![]() |
| Source - Internet |
বর্ধমানের বাবুরবাগে আমার বাড়ি । একথা বললেই আশা
করি যথেষ্ট বলা হল । “এককমাত্রা”য় একবার লেখা হয়েছিল আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত
পত্রিকা “বিবক্ষিত”র আলোচনা প্রসঙ্গে যে “বর্ধমানের প্রত্যন্ত অঞ্চল চন্ডীতলা । এই
অঞ্চলটি বাবুরবাগের কাছে , কলকাতার পাঠকদের কাছে পত্রিকা ও অঞ্চলের নাম অপরিচিত ।”
কিন্তু এক ধাক্কায় যে সারা ভারতে এই নাম এইভাবে বিখ্যাত (কিংবা কুখ্যাত) হয়ে যাবে
তা কোনও কল্পনাতেও ছিল না । এলাকাটার আরও একটু পরিচয় দিই । এই এলাকার উত্তর
পশ্চিমে খাগড়াগড় ও অন্যান্য পুরো বিস্তৃত এলাকা যা আমার বাড়ি থেকে মিনিট ২ এর রাস্তা
ও মুসলিম অধ্যুষিত, উত্তরে নজরুলপল্লী মুসলিম এলাকা , পূর্বে বাতানপাড়া মুসলিম
এলাকা , পশ্চিম ও দক্ষিনে বাবুরবাগ কালিতলার একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ মুসলিম এলাকা ।
প্রত্যেকটি এলাকা আমার বাড়ি থেকে ১ থেকে ২ মিনিটের মধ্যে পড়ে । অর্থাৎ আমি
চতুর্দিকে মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিবেশীদের ঠিক মাঝখানে থাকি , ভীষন শান্তিতে ও
মেলবন্ধনে থাকি যা ছেলেবেলা থেকে আমি দেখে আসছি । (মুসলিম অধ্যুষিত ও কিভাবে থাকি
- কেন বললাম তা একটু পর বোঝা যাবে ।) আচমকা দূর্গাপুরে থাকতে খবর পেলাম বিস্ফোরণের ।
তারপর থেকে আজ অব্দি যা হচ্ছে তা সকলেই জানেন । একটি বিশেষ কাজে সেদিন পুলিশ
স্টেশনে গেছিলাম এস পি সাহেবের সাথে দেখা করতে কিন্তু সেখানে কিভাবে দেখা হবে
জিজ্ঞেস করতেই যেভাবে উত্তর পেলাম তাতে তাদের আশঙ্কা ও উদ্বেগের স্পষ্ট ধারণা পাওয়া
সহজ ।
এ বিষয় নিয়ে মিডিয়া যা তথ্য দেবার দিচ্ছে , আমার
পক্ষে এর বেশী যেটুকু জানা সম্ভব তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয় । আমার দুশ্চিন্তার
কারণ একটু অন্য । তবে সেটা একটু তৃণমূল ঘেষা শোনাতে পারে । বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে
ভোটের রাজনীতির অত্যন্ত স্পষ্ট রূপ হল আলাদা আলাদা সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাঙ্ক ।
সেখানে বিজেপি এখন বিধানসভা দখলের লড়াইতে নেমেছে যদিও তাদের সংগঠন তেমন জোরালো নয়
এই মূহূর্তে । তবে কেন্দ্রে তাদের সরকার যাওয়াতে জোর খানিকটা বেড়েছে তাদের ।
সুতরাং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক যারা গুজরাতের সম্পর্কে সামান্য হলেও অবগত তাঁদের ভোট
অন্যদিকে যাওয়া দুষ্কর । ফলে সেটা ভাঙা ও সমগ্র হিন্দু ভোট যা তৃণমূল সিপিএম ও
কংগ্রেসে বিভক্ত তাকে যদি একত্রিত করা যায় তবে বিজেপির সুবিধা ১৫ আনা। অন্যদিকে
তৃণমূল যেভাবে সংখ্যালঘু তোষণ করেছেন বলে হিন্দুরা ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুটছেন
সেকথা বিজেপির অজানা নয় । আরও একটা বিষয় মিডিয়ার মাধ্যমে এসেছে যে সীমান্তে
পাকিস্তানের ভারতীয় জনগণ ও সেনার ওপর আক্রমণ এবং ঈদের মিষ্টি ফেরত দেওয়া । ফলে
সেখানে ভারতীয়রা জবাব দিয়েছে এবং একজন বিখ্যাত বিজেপি নেতা(উনি মন্ত্রীও না !)
বলেছেন , “উনকো সমঝনা চাহিয়ে কি ভারত মে জমানা বদল গয়া” । এর
মধ্যে হঠাৎ করে পূর্ব অভিজ্ঞতার মধ্যে প্রায় না থাকা এমন একপ্রকার ঘটনা হিসেবে
বর্ধমানের বিস্ফোরণে ইউসুফ শাকিল প্রভৃতি নাম ও সঙ্গে তৃণমূল এর নাম যেভাবে খবরে
আসছে তা পরিস্থিতিকে সন্দেহজনক করছে । ফলে সব মিলিয়ে অর্থ যা দাঁড়ায় তা বেশ
দুশ্চিন্তার ।
![]() |
| Source - Internet |
মিডিয়া যা প্রচার করছে তা দেখেই জনগণ সবজান্তা হন
। মিডিয়ার চরিত্র নিয়ে দু চার কথা নোয়াম চমস্কির থেকে ধার করব । তিনি তাঁর “গনমাধ্যমের
চরিত্র” গ্রন্থে বলেছেন যে , কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হলে আগে
তারজন্য জনগনের স্বীকৃতির দরকার হয় । যেমন ভিয়েতনাম আক্রমনের জন্য বলা হয়েছিল
অন্যের হাত থেকে দেশটাকে রক্ষা করার জন্যই এই ব্যবস্থা । একইভাবে জার্মানের
ক্ষেত্রেও হলোকাস্টের সময় একই প্রচার করা হয় । সুতরাং যে যাই করুক সেটা যে ঠিক
করছে তারজন্য দরকার হয় গণস্বীকৃতির আর সেটা তৈরী করতে হয় । মতামত তৈরির হাজারটা
কৌশল এখন সকলের জানা । মোহক ভ্যালি ফর্মূলা তাদের একটা । একাজে মিডিয়া সব থেকে বড়
ভূমিকা পালন করে । গুজরাটেও কি তাই হয়নি ? পশ্চিমবঙ্গেও
কি তা হবার তোড়জোড় শুরু হয়েছে নাকি ? বুক ঠুকে সেই সম্ভবনাকে “না” কেউ বলতে পারেন
কি ?
![]() |
| Source - Internet |
যে ভাবে আমার প্রতিবেশী জনগণ কথা বলছেন , আমার শ্রদ্ধেয়
অধ্যাপকগন যেভাবে কথা বলছেন , যেভাবে হিন্দুরা মুসলিম ভাইদের দেখলেই জঙ্গী বলে মনে
ভুল ধারণা করে ফেলছেন তা দুশ্চিন্তার কারণ । আর এই ব্যাপারকে আর আর এস এস কিংবা
বিজেপি যে কাজে লাগাবে না তা বলি কিভাবে ? এরমধ্যে আবার অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে
একদফা কাজের নমুনা দিয়ে গেছেন , এই ভদ্রলোকের পরিচয় নতুন করে দেবার প্রয়োজন নেই আশা
করি । আমি স্রেফ চাই আমার প্রতিবেশীরা যেন
আমাদের একসঙ্গে দীর্ঘদিন কাটিয়ে আসা অতীতের দিনগুলো ভুলে না যান তা যে পরিস্থিতিই
আসুক না কেন , যে অবস্থাই প্রচার করে তৈরী করা হোক না কেন । আমি বিশ্বাস করতে চাই
বিস্ফোরণের প্রচার ও তদন্ত সঠিক ও সত্য পথেই চলছে , পাকিস্তান যা করেছেন তা যেন
অচিরেই বন্ধ করে শান্তির পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনেন , ভারত সরকারও যেন এ ব্যাপারে
সহনশীল হন , কেননা যুদ্ধ কোনোমতেই কাম্য নয় । এ কোনও ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বিরুদ্ধে
মানবতার পক্ষের যুদ্ধ নয় যে তা সমর্থনযোগ্য । এ
যুদ্ধ আগ্রাসনের , ক্ষমতা প্রদর্শনের । আমি চাই পশ্চিমবঙ্গে আর যাই হোক গুজরাতের
সেই রাতগুলো যেন না আসে । পুলিশ প্রসাশন নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন , দলের কথা পরে
ভাববেন , অন্তত এখন নিজেদের পরিবারের কথা ভাবুন । মনে রাখবেন সাম্প্রদায়িকতার আগুন
একবার জ্বললে তা কাওকে ছাড়বে না । কারণ সাম্প্রদায়িকতা দল বোঝে না তা যতই দলের
কারনে শুরু হোক ধ্বংস করে সাধারন প্রান । ১৯৪৬,১৯৪৮,১৯৬৯,১৯৮০,১৯৮৪,১৯৮৯,১৯৯০,২০০২,২০১৩
ইত্যাদি আরও কত সাল ইতিহাসে আছে , আর নতুন সংযোজন না ঘটাই মঙ্গলের , ঘটলে কলঙ্কের
।
![]() |
| Source - Internet |
“ এ পোড়া দেশে আর কবার বন্ধ কামরায়
আগুন দিয়ে , আগুন দিয়ে , আগুন দিয়ে
যাবে
এ পোড়া দেশে আর কজন পুড়বে পেট্রলে ”
-
সুবোধ সরকার




No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..