Sunday, 18 May 2014

A sort of spiritual masturbation ...




পৃথিবীর বাধা – এই দেহের ব্যাঘাতে
হৃদয়ে বেদনা জমে ; - স্বপনের হাতে
আমি তাই
আমারে তুলিয়া দিতে চাই !

গতবার ঘাটশিলা ঘুরতে গিয়ে বুরুদিহি থেকে ফেরার পথে এক আদিবাসী রমনীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষন সময় কাটিয়েছিলাম । ওরা রাস্তা তৈরির কাজ করে , আমাদের সভ্যতার রথ চলবার পথ । কিন্তু তারপর কেউ কি ওদের মনে রাখে , কেউ রেখেছে কোনোদিন । না ! রাখেনি , আর রাখবেও না । তাই আমি একটা ছবি তুলিয়েছিলাম রাজেন্দ্রকে দিয়ে । তারপর ঐ রমনীকে বলেছিলাম শহরে গেছো কখনও , একদিন এসে দেখে যাও আমাদের জায়গা । ও কেমন একটা মুখ করে বলেছিল , “ও তুদের শহর উখানে যাব লাই । উখানে আকাশ লাই মাটি লাই গাছ লাই কিবল পাথুর আছে , উখানে যাব লাই , উখানে গেলে বুকে বড় বিথা হয় ” । তোলা ছবিটা আমার গালে সপাট থাপ্পরের মত বেজেছিল । কয়েকমাস আগে এই ব্লগেই লিখেছিলাম বিচ্ছিন্নতার কথা অনেক বড় বড় বুকনির মিশেল দিয়ে অথচ সেই তত্বগত শর্তে না গিয়েও সত্যটা কত সহজে আমাকে জানিয়ে দিল ঐ মেয়ে । একটা ধাক্কা , সত্যিই তো কি আছে আমাদের শহরে ?

আছে আছে সব আছে । মোটর ট্র্যাক বাস আছে , ইট কাঠ পাথর কংক্রিটের দালান আছে , পলিস রাস্তাঘাট আছে , সিনেমাহল খেলার মাঠ রাস্তাঘাটে দূর্ঘটনা আছে , দাঙ্গা স্ট্রাইক মারামারি আছে , রেসের ময়দান আছে , মেলা বারোয়ারি পূজার হট্টগোল আছে , ক্লাব হোটেলে মদ আছে , বাজারে বাসে ট্রামে ভিড়ের সঙ্গে তর্কাতর্কি আছে , সব আছে । ‘দেবালয় থেকে বিদ্যালয় , বিদ্যালয় থেকে বিধানসভা  , বিধানসভা থেকে কর্পোরেশন , কর্পোরেশন থেকে স্থানীয় অ্যাসোসিয়েশন ও বিদ্বতসভা আছে’ , খবরের কাগজ আছে , বাস পোড়ানো  থেকে ময়নাতদন্তের দিস্তে দিস্তে কাগজ আছে , মন্ত্রীদের কারচুপি আছে , অভ্যস্ত রোম্যান্সের জন্য ভিক্টোরিয়া হোটেল মোটেল প্রিন্সেপের নৌকা আছে , গাদা গাদা লোকের শুয়ে থাকার ফুটপাথ আছে , পুলিশের ঘুষ আছে , মানুষের সঙ্গে কথা বলার ফোন আছে ফেসবুক আছে ইত্যাদি সব আছে । তাহলে ও মিথ্যেই বলেছিল ।

কিন্তু এখানে কেবল একটা জিনিস নেই । শুধু মাত্র মানুষ নেই , যারা আছে তারা প্লাস্টিকের চাবি দেওয়া যন্ত্র । সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ব্যাগ হাতে ব্যাস্ততা দিয়ে শুরু করে আর তারপর তা শেষ হয় পরদিন ব্যাস্ততার জন্য রিচার্জের বিছানায় । মাঝখানে পড়ে থাকে অ্যাকসিডেন্টে আহত মানুষের দেহ অথচ তাকে দেখার সময় আমাদের নেই । আজ থেকে বহু বছর পর যখন আমরা মহেঞ্জদড়ো হয়ে যাব সেদিনের ঐতিহাসিক কি বলে ডাকবে আমাদের ? একটি একাকিত্বের সভ্যতার যুগের মানুষ । আসলে আমাদের মন নেই আর হৃদয় হয়েছে পরিত্যক্ত । আমরা সব কিছুই নিই কিন্তু গ্রহন করি না । আমরা মেনে নিতে শিখে গেছি । যা কিছু আমাদের পাবার কথা ছিল আজ সেইসব না পেয়েও মানিয়ে নিতে শিখে গেছি । না হলেও চলবে এমন একটা অবস্থা । ভাসিয়ে রেখেছি নিজেদের এক নোংরা বিলাসিতার ককটেলে । কোনোদিন হয়তো অক্সিজেন না হলেও চলে যাবে । অনুভূতি নেই , স্নায়ুগুলো ট্রাফিকের ধাক্কায় অচল হয়ে গেছে । নইলে আজকের খবরের ইস্যু নিয়ে তুমুল ঢেউ উঠলেও কিকরে তার সমাধান হবার আগেই আমরা তাকে কাল ভুলে যাই , আর এভাবে ভুলে যেতে যেতে অপরাধের পাহাড় জমে গেছে । নেশখোর যখন সব কিছুকেই সহ্য করতে শিখে ফেলে তখন তাকে সাপের বিষ নিতে হয় । আমাদের দশাও তাই । একটা আকাশ ছাড়া উদ্ভিদ ছাড়া বৃষ্টিতে অকারন মাঠের ওপর শুয়ে থাকা ছাড়া সখ্যতা ভালবাসা ছাড়া বন্ধুত্ব ছাড়া প্রেম ছাড়া আমরা বাঁচতে শিখে গেছি তাই আমরা আর বেঁচে নেই । তাই সন্ধ্যেবেলা অবকাশ হয়েছে মদ আর ক্লাবে মেয়েদের নাচানাচি কিংবা সিরিয়ালের বাসি কন্ডমে মুখ গুজে পড়ে থাকা । কোথাও নারী নেই পুরুষ নেই । সব্বাই ওয়েদারপ্রুফ , টাচপ্রুফ ও বিকর্ষক । স্টিম রোলারে পিষ্ট রক্তমাংসের ডেলা । আকাশ ঢেকে গেছে তারে , বাতাসে মিশেছে পেট্রলের ধোঁয়া , উদ্ভিদ হয়েছে টবে বদ্ধ । সকাল থেকে রাত অব্দি পায়ের তলায় আমরা মাটি ছোঁয়াই না , মুখ তুলে দেখিনা ভোরের সূর্য , প্রেমিকার হাত ধরে বলতে পারি না ভালবাসি , বন্ধুর বাড়িতে আচমকা চলে যাবার আগে ফোনে খবর দিতে হয় । তাহলে বলুন তো কিকরে উদার হব আমরা । কিকরে বেঁচে থাকব ? 

একটি অতিকায়ত্ব ও শক্তির ঔদ্ধত্য , স্থূলত্ব জড়পিন্ডত্ব নিয়েই আমাদের মুখ গুজে পড়ে থাকা । এই গনতন্ত্রে অপরাধীরা রেস্পেক্টিবল আর রেস্পেক্টিবলরাও অপরাধ করতে কুন্ঠিত নয় । অথচ কেউ কোনও কথা বলছি না । তাহলে কোন দলবদ্ধ অভ্যর্থনায় ঐ আদিবাসীনিকে আসতে বলি এখানে , তার চেয়ে বরং আমার ওখানে চলে যাওয়া ভাল । এই সভ্যতা আমার মাকে হত্যা করতে শেখায় এই সভ্যতা আমার বোনের ওপর হওয়া ধর্ষন কে ধামাচাপা দিতে শেখায় এই সভ্যতা উদব্যাস্ত করে বিশ্বব্যাপি পাগলাগারদকে মস্তিষ্কে ধারন করার জন্যে । আগেকার দিনেও সমাজে দৈত্য ছিল এখনও আছে কিন্তু তখন দৈত্যদেরও সমাজচেতনা আর একটা সামান্য হলেও মন ছিল কিন্তু এখন সব মানুষের কথা হল ‘সব ওলট পালট করে দাও , লুটে পুটে খাই।’ কিন্তু কজন আর লুটে পুটে খাচ্ছে , অথচ যে কজন খাচ্ছে তাদের দেখেই আমরা অস ধান্দাবাজ ভন্ড জোচ্চোর হচ্ছি এই আশায় যে আমরাও লুটে পুটে খেতে পারব আর সেই প্রভাবে গোটা সমাজ ব্যাধিগ্রস্ত । অবস্থার মানুষের দাস হবার কথা ছিল , সেজন্যই এত প্রযুক্তি , কিন্তু দেখো মানুষই অবস্থার দাস হয়ে গেছে । উফঃ আর তো পারা যাচ্ছে না । এর নাম যদি নাগরিক সভ্যতা হয় তাহলে অসভ্যতা কি ঐ আদিবাসী রমণীর খোলা বুকের মধ্যে রয়েছে ? 

এলিয়ট ঠিকই বলেছিলেন ,

Yet we have gone on living
Living and partly living .

No comments:

Post a Comment

I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..