Friday, 26 September 2014

অনাবিল প্রভুত্ব ও প্রবৃত্তি ঃ



খুব সাধারণ একটা কথা দিয়ে শুরু করি । আমার ছেলেবেলায় , আমি দেখেছি রাত্রি ১১টার পর বাড়ির মূল দরজায় তালা পড়ে যেত । তারপর , যেকোনো কারণেই আর সে দরজা খোলা হত না , অবশ্যি বিপদ-আপদ না হলে । আমি নিজে বেশ কিছুবার নানা অজুহাতে দরজা খোলাবার চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন সুফল হয়নি । প্রথমে আমাকে বোঝানো হত যে , যে প্রয়োজনের তাগিদে আমি দরজা খুলতে চাইছি সেটা পরদিন মেটালেও তেমন কিছু ক্ষতি হবে না । আমি নিজে জানতাম কথাটা সত্যি কিন্তু ছেলেমানুষী হলেই বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য দরজা না খোলা ব্যাপারটা আমার বোধগম্য হত না । পরে আমাকে যখন বুঝিয়েও হয়নি , দরজা খোলার জন্য বাড়ির মানুষদের কি বিশাল পরিশ্রম করতে হবে সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর , সেকথা আমায় বলে আমার emotional করে শান্ত করা হয়েছিল বেশ কয়েকবার । পরবর্তী সময়ে যখন তাও কাজে আসেনি তখন আমায় বকাবকি (কিছু ক্ষেত্রে দুচার ঘা পিঠেও পড়েছিল) করে থামানো হয়েছিল । কিন্তু আজ আমি ১১টা কিংবা ২টো যেকোনো সময়েই দরজা খুলতে পারি । প্রশ্নটা হল তখন কেন পারিনি ? পারে না , অনেকেই পারে না , আমিও পারিনি ।



আজ দরজা আর প্রয়োজন দুটোই বদলে গেছে । তালা আর অভিভাবক সেই একই আছে । না ! আমি আজও পারছি না । আমার সমাজব্যবস্থা আমার প্রয়োজনগুলোকে নিজের মতো করে পাল্টে নিচ্ছে অথচ আমি কিছুই করতে পারছি না । আমার সময় আমাকে বুঝিয়ে চলেছে । আমি অস্বীকার করেছি , তাই আমার ওপর এনেছে এমন এক অস্ত্র আমি ফিরে গেছি । সাহস জোটাতে পারিনি এখনও । আদৌ পারব কিনা তা জানা নেই । 

মনে আছে মায়াকভস্কির কথা । লেনিন অব্দি পারেননি তাঁর আত্মহত্যা আটকাতে । আমরা বাধ্য হই । আজীবন আমাদের এভাবেই মেরে ফেলতে হয় নিজেদের । আজকের দিনে আমাদের পড়াশুনা হয়ে গেছে আমাদের অর্থ-উপার্জনের উপায় , ইচ্ছেযাপনের (খেলা , লেখা , আঁকা , গান , বেড়ানো ইত্যাদি যাই হোক না কেন) জন্য প্রথমে আমাদের নিশ্চিত করতে হয় অন্নসংস্থানের মাধ্যম । আমাদের ইচ্ছে ভাললাগা আর ভালবাসা ক্রমশ শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ আমরা কিছুই করতে পারছি না । এ কি ধরনের বেঁচে থাকা ?

দেশ সমাজতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছালেও মনে তৃপ্তি আসেনি মায়াকভস্কির কেননা তিনি প্রায় প্রতিমূহুর্তে লাঞ্ছিত হচ্ছিলেন তার চারপাশের দ্বারা । শুনতে হচ্ছিল নানা খোঁটা । কেন চারপাশ এরকম হল ? ছেলেবেলায় আমি যেমন পারিনি কথা বলতে আর এই নিয়মের প্রথা ধীরে ধীরে আমার প্রবৃত্তি তৈরী করে দিয়েছিল তেমনই আজও একটা প্রবৃত্তি তৈরী হচ্ছে । আমি যাকে বলি ভয় । আমরা সকলেই জানি কোনও আরোপিত নিয়ম বছরের পর বছর মেনে চললে কয়েক প্রজন্ম পর সেটাই স্বাভাবিক পালনীয় হয়ে দাঁড়ায় । আমাদের দেশেও প্রতিবাদ না করাটাই স্বাভাবিক পালনীয় কর্তব্য হয়ে গেছে । এখন মানুষ প্রতিবাদ করে নিজের স্বার্থরক্ষার তাগিদে বৃহত্তর স্বার্থ সেখানে আর অবশিষ্ট নেই । দেশের সামাজিক অবনমনের এও এক কারণ বৈকি । আর আমি যখন এই সমাজব্যবস্থার একজন সুতরাং আমিও  পচে যাব একদিন । আমি একা নই , তুমিও , তোমরা সবাই ।

2 comments:

  1. Drops of water make the ocean.
    Similarly, if you want to bring a change, you have to start with yourself. You have to be the CHANGE. You have to learn to curb your fear in whatever little ways you can.
    Remember: one small step for a man was one big leap for the mankind, when Neil Armstrong stepped on the moon.

    ReplyDelete

I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..