Saturday, 24 October 2015

বেকার সমস্যার সমাধান হলে তো এ রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে যাবে



কদিন আগে “দৈনিক স্টেটসম্যানে” পড়েছিলাম, পশ্চিমবঙ্গে বেকারের সংখ্যা নাকি প্রায় ২৩ লক্ষ । অন্যদিকে সরকারি খালি পদের সংখ্যাও নেহাতই কম নয়, কেবলমাত্র কলেজেই তিনহাজার, স্কুলে ১৫-১৬ হাজার এবং অন্যান্য ক্ষেত্র তো আছেই যাতে সব মেলালে মোটামুটি বেকারসমস্যা এক আমলেই মেটানো যায় । তা এ নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে মুলত দুটো ঝোঁক দেখতে পেলাম । এক, ক্ষোভের, কীসের ক্ষোভ ? চাকরি না পাওয়ার ক্ষোভ যা পরিবর্তিত হয়েছে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত অসহিষ্ণুতায় । অর্থাৎ, রিজারভেশনের বিরুদ্ধে । দুই, হতাশার । সরকারি চাকরির প্রতি মোহ এবং ব্যার্থতার ফলে উদ্ভুত হতাশা । ফল কম মাইনেতে হলেও বেসরকারি কোম্পানির প্রতি তীব্র ঝোঁক ও আনুগত্যের মনোভাব । 


একটাও অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক নয় । তা এই দুই মনোভাবের কারণ কি ? প্রকৃতপক্ষে ধনপতি শ্রেণিগুলির (অর্থাৎ, রিলায়েন্স, টাটা, বিড়লা ও ইত্যাদি)সঙ্গে আঁতাতে থাকা রাষ্ট্রযন্ত্র(অর্থাৎ, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম ইত্যাদি পরিচালিত) একদিকে বেকারের সংখ্যা বাড়াচ্ছে যাতে বেসরকারি ক্ষেত্রে কম মাইনেতে বেশি শ্রম আদায় করার সম্ভবনা বৃদ্ধি হয় ও ধনপতিদের মুনাফা বেড়েই চলে । এখানে আমি বেকারশ্রেণিদের মার্ক্সবাদীদের শোষণ – শোষিত থিওরি বলছি না, কেননা জানি তা কেউ শুনতেই চাইবে না । এর কারণ এই যে, ক্ষুধা জিইয়ে রাখার বর্তমান ব্যবস্থায় মানুষ তারই দাস যে অন্তত একমুঠো ভাত তুলে দিচ্ছে, তাদের নয় যারা খালি পেটে আত্মত্যাগের কথা প্রচার করছে । কিন্তু, যদি কেউ কাওকে সরাসরি বলে যে তোমায় এই অ্যাত্তো টাকা দিলাম, নিজেকে আমার কাছে বেচে দাও । আজকের দিনে সে কথা কেউ মানবে না । ফলে এরকম ঘুরিয়ে নাক দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে একথা তো ঠিক । এতে কেউ বুঝতেই পারে না যে সে কবেই ধনপতিদের কাছে নিজেকে বেচে দিয়েছে । অন্যদিকে সরকার পক্ষ নিয়োগের এমন বন্দোবস্ত করেছে যাতে লোকে এসব নিয়ে ভাবার ও বোঝার সামান্য অবকাশও না পায়, আর পেলেও সে চিন্তা যেন ব্যর্থতায় পরিপূর্ণ হতাশাগ্রস্থ মানুষের সাম্প্রদায়িক দোষারোপের মধ্যেই নিয়োজিত থাকে কিম্বা চিকনি চামেলির ফও্যা তো আছেই । এ পদ্ধতির অবশ্যম্ভাবী ফল হল ভোটের রাজনীতিতে ধনপতি শ্রেণির মুনাফার জোর ও সমর্থনে একবার বিজেপি আর একবার কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসা-যাওয়ার নিশ্চিতকরণ এবং অন্যদিকে ধনপতিদের নির্বিঘ্নে মুনাফাবৃদ্ধির হার বাড়ানো। আর জনগণ বাধ্য হনুমানের সামনে কলা ধরে রেখে তার আচরণ নিয়ন্ত্রনের ম্যাজিকস্টিকের বাধ্যতার মত । না আমাদের দেশে তো সে শিক্ষাও নেই যা মানুষকে চিন্তায় স্বাধীন ও চরিত্রে আপোষহীন করবে । আর স্বাভাবিক কারণে সে শিক্ষাও এ রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশাও করা যায় না । 

ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র যেমন টিকে আছে ধনপতিদের মুনাফার ভিত্তিতে তেমনই ধনপতি শ্রেণি টিকে আছে রাষ্ট্রযন্ত্রের অস্তিত্বে । তাই বেকার সমস্যা মিটলে দুটোই বিপদে পড়ে যাবে । আর এখন কেইবা লাইফ ইনস্যুরেন্স, গাড়ি বাড়ি করে বছরে একবার আন্দামানে কিম্বা বিদেশে ঘুরতে যাবার বাসনা ত্যাগ করে খালিপেটে আন্দোলনে মার খেতে নামবে । তার চেয়ে বাবা যেখানে ৫০হাজারের খাটনিতে ১০হাজার পাওয়া যায় সেই ভাল, যেখানে ৫০হাজারের খাটনি খেটে পুলিশের ও গুন্ডাচক্রের লাথি-লাঠি-গুলি খেতে হবে । 


অথচ এও তো ঠিক আজকের সামান্য আত্মত্যাগের ভীতি আমাদের পৌঁছে দিচ্ছে আরও কঠিন দাসত্বের শৃঙ্খলে ।

No comments:

Post a Comment

I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..