতে ,-
উচ্ছৃঙ্খলের সৃজনের পানে
আমরা তাকায়ে রব ততদিন ; - যদি
কোন শৃঙ্খলার গানে
আকাশ ভরিতে পারি ,- শান্ত করে
দিতে পারি পৃথিবীর জ্বর
আমাদের গানে যদি ; - হাত ধরে
আসিয়াছি তাই পরস্পর !
জীবনানন্দ দাশ
জীবনের সব আনন্দ সব কোলাহল সব অবসাদ সব প্রতিবাদ
ছেড়ে এবার আশ্রয় নিতে হবে আদিম গুহাজীবনের প্রাথমিক অবসরে । জনরব উঠবে কাপুরুষ
কিংবা ভীরু বলে কিন্তু তবুও সেই স্থবির জনরবের প্রকৃতি নির্ধারন হেতু যেতে হবে এবং
তখনই এই কাপুরুষতার এই ভীরুতার দূর্দম কারনের সন্ধান পাওয়া যাবে । যত লড়াই যত
যুদ্ধ যত মিছিল যত সমাবেশ সবই যেখানে কেতাদুরস্ত হাল ফ্যাসানের নগ্ন চিৎকারে পরিণত হয়েছে সেখানে
অনন্যোপায়হীন এক বিচ্ছিন্ন আমি’র দীর্ঘ ছায়া কাকে আশ্রয় করবে ? কেউ বলতে পারবে না
তার উত্তর । তবে কেউ কেউ বলবে হতাশার বীজ এখন মহীরুহ তোমার হৃদে । তাদের আমি এই
বলে হত্যা করব , অন্তরতম কক্ষে ঝুঁকে দেখো হে নির্জীব জ্ঞানী , হয় সেখানে
হিপোক্রীট ইলিউসনের জাল দেখবে নতুবা মৃতদেহ জড়িয়ে কান্নার হাহাকার ।
ধ্বংস ব্যতীত সৃষ্টি অসম্ভব । জীবনের কোনও এক
ক্ষেত্রে নতুন কিছুর সঞ্চার হলে অন্য দিকে কোনও কিছুর ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী , তা
আমাদের জ্ঞানের সীমানায় হোক বা তাকে পেরিয়ে । এই লয়হীন বলয়ের সৃষ্টিকাল থেকে তার
ধ্বংসের সময় পর্যন্ত যতদূর বিকশিত হবার তা হয়ে গেছে , এখন একে সংশোধনের নয়
পরিমার্জনের নয় পরিবর্ধনের নয় , দরকার মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেবার । ছিঁড়ে আগুনে
পুড়িয়ে ফেলা দরকার । নতুন প্রান যারা দার্শনিক ত্বত্ত্বের আঁটি না চুষে সৃষ্টি
করবে এক কাব্যিক সভ্যতা , যার অন্তঃকরণে শুধুই থাকবে মন্ত্র – চাষবাসের মন্ত্র ,
পড়ে থাকা ঘরবাড়ির জীয়ন্ত খড়ের মন্ত্র ।
কিন্তু সেই গুহাজীবনের আদিমপর্বে ফিরে যেতে হলে
কাপুরুষ হতে হবে , ভীরু হতে হবে । কে পারবে সে সব , আমি ছাড়া ?
No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..