। ২।
পাহাড়
যে ওখানে উঠেছে, তার নীচে
প্রাণ ছিল ।
জলরাশি
বইতো ওখানে
তার
মধ্যে আমি বইতাম
শান্ত মাছ ।
পাহাড়ের নীচের পাথরে
আজো আছে
আমার
পল্লবহীন চোখের একদৃষ্টে চেয়ে থাকা...
খোঁড়ো
দেখে
নাও ।
-
জয় গোস্বামী
ভালোবাসা অতিদানবিক রকমের প্রিয় । যারা চলে গেছে,
যারা আর ফিরে আসবে না, তাদের সকলের স্পর্শ আর গন্ধ মেখে হাত পা ছড়িয়ে বসে থাকা আরও
ভয়াবহ রকমের প্রিয় । আমাদের শহরে একটা দীঘি আছে । কালো জল তার শরীর ঢেকে রাখে ।
বসন্তের শত কুহু অথবা নীল আকাশে রক্তকিংশুকের উঁকি, কোনকিছুই যেন তার শরীরে উষ্ণতা
জাগায় না । সে দীঘির পাড়ে আছে সবুজ ঘাসের চাদর । ঘিরে রাখে যেন । কাকে ? কে জানে !
দীঘিকে বোধহয়, নাকি তার গভীর কালো জলে ডুবে থাকা রঙিন কিচিরমিচির শব্দকে । কে জানে
? এসব প্রশ্ন প্রায়ই আসে, দীঘির পাড়ে বসলে শুধু কথার বুদবুদি কাটে । এরই মধ্যে যদি
এক অচেনা নারী আঙুল স্পর্শ করে পাশে এসে বসে । শরীরে মাখে বকুল ফুলের গন্ধ, কানে
ঝোলায় দেবদারু গাছের দুল, আমি সত্যি বলছি যারা চলে গেছে, যারা আর ফিরে আসবে না,
তাদের সব্বার কথা শিকেয় তুলে আমি নগ্ন পায়ে উঠে যাব । পশ্চিমপারের সূর্য টেনে
পুবদিগন্তে আছড়ে ফেলব । সমস্ত অভিসম্পাতদুষ্ট ঘুমের আড়মোড়া ছেড়ে সেই নারীর বল্কল
গায়ে মাখব আর দুহাতে তার কোমর জড়িয়ে ধরে তুলে নেব আকাশে । চিৎকার করে বলব ভালবাসা
আমার আগ্নেয়গিরি রকমের প্রিয় ।
![]() |
| গুঁড়ো গুঁড়ো আলো যার |
আজীবনের জমিয়ে রাখা গাঁটরি, বস্তার জঞ্জাল ছুঁড়ে
ফেলে দিগন্তসীমায় চলে যাব । ওঃ ! নারী কত মুগ্ধতায় তুমি অবশ করতে পার, আমি
প্রতিবার তোমার অমোঘ স্রোতে ভেসে যেতে পারি । তারপর নৈব নৈব চ । হেঁকে যাওয়া
ফেরিওয়ালার সাথে চা-গল্প জুড়ি । এই হাঁ-করে থাকা পৃথিবীর অন্তরে যত্ত উপমা আছে,
অলংকার আছে সমস্ত ওই দীঘির জন্য রেখে আসি । জানি যারা চলে গেছে, যারা আর ফিরে আসবে
না, তাদের সকলের গন্ধ আর স্পর্শ ওই গভীর কালো জলের ভেতরে আমাকে ক্রমাগত নিয়ে যাবে
। আমি এভাবেই তাদের ছুঁয়ে যাব আরেকবার । ভালবেসে ফেলব আরেকবার । চিঠিপত্র, চিরকূট
সব উড়িয়ে দিয়ে তাদের ঠোঁটটুকু মেখে নেব বুকের রেখায় । কপালে জ্বর থাকলেও ধীরে ধীরে
আমি নেমে যাব জলে । প্রহর কেটে যাবে । শুধু এক পোক্ত আভায় নিঃশ্বাস ফেলে যাওয়া
ছাড়া আর কিইবা আছে এই কাব্যলোকে ।

No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..