Sunday, 5 April 2020

শিরোনামহীন প্রলাপগুলো, তোমার আমার পংক্তিতে থাকে বাঁশি ও একটি অশেষ জ্যোৎস্নামগ্ন মহুয়া রাত্রি


“অমিল পয়ার ছন্দে রচিত বসন্তকাল শেষ হয়ে এল ।
পথের উপরে আজ দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ দেখলাম চারিপাশে মাঠ
কালো কালো ধান গাছে ঢাকা আছে, এইসব সমুদ্রিত ধানগাছগুলি
আমার এ জীবনের বসন্তের অভিজ্ঞতা ।”
-        বিনয় মজুমদার


বিকেলের রঙ হয় নীল । শাদা পায়রা উড়ে যায়, উঠোনজোড়া শস্য – কী থাকে তার রক্তবায়ুতে । শিথিল হয় গ্লানিচক্র । ক্লান্ত পথিকের চাওয়া এক আঁজলা জল যেমন । সদ্য কুমারির প্রথম ঋতুর পরে প্রশ্নচক্ষুর স্থির যেমন । নিহিত শব্দের মধ্যে ভালবাসার নারীর টান যেমন । তেমন আর কিছুই না । দু-একটা পংক্তি, ব্যাস আর কী !

কলকাতা শহর যেন লিমেরিক । কোনও এক হলুদ বিকেলে এসো, বেরোব । ভিক্টোরিয়া, সরোবর কিংবা সদন নয়, এমন এক জায়গা খুঁজে নেব যেখানে সহস্র ভিড়েও আমি আর তুমি হারিয়ে যাব না, হাতের স্পর্শ-উষ্ণতা-আর্দ্রতা থেকে যাবে হাতের ভিতরেই। যাকে বয়ে আনা যায় । বুকে করে রাত্রিজুড়ে আদর করা যায় । কিছু গাঢ় শ্বাস ও মৃদু আলোর মধ্যে বারেবারে জড়িয়ে রাখা যায় ।

পাহাড়চূড়ায় সেদিন যেমন করে অন্ধকার নামল । তুমি কি ভীষণ ভয়ই না পেয়েছিলে ! স্রোতের শব্দে বলেছিলে বাঁশি বেজেছিল । নিভৃত তন্দ্রায় তোমার চিবুকে নেমেছিল চাঁদের ছায়া । পাথরের ওপরে এসো, বসি কিছুক্ষণ । তারপর ... চলে কি যেতেই হবে, আরেকটু থেকে গেলে হত না...

কথাগুলো কী কঠিন বড্ড । ভালোবাসাও তো সোজা নয় খুব ।

No comments:

Post a Comment

I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..