আমি মনে করি দীর্ঘ সিপিএম রাজত্বকালের অবসানের পর বাঙালি যে
আবার আপন গরিমায় প্রকট হতে পেরেছে তা একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুশাসিত
নেতৃত্বে । আর এখন সবেমাত্র যখন বাঙালি নিজের জাতিসত্তার ক্ষেত্রে পুনরায় ও পূর্ণ
তেজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেছে তখন অন্যদিকে বিজেপি নামক একটি সদ্য ডানা
ওঠা পিপীলিকা এ রাজ্যের অমৃতকুম্ভের চারিদিকে ভনভন করছে । সাথে তামাম
বুদ্ধিজীবীবাহিনীর পশ্চাৎচোষক মাধ্যমটি ও ভাইস ভারসা চিত্তপরিবর্তনের ১ ঘন্টায় সেই
ভনভনানিকে রাজ্যের অনাচার নামক খরার উৎপীড়ন দমনে জলভরা মেঘগর্জন বলে প্রতিস্থাপিত
করার চেষ্টায় অবিরত । আবার দেখা যাচ্ছে যে যত কমিউনিস্ট দল আছে তারা আবার একত্রিত
হয়েছে বিজেপি’র বিরুদ্ধে – প্ল্যাটফর্ম সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
আচ্ছা, আপনি কি মানেন যে পাড়ার মোড়ে মোড়ে যত বংশীদা’র চা এর
দোকান আছে সেখানেই এই সমস্ত গূঢ় তত্ত্বের আলোচনার মাধ্যমেই পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য
নির্ধারনের পুর্বাভাস পাওয়া যায় । না মানলে মানতে শুরু করুন । যাই হোক গতকাল সেরকমই
এক বংশীদা’র দোকানে আমি ও আমার এক কমিউনিস্ট বন্ধু বসে জমাচ্ছিলাম । মমতাবালা
ঠাকুরের বিজয়বার্তার গল্প হচ্ছিল । আর সিপিএম এর দুরাবস্থার কথাও । আমি ভোটের আগে
বন্ধুটিকে বলেছিলাম, তৃণমূল শুধু জিতবেই না বিপুল ভোটে জিতবে । আর একথা বিধানসভার
ফলাফলেও মিলিয়ে দেখো । এ সব শুনে সে মনে মনে আমাকে পাগল বললে কিন্তু মুখে বললে না
। কেননা গত বর্ধমান পুরভোটের আগে সে আমায় সরাসরি পাগল বলেছিল, কারণ এই যে আমি
বলেছিলাম বর্ধমানের পুরভোটে তৃণমূল ত্রিশটার বেশি আসন পাবে আর সিপিএম উড়ে যাবে ।
ফলেনঃ পরিচয়তে । যাই হোক সেসব, সে আমাকে কারণ জিজ্ঞেস করল বিধানসভায় তৃণমূলের
বিপুল ভোটে জিতবার কারণ কি দেখেছি ?
আছেন নাকি বঙ্গমাতার কোনও বীরসন্তান যিনি বাইরে না হলেও
ভেতরে ভেতরে স্বীকার করেন না বাঙালির ডিএনএ’র মধ্যে থাকা অসততা, দুশ্চরিত্রতা,
তোষামোদপ্রবণতা, প্রবঞ্চনা, অনুকরনপ্রিয়তা, অসভ্যতা, চুরিবিদ্যা, মিথ্যাচার,
অহংকার, ভন্ডামি, ঈর্ষা, পরস্বাপহরন, কাঁকড়াবৃত্তি ও নিন্দাপ্রচার প্রভৃতি জেনেটিক
বৈশিষ্ট্যর অস্তিত্বের কথা । আর এই জাতীয় বৈশিষ্ট্য আমরা দেখেছি কলকাতা কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার
সময় থেকে । চিত্তরঞ্জনবাবু যখন প্রধান তখনই দুর্নীতির অভিযোগে একে চোরপরেশন বলা
হয়েছিল । তা এখন তো সেই আদি চরিত্রের চরমতম বিকাশের কাল । যাকে বলে সুবর্ণযুগ । এখন
তৃণমূল জিতবে না তো কে জিতবে । কোথায় সারদা হল তা নিয়ে বাঙালির কিছুই এসে যায় না –
অমন তো কতই হয় । আর অন্যদিকে বিজেপি’র সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে সোচ্চার কমিউনিস্ট
দলগুলোকে জানাতে চাই যে পৃথিবীর কোনও কমিউনিস্ট দল নেই যা অসাম্প্রদায়িক । কেন ?
বিজেপি মুসলমানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ দেখায়, কমিউনিস্ট
পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে । বিজেপি হিন্দু খ্যাপায়, কমিউনিস্ট প্রলেতারিয়েত । বিজেপি
হনুমান-শিব ইত্যাদির ছবি বুকে লটকায়, কমিউনিস্ট মার্কস-লেনিনের । বিজেপি বেদে
সমস্ত রহস্যের সমাধান আছে বলে দাবি করে, কমিউনিস্ট দাস ক্যাপিটালে । বিজেপি আশ্রয়
নেয় বেলুড় মঠ- ভারত সেবাশ্রম সংঘ প্রভৃতিতে, কমিউনিস্ট সিপিআইএম, সিপিআই, এসইউসিতে
। বিজেপি এই যুদ্ধে রক্তারক্তিকে মুসলিমের বিরুদ্ধে জেহাদ বলে, কমিউনিস্ট বলে
বিপ্লব । বিজেপি বলে হিন্দুত্ব প্রতিষ্ঠিত করলেই রামরাজত্ব আসবে, কমিউনিস্ট বলে
সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই সাম্যতা আসবে । সুতরাং, অসাম্প্রদায়িকতা কোনটা । এসব
গল্পে সিপিএম এর চিঁড়ে ভিজবে না ।
পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বশ্রেষ্ঠ জালিয়াতি পার্টি (বিজেপি) আর
ক্রিমিনাল পার্টি অফ ইন্ডিয়া(মার্ডারিস্ট) (সিপিআই(এম)) কি করে আশা করে যে বাঙালির
মধ্যে এরকম সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে আর অনাচারের অভিযোগ তুলে ভোটে জিতবে । শুনুন, আমার
মতো যত হরিমাধব গড়াই(যেদিকে ঢাল সেদিকে) আছেন তারা অসাম্প্রদায়িক এবং বাঙালির
সনাতন বৈশিষ্ট্যের একমাত্র ধারক ও বাহক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কাওকে নির্বাচিত
করবে না কেননা তৃনমূলের বিকল্প পশ্চিমবঙ্গে আর কেউ নেই । আর রয়ে গেল কংগ্রেস ।
মানুষ হাত চিহ্নে ভোট দেবে কি করে, সে তো এখন জগন্নাথের হাতে পরিণত হয়েছে ।

No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..