প্রযুক্তির অভিঘাতে আমরা একুশ শতকে এসে পৌঁছে গিয়েছি এমন সব কল্পনাতীত যাপন পরিসরে যা বদলে দিচ্ছে মানুষের যাবতীয় সম্পর্ককেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভিসার ও সদ্য সদ্য ৫জি প্রযুক্তির প্রচলন আমাদের অস্তিত্বকেই নতুন ভাবে নির্মাণ করছে। বলা হচ্ছে, পরামানব (ট্রান্সহিউম্যান) নামক এমন এক ভবিষ্যৎ সত্তার কথা যা আমাদের নিয়ে যেতে পারে নবতর অস্তিত্বে। এর সামাজিক-অর্থনৈতিক ফলাফল কেমন হতে পারে আর সম্ভাবনা বা বিপন্নতার দিকই বা কী- সেইসব নিয়ে এই ভিডিও।
'ট্রান্সহিউম্যানিজম'- প্রসঙ্গে গত ২৭শে জুন এই ইউটিউব ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল 'শত ফুল' চ্যানেলের তরফে। তারই একটি দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া লিখেছেন নীলকন্ঠ আচার্য।
----------------------------------------------------------------------
কৃত্ৰিম
বুদ্ধিমত্তা, পরামানব, রোবোটিক্স, এডভান্সড অটোমেশন বা
এক কথায় সমসাময়িক চরম উন্নত প্রযুক্তি - যেভাবেই বলা হোক না কেন এসব তো সবসময়ই
শাসক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে উদ্ভাবিত ব্যবহৃত ও পরিচালিত হয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও
হতে চলেছে। সীমাহীন ক্ষমতা ও মুনাফার পারস্পরিক ঔরসে বিভন্ন সময়ে জাত মানব সমাজ ও
প্রকৃতি-পরিবেশ বিরোধী যে-সকল কুৎসিৎ ও নিষ্ঠুর পন্থাগুলি প্রয়োগ করা হয়ে চলেছে
বর্তমান আলোচ্য বিষয়টি তার অন্যতম।
এই অর্থে, কৃত্ৰিম বুদ্ধিমত্তা, ক্ষমতা ও মুনাফা একত্রে একটি ডেভিল সত্বা যা মানব সমাজ ও
প্রকৃতি- পরিবেশের ঘোরতর বিরোধী যার অস্তিত্বের স্থায়ীত্ব তার বিরোধী সত্বার
(মানবজাতি ও প্রকৃতি-পরিবেশ) ক্রমশ ধ্বংসাধনের শর্তে নিহিত। দেশ দখল, উপনিবেশ স্হাপন,
যুদ্ধ, গণহত্যা, 'শিল্প বিপ্লব' ও পরিবেশ ধ্বসের যুগপৎ অভিযান দিয়ে যার যাত্রাপথ শুরু
হয়েছিল সেই যাত্রাপথের ধারাবাহিকতায় শাসকের অন্যতম ম্যানুভারিং/অপকৌশলমূলক
সংযোজনগুলি ছিল 'কল্যানমূলক রাষ্ট্র
পরিকল্পনা, জন্ম নিয়ন্ত্রন- জনসংখ্যা
নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প।
একবিংশ শতাব্দির প্রারম্ভেই প্রযুক্তি, পুঁজি, মুনাফা ও ক্ষমতার
অপরিসীম ও অকল্পনীয় বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীভবনের অনিবার্য তাড়নায় এবার সংযোজিত হতে
চলেছে UBI(Universal Basic Income) প্রকল্প, নতুন নামের আবরণে ভিন্ন ধর্মী উৎপাদন সম্পর্ক ও অর্থনীতি (
গিগ অর্থনীতি, স্টার্ট আপ অর্থনীতি, চুক্তিভিত্তিক স্বল্প ও মাঝারী দৈর্ঘ্যের সরকারি/বেসরকারি
চাকরি বা কাজ) এবং যার তাড়িত অভিমুখ হল ওয়ান ওয়ার্ল্ড ও ওয়ান ওয়ার্ল্ড
অর্ডার। এই যাত্রাপথে এখন ওদের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে আরও সব 'সাহসী' প্রকল্পের যারমধ্যে
অন্যতম হল জনসংখ্যার বিনাশ বা ডিপপুলেশন প্রকল্প। কিভাবে?
ওই, সেই হাতিয়ার -
বিজ্ঞান - প্রযুক্তি (জিন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরামানব) এবং আরও আরও চরম কেন্দ্রীভূত নিষ্ঠুরতম ভয়ংকর
শাসণ পদ্ধতি। এই হল পরিস্থিতির একটি পক্ষ। এবং এর অপর পক্ষ হল শাষিত মানবসমাজ ও
তার প্রকৃতি- পরিবেশ। আজকের অবস্হায় ওদের করায়ত্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরামানব বা জিনপ্রযুক্তি হল ওদের বিপক্ষের হাতিয়ার। ওদের
অস্ত্র। শাষিত মানবসমাজ ওদের আধুনিক প্রযুক্তির 'অবাক করা' ক্ষমতাশক্তির অভিঘাতে অবচেতনে
যেন অভিভূত হয়ে মানসিকভাবে বশীভূত বা অধিনস্হ (mental subjugation) না হয়ে পড়ি। তাহলেই বিপদ।
অর্থাৎ বৌদ্ধিক অবস্হানের বিচারে। এমন অবস্হানের শিকার হয়ে
পড়লে নিজের অজান্তেই ওদের এইধরণের হাতিয়ারগুলোর চরিত্র ব্যাখ্যায় কোথাও যেন
মহিমান্বিত করে ফেলার অযথাযথ অবস্হানের শিকার হয়ে পড়ার বিপদ ঘটতে পারে। তাই
প্রশ্ন এটা নয় যে প্রযুক্তির অভিনবত্বকে কেবল তুলে ধরা বরং প্রশ্ন এটাই যে শাষিত
মানবসমাজ কিভাবে ওদের এই প্রযুক্তির বাধাকে অতিক্রম করবে এবং এই প্রযুক্তির উপর
নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করবে। "শত ফুল"- এর চলমান সার্বিক উদ্যোগ
প্রশংসনীয়। প্রশংসনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবিধ বিষয়ে এর চলমানতার প্রচেষ্টা। এই
প্রচেষ্টা আরও সফলতার সঙ্গে এগিয়ে চলুক।
তাহলে এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য কি ?
আমাদের কর্তব্য হল একদিকে বিষয় উদ্ঘাটন উন্মোচন, 'চতুর্থ শিল্পবিপ্লব যুগের' শাসকের অর্থাৎ পুঁজি, মুনাফা, প্রযুক্তি ও ক্ষমতার একীভুত সত্তা যার অস্তিত্ব মানবসমাজ ও
প্রকৃতি- পরিবেশের ক্রমাগত এবং অবশ্যই আরও দ্রুততর বিনাশের উপরেই নির্ভরশীল, সেই শাসক সত্বার চলমান নানান অপকৌশল অভিসন্ধিগুলির প্রতিহত
ও প্রতিরোধহেতু পথ-পন্হা সম্পর্কে যথাসম্ভব বস্তুনিষ্ঠ আলোকপাতের চেষ্টা করা।
একাজে আরও সংহত হওয়া। বস্তুতঃ সেই প্রয়াস চলছেও। 'শত ফুল' তার অন্যতম প্রক্রিয়া বা
উদ্যোগ বলে আমার মনে হয়। এই উদ্যোগের পাশাপাশি আরও অনেকেই আপোষহীন ও নিরলসভাবে
বিভিন্ন সক্রিয় সংগঠনের ও উদ্যোগের মাধ্যমে লড়াই জারি রেখেছেন। এটা বজায় রাখতেই
হবে।
No comments:
Post a Comment
I am waiting for your valuable comment. Please comment. Thank you..