খুব সাধারণ একটা কথা দিয়ে শুরু করি । আমার ছেলেবেলায় , আমি দেখেছি
রাত্রি ১১টার পর বাড়ির মূল দরজায় তালা পড়ে যেত । তারপর , যেকোনো
কারণেই আর সে দরজা খোলা হত না , অবশ্যি বিপদ-আপদ না হলে ।
আমি নিজে বেশ কিছুবার নানা অজুহাতে দরজা খোলাবার চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন সুফল
হয়নি । প্রথমে আমাকে বোঝানো হত যে , যে প্রয়োজনের তাগিদে আমি
দরজা খুলতে চাইছি সেটা পরদিন মেটালেও তেমন কিছু ক্ষতি হবে না । আমি নিজে জানতাম
কথাটা সত্যি কিন্তু ছেলেমানুষী হলেই বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য দরজা না খোলা
ব্যাপারটা আমার বোধগম্য হত না । পরে আমাকে যখন বুঝিয়েও হয়নি , দরজা খোলার জন্য বাড়ির মানুষদের কি বিশাল পরিশ্রম করতে হবে সারাদিনের
হাড়ভাঙা খাটুনির পর , সেকথা আমায় বলে আমার emotional করে শান্ত করা হয়েছিল বেশ কয়েকবার । পরবর্তী সময়ে যখন তাও কাজে আসেনি তখন
আমায় বকাবকি (কিছু ক্ষেত্রে দুচার ঘা পিঠেও পড়েছিল) করে থামানো হয়েছিল । কিন্তু আজ
আমি ১১টা কিংবা ২টো যেকোনো সময়েই দরজা খুলতে পারি । প্রশ্নটা হল তখন কেন পারিনি ?
পারে না , অনেকেই পারে না , আমিও পারিনি ।
আজ দরজা আর প্রয়োজন দুটোই বদলে গেছে । তালা আর অভিভাবক সেই একই আছে ।
না ! আমি আজও পারছি না । আমার সমাজব্যবস্থা আমার প্রয়োজনগুলোকে নিজের মতো করে
পাল্টে নিচ্ছে অথচ আমি কিছুই করতে পারছি না । আমার সময় আমাকে বুঝিয়ে চলেছে । আমি
অস্বীকার করেছি , তাই আমার ওপর এনেছে এমন এক অস্ত্র আমি ফিরে গেছি । সাহস জোটাতে পারিনি
এখনও । আদৌ পারব কিনা তা জানা নেই ।
মনে আছে মায়াকভস্কির কথা । লেনিন অব্দি পারেননি তাঁর আত্মহত্যা আটকাতে
। আমরা বাধ্য হই । আজীবন আমাদের এভাবেই মেরে ফেলতে হয় নিজেদের । আজকের দিনে আমাদের
পড়াশুনা হয়ে গেছে আমাদের অর্থ-উপার্জনের উপায় , ইচ্ছেযাপনের (খেলা , লেখা , আঁকা , গান , বেড়ানো ইত্যাদি যাই হোক না কেন) জন্য প্রথমে আমাদের নিশ্চিত করতে হয়
অন্নসংস্থানের মাধ্যম । আমাদের ইচ্ছে ভাললাগা আর ভালবাসা ক্রমশ শেষ হয়ে যাচ্ছে অথচ
আমরা কিছুই করতে পারছি না । এ কি ধরনের বেঁচে থাকা ?
দেশ সমাজতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছালেও মনে তৃপ্তি আসেনি মায়াকভস্কির
কেননা তিনি প্রায় প্রতিমূহুর্তে লাঞ্ছিত হচ্ছিলেন তার চারপাশের দ্বারা । শুনতে
হচ্ছিল নানা খোঁটা । কেন চারপাশ এরকম হল ? ছেলেবেলায় আমি যেমন পারিনি কথা বলতে আর এই
নিয়মের প্রথা ধীরে ধীরে আমার প্রবৃত্তি তৈরী করে দিয়েছিল তেমনই আজও একটা প্রবৃত্তি
তৈরী হচ্ছে । আমি যাকে বলি ভয় । আমরা সকলেই জানি কোনও আরোপিত নিয়ম বছরের পর বছর
মেনে চললে কয়েক প্রজন্ম পর সেটাই স্বাভাবিক পালনীয় হয়ে দাঁড়ায় । আমাদের দেশেও
প্রতিবাদ না করাটাই স্বাভাবিক পালনীয় কর্তব্য হয়ে গেছে । এখন মানুষ প্রতিবাদ করে
নিজের স্বার্থরক্ষার তাগিদে বৃহত্তর স্বার্থ সেখানে আর অবশিষ্ট নেই । দেশের
সামাজিক অবনমনের এও এক কারণ বৈকি । আর আমি যখন এই সমাজব্যবস্থার একজন সুতরাং আমিও পচে যাব একদিন । আমি একা
নই , তুমিও
, তোমরা সবাই ।

Khubi valo
ReplyDeleteDrops of water make the ocean.
ReplyDeleteSimilarly, if you want to bring a change, you have to start with yourself. You have to be the CHANGE. You have to learn to curb your fear in whatever little ways you can.
Remember: one small step for a man was one big leap for the mankind, when Neil Armstrong stepped on the moon.