। ১১ ।
কাঁহাতক বল দেখি, কাঁহাতক ! এরপর তো বাঁচাও
রগুবীর কিংবা নিরুপায়, দেকচেন কান্ডিটা, ওটা নিরূপা রয় হবে, উফঃ, হ্যাঁ তা যা
বলছিলুম, এরপর তো বাঁচাও রগুবীর কিংবা নিরূপা রয়ের মত আলুথালু বসনে ঠাউর দালানে
কোমাগত মাথা কুটতে হবে, চাদ্দিক ঝড়-বাদলায় ভেসে যাবে, অনর্গল ঘন্টা বাজবে মন্দির
কাঁপিয়ে, তবেই বোধয় একখান উপায় হবে এই করোনা নামক নতুন পেরেম চোপারিয়ার । ‘অমিতাচ্চন’
উঠবেন, কপালে রক্তের পলেস্তারা খসবে একটুকুন, ঢুলুঢুলু চোখ, কম্পিত অধর থেকে
বেরিয়ে আসবে দুর্নিবার গজ্জন, তারপরে কয়েকটা ঢিসুম, কয়েকটা ঢাসুম, করোনার মাসুম টাক
ফেটে তরমুজ, তবেই মুক্তি । নয়তো কি ! এভাবে চলে । বলি কদ্দিন, অ্যাঁ, কদ্দিন এরকম
এপাশ উল্টে – ওপাশ উল্টে – উবু হয়ে – জাঙের মশা মেরে - থুতনিতে ভাবালু তিলের রংবদল
খেলা দেখে - পেছন চুলকে, বলি আর কদ্দিন চলবে । কে, কে বটে ? পাশ থেকে কে হাসল যেন,
বলি কে তুই ? আহা! বঙ্গালি ল্যাদ হায় ! মানতা হ্যায়, সহি হ্যায় । লেকিন ইতনা তো
নাহি সয়তা বাপু ।
এরপর তো গুগলের সার্ভার বসে যাবে, ও বড়দা । আমার-আপনার
নয় স্বয়ং পিচাইদার চাকরি নিয়ে টানাটানি, তকন । আবার জ্ঞানের দ্রোপদীয় বস্ত্রহরণ
করে, আরে না রে ভাই, ইকোনমিক ডিপ্রেসন নয়, এ যে ফাটা কলসী ফুটো হাঁড়ি, রাগ করে বউ
বাপের বাড়ি - বাঙালি পোতিভার ওভারডোজে গুগুলাকাশে কালোমেঘের পাহাড়, তারে তারে
টানাটানি-ঘষাঘষি-কানাকানি-ফাঁসাফাঁসি-কবতে-লেখালেখি-আঁকাছবি-গান-রান্নাবান্না-তেলচিটে
কড়ার পেছন ধুতে ধুতে কাহিল কপালঘামের সুনামি- উফ এক নিঃশেষে বলে যাওয়া চাট্টিখানি
কথা- সব গিয়ে আছাড় দেবে যে দাদা, সেইটে কি
ভেবে দেকা হয়েচে ! নাকি কেবল পাশের বাড়ির ছাদে
কাপড় মেলা আর শুকনো কাপড়ের আড়ালে ভিজিয়ে ফেলা নুলো চকচক আর মসমস, দ্রুত নাড়ি, আর সর্বশেষ
অধ্যায়ে বাথরুমে আহ ওহ আহা । ব্যাস । তারপর ইয়া গচ্ছ গুহা গচ্ছ উহা পাচ্ছ কী
হারাচ্ছ, সেইটেও যেন দেকে রাখা হয় মশাই !
![]() |
| ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে ctrl c + ctrl v |
একমাস হয়েছে কি হয়নি তোমরা কিনা টাচস্কিনে ফোঁসকা
ফেলে দিলে । ব্যাটাকে টিপেটাপে ব্যাটার মান ইজ্জতের সাড়ে বত্রিশভাজা । ওই যে কি নাম যেন,
হ্যাঁ মার্কামারা জুকারবাগ, ওই ছোড়াকে পাকড়াও । আমগাছে আম নেই জামগাছে জাম- ওই
বেটা বলে কিনা জিওর কি এমন দাম ! নাহ, তবে বলে লাভ নেই । ভয়েস চেঞ্জ হয়ে গেলে তখন
আরেক বিপদ । ন্যারেশনের লোক পাওয়া যাবে না । এই বাজারে যদি হাত পাও ভাঙে, তবুও
মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর লিখে টাঁসিয়ে দেবে । ব্যাটাগুলো যা খচে আছে না, কি আর বলব
। তাও বলি । জেনেছি ফাঁকফোকরে । আরেহ! বাপ মা জানত না, পতিবেশি খচ্চর কীকরে জানবে,
পেটে পেটে অ্যাতদ্দুর । যে কিনা ঢেঁড়স চিনত না সে বানাচ্চে তন্দুর ঢেঁড়স । যে কিনা
স্কুলে মুকুন্দ মাস্টার শান্তিনিকেতনি চলন বলনে বাংলা পড়াত বলে তার নামে ছড়া কাটত
তালতোবড়া বেগুনপোড়া, হাড় হাভাতে ঘাটের মড়া- সেও কিনা ইয়া ঢাউস ঢাউস কবিতা লিকচে-
লাইকের বন্যা বইয়ে দিচ্চে । যে কিনা গান বলতে বোঝে অজ্ঞান, সেও গেয়ে দিলে
রবীন্দোসঙ্গীত । এসব কি হত, লকডাউন না হলে । এই অ্যা-অ্যা অ্যাত্তো সিজনিশক্তির
বাহারি পোকাশজ্যোতির আহারি শোভা । লকডাউনে আমাদের প্রাপ্তি শুধুই পোতিভার ঢল, করে
টলো-মল, ওই দেখো আমাশা নয়, অন্যটা অন্যটা।
আমি শুদু ভাবচি, যে ব্যাটাগুলো কিস্যু পারে না ।
ওগুলো কী করছে ? না, ওদের জন্য হতাশা, ইনফিরিওরিটি কম্পপ্লেক্স নয়- ওদের জন্য আছে
সেরা কাজ- নেটফ্লিক্স-অ্যামাজনের ঝিঙ্কু । মনের সুখে সিগারেট ফোঁকে – হাতের ছাল
ওঠায়, বাকি সময় বাকিদের পোতিভা দেখে ট্যারটেরিয়ে হাসে- মন খুলে খিস্তায় । মন দেয় ডিজিটাল
পর্দায় । আর প্রার্থনা করে, ইতনা সুখ সহে জায়ে বাস, ইতনি সি হ্যায় আরজু, লকডাউন
থেকে যাক এ জীবন খাস, সাব্বাস সাব্বাস !
(হঠাৎ মেঘগর্জন, কন্ঠস্বর...)
তা বলি তুমি এটা কী করছ ! পোতিভের শো কেসিং নয়
বলচ । খালি অন্যের বিকিকিনি দেখলে চোখে ন্যাবা জাগে, জয় বাংলা । তা পাগলা, ঝ্যাঁটা
বোঝ – জুতো । বেশ বেশ, বেন্দাবন দেখেছ নিশ্চয় । দেখা হবে নাকি ! দেব নাকি একটা
ফুঁঃ, হিং টিং ছট... পুরো চিতায় তুলে পিতার নাম ভুলিয়ে দেব ।
অগত্যা, আর কী, হরি তুমি রেখো ...

No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..