Wednesday, 8 October 2014

মুসলমান মাত্রই জঙ্গী ভাববেন না প্লিজ


Source - Internet
 বর্ধমানের বাবুরবাগে আমার বাড়ি । একথা বললেই আশা করি যথেষ্ট বলা হল । “এককমাত্রা”য় একবার লেখা হয়েছিল আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা “বিবক্ষিত”র আলোচনা প্রসঙ্গে যে “বর্ধমানের প্রত্যন্ত অঞ্চল চন্ডীতলা । এই অঞ্চলটি বাবুরবাগের কাছে , কলকাতার পাঠকদের কাছে পত্রিকা ও অঞ্চলের নাম অপরিচিত ।” কিন্তু এক ধাক্কায় যে সারা ভারতে এই নাম এইভাবে বিখ্যাত (কিংবা কুখ্যাত) হয়ে যাবে তা কোনও কল্পনাতেও ছিল না । এলাকাটার আরও একটু পরিচয় দিই । এই এলাকার উত্তর পশ্চিমে খাগড়াগড় ও অন্যান্য পুরো বিস্তৃত এলাকা যা আমার বাড়ি থেকে মিনিট ২ এর রাস্তা ও মুসলিম অধ্যুষিত, উত্তরে নজরুলপল্লী মুসলিম এলাকা , পূর্বে বাতানপাড়া মুসলিম এলাকা , পশ্চিম ও দক্ষিনে বাবুরবাগ কালিতলার একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ মুসলিম এলাকা । প্রত্যেকটি এলাকা আমার বাড়ি থেকে ১ থেকে ২ মিনিটের মধ্যে পড়ে । অর্থাৎ আমি চতুর্দিকে মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিবেশীদের ঠিক মাঝখানে থাকি , ভীষন শান্তিতে ও মেলবন্ধনে থাকি যা ছেলেবেলা থেকে আমি দেখে আসছি । (মুসলিম অধ্যুষিত ও কিভাবে থাকি - কেন বললাম তা একটু পর বোঝা যাবে ।)   আচমকা দূর্গাপুরে থাকতে খবর পেলাম বিস্ফোরণের । তারপর থেকে আজ অব্দি যা হচ্ছে তা সকলেই জানেন । একটি বিশেষ কাজে সেদিন পুলিশ স্টেশনে গেছিলাম এস পি সাহেবের সাথে দেখা করতে কিন্তু সেখানে কিভাবে দেখা হবে জিজ্ঞেস করতেই যেভাবে উত্তর পেলাম তাতে তাদের আশঙ্কা ও উদ্বেগের স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সহজ ।

এ বিষয় নিয়ে মিডিয়া যা তথ্য দেবার দিচ্ছে , আমার পক্ষে এর বেশী যেটুকু জানা সম্ভব তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয় । আমার দুশ্চিন্তার কারণ একটু অন্য । তবে সেটা একটু তৃণমূল ঘেষা শোনাতে পারে । বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে ভোটের রাজনীতির অত্যন্ত স্পষ্ট রূপ হল আলাদা আলাদা সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাঙ্ক । সেখানে বিজেপি এখন বিধানসভা দখলের লড়াইতে নেমেছে যদিও তাদের সংগঠন তেমন জোরালো নয় এই মূহূর্তে । তবে কেন্দ্রে তাদের সরকার যাওয়াতে জোর খানিকটা বেড়েছে তাদের । সুতরাং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যারা গুজরাতের সম্পর্কে সামান্য হলেও অবগত তাঁদের ভোট অন্যদিকে যাওয়া দুষ্কর । ফলে সেটা ভাঙা ও সমগ্র হিন্দু ভোট যা তৃণমূল সিপিএম ও কংগ্রেসে বিভক্ত তাকে যদি একত্রিত করা যায় তবে বিজেপির সুবিধা ১৫ আনাঅন্যদিকে তৃণমূল যেভাবে সংখ্যালঘু তোষণ করেছেন বলে হিন্দুরা ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুটছেন সেকথা বিজেপির অজানা নয় । আরও একটা বিষয় মিডিয়ার মাধ্যমে এসেছে যে সীমান্তে পাকিস্তানের ভারতীয় জনগণ ও সেনার ওপর আক্রমণ এবং ঈদের মিষ্টি ফেরত দেওয়া । ফলে সেখানে ভারতীয়রা জবাব দিয়েছে এবং একজন বিখ্যাত বিজেপি নেতা(উনি মন্ত্রীও না !) বলেছেন , “উনকো সমঝনা চাহিয়ে কি ভারত মে জমানা বদল গয়া” এর মধ্যে হঠাৎ করে পূর্ব অভিজ্ঞতার মধ্যে প্রায় না থাকা এমন একপ্রকার ঘটনা হিসেবে বর্ধমানের বিস্ফোরণে ইউসুফ শাকিল প্রভৃতি নাম ও সঙ্গে তৃণমূল এর নাম যেভাবে খবরে আসছে তা পরিস্থিতিকে সন্দেহজনক করছে । ফলে সব মিলিয়ে অর্থ যা দাঁড়ায় তা বেশ দুশ্চিন্তার । 

Source - Internet
মিডিয়া যা প্রচার করছে তা দেখেই জনগণ সবজান্তা হন । মিডিয়ার চরিত্র নিয়ে দু চার কথা নোয়াম চমস্কির থেকে ধার করব । তিনি তাঁর “গনমাধ্যমের চরিত্র” গ্রন্থে বলেছেন যে , কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হলে আগে তারজন্য জনগনের স্বীকৃতির দরকার হয় । যেমন ভিয়েতনাম আক্রমনের জন্য বলা হয়েছিল অন্যের হাত থেকে দেশটাকে রক্ষা করার জন্যই এই ব্যবস্থা । একইভাবে জার্মানের ক্ষেত্রেও হলোকাস্টের সময় একই প্রচার করা হয় । সুতরাং যে যাই করুক সেটা যে ঠিক করছে তারজন্য দরকার হয় গণস্বীকৃতির আর সেটা তৈরী করতে হয় । মতামত তৈরির হাজারটা কৌশল এখন সকলের জানা । মোহক ভ্যালি ফর্মূলা তাদের একটা । একাজে মিডিয়া সব থেকে বড় ভূমিকা পালন করেগুজরাটেও কি তাই হয়নি ? পশ্চিমবঙ্গেও কি তা হবার তোড়জোড় শুরু হয়েছে নাকি ? বুক ঠুকে সেই সম্ভবনাকে “না” কেউ বলতে পারেন কি ?  
Source - Internet

যে ভাবে আমার প্রতিবেশী জনগণ কথা বলছেন , আমার শ্রদ্ধেয় অধ্যাপকগন যেভাবে কথা বলছেন , যেভাবে হিন্দুরা মুসলিম ভাইদের দেখলেই জঙ্গী বলে মনে ভুল ধারণা করে ফেলছেন তা দুশ্চিন্তার কারণ । আর এই ব্যাপারকে আর আর এস এস কিংবা বিজেপি যে কাজে লাগাবে না তা বলি কিভাবে ? এরমধ্যে আবার অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে একদফা কাজের নমুনা দিয়ে গেছেন , এই ভদ্রলোকের পরিচয় নতুন করে দেবার প্রয়োজন নেই আশা করি আমি স্রেফ চাই আমার প্রতিবেশীরা যেন আমাদের একসঙ্গে দীর্ঘদিন কাটিয়ে আসা অতীতের দিনগুলো ভুলে না যান তা যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন , যে অবস্থাই প্রচার করে তৈরী করা হোক না কেন । আমি বিশ্বাস করতে চাই বিস্ফোরণের প্রচার ও তদন্ত সঠিক ও সত্য পথেই চলছে , পাকিস্তান যা করেছেন তা যেন অচিরেই বন্ধ করে শান্তির পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনেন , ভারত সরকারও যেন এ ব্যাপারে সহনশীল হন , কেননা যুদ্ধ কোনোমতেই কাম্য নয় । এ কোনও ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বিরুদ্ধে মানবতার পক্ষের যুদ্ধ নয় যে তা সমর্থনযোগ্য এ যুদ্ধ আগ্রাসনের , ক্ষমতা প্রদর্শনের । আমি চাই পশ্চিমবঙ্গে আর যাই হোক গুজরাতের সেই রাতগুলো যেন না আসে । পুলিশ প্রসাশন নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন , দলের কথা পরে ভাববেন , অন্তত এখন নিজেদের পরিবারের কথা ভাবুন । মনে রাখবেন সাম্প্রদায়িকতার আগুন একবার জ্বললে তা কাওকে ছাড়বে না । কারণ সাম্প্রদায়িকতা দল বোঝে না তা যতই দলের কারনে শুরু হোক ধ্বংস করে সাধারন প্রান । ১৯৪৬,১৯৪৮,১৯৬৯,১৯৮০,১৯৮৪,১৯৮৯,১৯৯০,২০০২,২০১৩ ইত্যাদি আরও কত সাল ইতিহাসে আছে , আর নতুন সংযোজন না ঘটাই মঙ্গলের , ঘটলে কলঙ্কের ।


Source - Internet

এ পোড়া দেশে আর কবার বন্ধ কামরায়
আগুন দিয়ে , আগুন দিয়ে , আগুন দিয়ে যাবে
এ পোড়া দেশে আর কজন পুড়বে পেট্রলে
-       সুবোধ সরকার

No comments:

Post a Comment

I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..